পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১২০৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হাঁরর হাতে দিল । নরহরি খালিয়া দেখিল, একটিতে তার স্বহস্তে লিখিত নিজ নামধাম ও জন্মনক্ষত্র; অপরটিতে কোনও অপরিচিত বালক-হস্তাক্ষরে কুসমের নামাদি লেখা। নরহরি বলিল, “তবে তুমিই সেই গণৎকার!” শিব বলিল, “ক্ষেপেছ তুমি ?”—বলিয়া এমন ভাবে হাসিতে লাগিল যে, তাহার মৌখিক কথাটা প্রতিবাদ বরপ গণ্য হওয়া কঠিন। সব গোলমালই মহত্তমধ্যে মিটিয়া গেল। ড্রেস রিহাশালের সময় নরহরি দেখিল, তারকেশ্বরে গণৎকার ঠাকুরের অঙ্গে যে পোষাকটি দেখিয়া আসিয়াছিল, সেই পোষাক পরিয়াই শিব কাবমনি সাজিয়াছে—সেই স্থানে সেই বেরঙা তালিটি এ পোষাকেও বিদ্যমান। রিহার্শাল অন্তে বাড়ী ফিরিয়া সন্ত্রীকে সে এই কথা বলিল, এবং দুই জনে খুব হাসিতে লাগিল। নিজ নিজ নিবন্ধিতার জন্য লজিত হইল। কিন্তু সব গোলমালই সুন্দর ভাবে মিটিয়া গেল। g বিলাতী রোহিণী ·ፀቖ ক্লাইভ ট্রীটের বিখ্যাত ফারম ঘোষ এন্ড চাটাডিজ কোম্পানির অংশীদার ও কমকত্তা শ্ৰীষাক্ত সত্যভূষণ চট্টোপাধ্যায় মহাশয়, চা-পান কায্য সমাধা করিয়া, বেলা ৮টার সময় বৈঠকখানায় নামিয়া আসিলেন। পশ্চাৎ পশ্চাৎ, জলন্ত কলিকাযুক্ত রপোর গড়গড়ি হতে খানসামাও নামিয়া আসিল। পর্বে হইতেই কয়েকজন ভদ্রলোক সাক্ষাতের অভিলাষে বৈঠকখানায় অপেক্ষা করিতেছিলেন, বাব প্রবেশ করিতেই তাঁহারা দড়িাইয়া উঠিলেন। সকলকে যথাযোগ্য সম্ভাষণ করিয়া, বাবা একখানা আরাম কেদারায় বসিয়া, আরামে গড়গুড়ি টানিতে টানিতে, ভদ্রলোকগণের সহিত বাক্যালাপ করিতে লাগিলেন । মিনিট পনেরো কাল এইরুপ চলিলে, ডাকপিয়ন আসিয়া সেলাম করিয়া, বাবর হস্তে কয়েকখানি পত্র দিল। সেগুলির প্রতি দষ্টিপাত করিয়া সত্যবাবু বলিলেন, “বিলাতী ডাক যে ! এবার খবে সকালেই এসেছে ত !” “আজ্ঞে হ্যাঁ”—বলিয়া পিয়ন সেলাম করিয়া চলিয়া গেল। বাব তখন সেগুলি হইতে বাছিয়া, একখানি খলিয়া পাঠে প্রবত্ত হইলেন। এখানি তাঁহার একমাত্র পত্র, বিলাতপ্রবাসী শ্ৰীমান সুধাংশভূষণ লিখিয়াছে। পত্ৰখানি পড়িতে পড়িতে সত্যবাবর মুখখানি গম্ভীর হইয়া উঠিল। ক্ৰোধ ও বিরক্তিতে ললাটদেশ সঙ্কুচিত ও নাসিকাগ্র সুফীত হইতে লাগিল। পত্র পাঠ শেষ হইলে, সেখানি তিনি টেবিলের উপর আছাড়িয়া ফেলিয়া দিয়া, অন্যদিকে চহিয়া কি চিন্তা করিতে লাগিলেন । একজন ভদ্রলোক সাহসপবেক জিজ্ঞাসা করিলেন, “কোনও মন্দ খবর নয় ত ?” সত্যবাব সেকথার কোনও উত্তর না দিয়া, উঠিয়া দাঁড়াইলেন। “বসন, আমি একট, ভিতর থেকে আসি”—বলিয়া চিঠিখানি লইয়া প্রস্থান করিলেন। আগন্তুক ভদ্রলোকেরা পরপরের মখ চাওয়া-চাওয়ি করিতে লাগিলেন। একজন নিম্নবরে জিজ্ঞাসা করিলেন, "ব্যাপার কি ?” অপর একজন উত্তর করিলেন, "সাধার চিঠি এসেছে।” বাব উপরে গিয়া, গহিণীকে ডাকিয়া বললেন, “সন্ধার চিঠি এসেছে।” স্বামীর চোখমুখের ভাব দেখিয়া ভীত হইয়া গহিণী জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি লিখেছে ? ভাল আছে ত?” “এই দেখ”—বলিয়া সা পত্ৰখানি স্মীর হন্তে দিলেন। -- ११२