পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হইতে হারাইয়া যাই। এবার আমার অভীষ্মট সফলও হইল এবং আমার জীবনের সবর্ণপেক্ষা সখের কাল আরম্ভ হইল। সাহেবগণ হরিণের জন্য অনেক বাথ চেষ্টা করিয়া জঙ্গল হইতে বাহিরে আসিল। যখন সন্ধ্যা হয় হয়, মোটা ঘাসগুলি বেশ দেখা যাইতেছে, সক্ষেয়গুলি ভাল দেখা যাইতেছে না, তখন সাহেবেরা এক অনতিউচ্চ প্রস্তরবেদীর উপর উঠিল। সেখান হইতে কিছু দরে খালের ধারে বনহংস চরিতেছিল। সাহেবেরা তাহদের প্রতি লক্ষ্য করিবার চেষ্টা করিল। একটা বক্ষের স্থলবন্ধ্রশাখার উপর ভর দিয়া ঝুকিয়া পড়িয়া আমার সাহেব যখন নিশানা করিতেছিল, তখন আমি ' তাহার বকে-পকেট হইতে ঠন করিয়া পড়িয়া গেলাম। সাহেব আমার পতনশবদ বোধ হয় শনিতে পাইল, কারণ তাহার মুখে “ড্যাম" এইরূপ শব্দের অসফটধৰনি শুনিয়াছিলাম, কিন্তু সে যেমন করিতেছিল, তেমনি করিতে রহিল। আমি এই অবসরে পাথরের উপর দিয়া, ঘাসের উপর দিয়া, বালির উপর দিয়া, গড়াইয়া ঠিকরাইয়া একটা গাবভেরেন্ডার ঝোপের পাশে গিয়া পড়িলাম। সাহেবের বন্দকে সেবার বিশ্ববাস রাখিল। পাখীর ঝাঁক উড়িয়া গেল কিন্তু দইটা পড়িয়া মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করিতে লাগিল। সাহেব মত্ত হইয়া সেইদিকে ছুটিল, আমার কথা আর খেয়াল হইল না। সাহেবের চলিয়া গেলে, আমি মণ্ড আকাশের তলে, মুক্ত বাতাসে পড়িয়া রহিলাম । আজ আনার জীবনের বড় শুভরারি। এমন আরাম, এমন সবাধীনতা জন্মের পর আমার ভাগ্যে এই প্রথম ঘটিল। সে রাত্রি অতি আহসাদে আমি নিদ্রা যাইতে পারলাম না । সন্ধ্যর অন্ধকার ঘনাইয়া আসিল, মন্দমন্দ বাতাস বাঁহতে লাগিল, দরে কাছে ঝোপে ঝাপে বনপতপ ফটিয়া উঠিতে লাগিল, তাহার গন্ধ এক প্রকার নতনতর। আমি বাক্সে বাক্সে অতির ও বিলাতী এসেন্স, বাগানে বাগানে গোলাপ, বেলা, রজনীগন্ধা, কত পম্পের আম্ৰাণ পাইয়াছি, কিন্তু এমনটি আর কোথাও পাই নাই—সে অতি অপাব । আমি বলিলাম,—“ভুল: তামার ওটি ভুল। সটির আদিকালে বাগানের ফলও বলে ফুটিত, কিন্তু যে সকল ফলকে শোভায় সৌরভে শ্রেষ্ঠ বলিয়া মানুষ বিবেচনা করিল, ভাহাদিগকেই তুলিয়া আনিয়া বাগান সাজাইল। বাগানের ফলে অপেক্ষা বনফলকে শ্রেষ্ঠ আসন দেওয়া আধুনিক কবিদিগের একটা ফ্যাসান হইয়াছে বটে, কিন্তু সেটা সম্পণে অবিচার।” মাখনল বলিল-আমি ত আর কবি নহি, কোনও আধুনিক কাব্যও পাঠ করি নাই, তবে আমার সে গন্ধ এত ভাল লাগিয়াছিল কেন ? আমি অধ্যাপকোচিত গাভীয্যের সহিত বলিলাম,—“উহার ভিতর একটা মনস্তত্ত্বঘটিত জটিলতা আছে। যখন তুমি আতর, এসেন্স, বেলা, গোলাপের গন্ধ ঘাণেন্দ্রিয়ে অনুভব করিয়াছিলে, তখন তুমি পরাধীন। এখন তুমি সবাধীন। তখন ভালও মন্দ লাগিবার কথা, এখন মন্দও সন্ধাবৎ লাগবে; সেই লোকটা জান না ?” - মাখনল বলিল—থাম, থাম, অত বিদ্যা আমার নাই। আচ্ছা, না হয় তোমার থিওরিই মানিয়া লইলাম। শনিয়া যাও, ব্যথা তক করিয়া রসভংগ করিও না। হাঁ কি বলিতেছিঙ্গাম ? চারিদিক হইতে ফলের গন্ধ আসিতেছিল, আকাশে দইটি একটি করিয়া শত সহস্ৰ নক্ষত্র জনলিয়া উঠিল, জীবজন্তুর কোথাও আর কোনও চিহ্ন দেখা গেল না, কেবল অনেক রাত্রে একটা নেকড়ে বাঘ জল খাইতে আসিয়াছিল, তাহার পা লাগিয়া একটা পাথর গড়াইয়া আমার অতি নিকট দিয়া নীচে গড়াইয়া গেল। রাত্রি গভীর হইল, আকাশে কৃষ্ণপক্ষের চন্দ্রখণ্ড ভাসিয়া উঠিল, শিশির পড়িতে লাগিল-সে কি নিগধ । প্রাণমন শীতল হইল; ভাবিলাম, এই ভারতবর্ষে সমাজ্ঞীর মুখমণ্ডল-চিহ্ন বক্ষে ধারণ করিয়া কত কোটি কোটি আমার সবজাতীয়গণ বিচরণ করিতেছে, তাহাদের মধ্যে কয়জন এমন করিয়া শিশির জলে স্নান করিতে পাইতেছে ? সকলে আয়রণ-চেক্রেট না হয় কাঠের বাক্সে—না হয় চমপেটকে বা রমালে, নয় ত দেশী লোকের কাপড়ের কিমবা ు