পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১৯৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাবাজী ঠেটি গটাইয়া বলিলেন, "হঃ ! সে আমি তোমার হাত দেখেই বুঝতে পেরেছি। এ সত্রীর গভে তোমার সন্তান হওয়া একেবারেই অসম্ভব। তবে যদি অন্য বিবাহ কর, তা হ’লে সন্তান আপনিই হবে, তার জন্যে যাগ-যজ্ঞ কিছই করতে হবে না। কিন্তু এ স্ত্রী হতে হবে না। শুধু তাই নয় বাবা, এ স্ত্রীকে তুমি বেশী নাই দিও না।” “কেন বাবা ? নাই দিলেই বা কি অশুভ হবে, না দিলেই বা তার শুভফল কি ?” বাবাজী বলিলেন, “নাই দিলে মাথায় উঠবে। আসল কথা শুনতে চাও ? সে কিন্তু গতজন্মের কথা।” “বেশ ত, বলন না।” “ বেশ ত বলন না’ বললেই হলো না, বাবা! পৰ্ব্বজন্মের কথা—এ সকল গহ্যাতিগুহ্য বিষয়। যাকে তাকে অমনি বললেই হ’ল ? তুমি যদি আমার পা ছয়ে দিব্যি করতে পার যে, আজ আমি/তোমায় যা শোনাব, তুমি নরলোকে কার কাছে তা প্রকাশ করবে না, তবেই তোমায় বলতে পারি। কথাটি যদি তুমি প্রকাশ করে ফেল, তবে তোমার ঘোর অমঙ্গল হবে " নরহরি কয়েক মহত্তে ভাবিল। তাহার পর বাবাজীর পদপশ করিয়া শপথ কাবুল। বাবাজী তখন বলিতে লাগিলেন, “আর জন্মে তুমি মকস দাবাদে নবাব সরকারে চাকরী করতে। অবস্থা তোমার বেশ ভালই ছিল। বড়ো বয়সে সন্ত্রীবিয়োগ হ’লে তুমি দ্বিতীয়বার বিবাহ করেছিলে। এ সত্ৰী ভারী সন্দেরী ছিল। যেমন হয়ে থাকে, তুমি তার অত্যন্ত বশীভূত হয়ে পড়েছিলে; যাকে ঘোর সৈন্ত্রণ বলে, তাই আর কি ! তোমার একটি কুকুর ছিল--ঠিক কুকুর নয়—কুক্করী-তোমার আগেকার স্ত্রী সেই কুকুরটিকে বড়ই ভালবাসতেন। তোমার এই দ্বিতীয় পক্ষটি, সেই জন্যে, কুকুরটিকে মোটেই দেখতে পারতো না। তাকে মারতো, ভাল করে খেতে দিত না। এক দিন সে কুকুরটিকে এক লাথি মেরেছিল, কুকুরটি রাগ না সামলাতে পেরে ঘকি করে তার পায়ে কামড়ে দেয়। এই আর যায় কোথা! বোঁট ত কে’দেই অনর্থ ! তুমি বাড়ী এসে, তাই দেখে, রাগের বশে কুকুরের মাথায় এক লাঠি মেরেছিল, তাতেই তার মৃত্যু হয়। মরবার সময় সে মনে মনে বলেছিল, কার দোষ, বাবা তার কিছই অনুসন্ধান করলেন না, দ্বিতীয় পক্ষের সন্ত্রীর কথা শুনে আমার প্রাণবধ করলেন —এই ভাবতে ভাবতে সে প্রাণত্যাগ করলে। তার পরেই তার আত্মা, কাশীতে বাবা বটুকভৈরবের দরবারে উপস্থিত। বটকেভৈরবৃই হলেন কুকুরদের দেবতা কিনা। কুকুরটি হাতযোড় কয়ে বাবাকে বললে হে বাবা বটুকভৈরব, এই বর আমাকে দাও, আর জন্মে যেন ওকে এর প্রতিফল দিতে পারি। আমায় যেমন ও বধ করেছে আর জন্মে আমিও যেন ওকে মেরে ফেলতে পারি। বাবা বললেন, পাগলা কুকুর না হ’লে ত তার কামড়ে মানুষ মরে না। তা ছাড়া তোর পাপ শেষ হয়েছে, তুই এবার মানুষ হয়ে জন্মাবি। তার চেয়ে বরঞ্চ তুই ওর সন্ত্রী হয়ে জন্মাস, বিষ খাইয়ে ওকে মেরে ফেলিস। সেই জনোই সেই কুকুর-বা কুক্করী-তোমার মন্ত্রী হয়ে জন্মেছে-তোমায় বিষ খাইয়ে মারবে তবে ছাড়বে!” নরহরি বলিল, “কি বলেন আপনি ! আমার স্ত্রী আর জন্মে কুকুর ছিল ? আমিই তাকে মেরে ফেলেছিলাম ? এ কথা কেমন করে বিশ্ববাস করি ?” - বাবাজী গভীরভাবে বলিলেন, "বিশ্বাস করা না করা তোমার ইচ্ছা। প্রকৃত ঘটনা যা, তাই আমি তোমায় বললাম। তুমি পীড়াপীড়ি করলে বলেই বললাম, নইলে কার পৰব'জন্মের কথা সহসা আমি প্রকাশ করি না ।” নরহরি সবিনয়ে বলিল, “বাবা, আপনাকে আমি অবিশ্ববাস করিনি। ব্যাপারটা বড়ই আশ্চৰ্য্যজনক, তাই আমার মখ দিয়ে হঠাৎ ও কথাটা বেরিয়ে পড়েছিল; আপনি কিছু মনে করবেন না, বাবা! কেবল এক বিজু ফুক ছে৷ আমাকে বিষ প্রয়োগেই - - ২৬