পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১২০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


W. সংসষ্ট ব্যাপারে তিন মাসের জন্য একবার তাঁহাকে বিলাতে যাইতে হইয়াছিল। সতরাং দ্বিতীম বার যাইতে কোনও আটক নাই । সত্যধাব বললেন, “মেরে ধরে তাকে নিয়ে আসবো । সে কি আর কাঁচ খোকাটি আছে যে গালে একটা চড় কষিয়ে কাণ ধরে’ হিড়াঁহড় করে টেনে আনবো ই রাস্কেল শয়ার কোথাকার! সীতা সাবিত্রীর পদাংকই সে অনুসরণ করবে! খুজে খুজে কি সীতা সাবিত্রীই বের করেছে বেটা অকাল কুমাড়-বাঃ! শালক চিনেছেন গোপাল ঠাকুর। সে দেশে চাকরি করা মেয়েরা যে কেমন সীতা সাবিত্রী সে আর জানতে বাকী নেই!” বিলাত প্রবাসকালে স্বামীর ব্রহ্মচৰ্যা-পালন সম্বন্ধে গহিণী মাঝে মাঝে পরিহাস ফরিয়া থাকেন। অন্য সময় হইলে শেষের এই কথাটি লইয়া আজ তিনি স্বামীকে একটু পরিহাস না করিয়া ছাড়িতেন না। কিন্তু ইহা পরিহাসের সময় নয়। তিনি ভীতভাবে বলিলেন, “সে কি গোর ছড়ি কি তা হলে-গহন্থের মেয়ে নয় ?” কত্ত উত্তেজিত বরে বললেন, “ককখনো নয়। ও খড়ো ফড়ে সব বট বাত। দেশে তার খড়োখুড়ি থাকলে, ছটির সময় সে সেইখানে গিয়ে কাটতো–কাপ্তেন খুজতে ব্লাইটনে যেত না। তোমার ছেলেটিকে যেমন পেয়েছে গাধারাম ! শুনেছে মস্ত বড়লোকের একমাত্র ছেলে, গোথে ফেলেছে। বেটা, খাচ্চিস খা, আবার ছদিা বেধে আনার দৈরকার কি বাপ ? বামনের ছেলে কিনা, ছাঁদা বাঁধা ভুলতে পারেনি! কর্ক না বিয়ে, করে একবার মজাটি দেখকে। একটি পয়সা দেবে না, ত্যজ্যপত্র করবো। বিয়ের সময় খরচের জন্যে দ্য হাজার টাকা চাই ! আব্দার দেখনা একবার! হতভাগা পাজি ছ:চো হৈনুমান।" Yታ আপিসের বেলা হইয়া যায়। নানাহার করিয়া সত্যবাব আপিসে গেলেন। আহার —পাতের কাছে বসাই সার হইল। গহিণী ত সারাদিন শয্যা লইয়া রহিলেন। u দুই ॥ অপিসে গিয়া, সত্যবাব পত্রের চিঠিখনি আর একবার পাঠ করিলেন। ছেলে লিখিয়ছে, দুইটিমাত্র কথা তার করিয়া দিবেন– “Bless you"। সত্যবাব, একখানি বিলাতী টেলিগ্রামের ফরম লইয়া, রাগের মাথায় তৎপরিবত্তে লিখিলেন, “Damn you” (উচ্ছন্ন যাও)। ঘণ্টাধৰনি করিলেন, চাপরাশি আসিয়া দড়িাইল। টেলিগ্রামখানা তাহার হাতে দিবার জন্য উঠাইলেন; আবার নামাইয়া রাখলেন। ভাবিলেন, এরপু টেলিগ্রাম পাইয়া, ক্ৰোধে ও নৈরাশ্যে ছেলে যদি বিবাহই করিয়া বসে ! তা ছাড়া, টেলিগ্রামখানা এই দীর্ঘ যাত্রাপথে যে সকল কর্মচারী ও কর্মচারিণীর হাতে পড়িবে, তাহারাই বা ভাবিবে কি ! একজনকে মাত্র গালি দিবার জন্য, ৫ol৬০ টাকা যে ব্যয় করিয়াছে, তাহাকে লোকে উন্মাদ ভিন্ন আর কি মনে করিবে? তাই তিনি সেখানা ছিড়িয়া, অন্য একথানা টেলিগ্রাম লিখিলেন, তাহাতে শুধ একটি মাত্র শব্দ রহিল—“Wait” (সবার)। সন্ধ্যার পর সত্যবাবর মোটর, বালিগঞ্জে এক বাঙ্গালী ব্যারিস্টার মিস্টার সেনের গহের ফটকের ভিতর প্রবেশ করিল। ইনি সত্যবাবর অনেক দিনের বন্ধ। সেন সাহেব তখন রাত্রিবসন পরিধান করিয়া লাইব্রেরী গহে একখানা আরাম কেদারায় পড়িয়া, চশমা চোখে দিয়া বই পড়িতেছিলেন। তাঁহার মুখে পাইপ, পাশবাসস্থ টেবিলে হইস্কির গলাস । বন্ধকে অভ্যর্থনা কবিয়া বসাইলেন। বলিলেন, “হঠাৎ যে ! খবর কি হে ?” সত্যবাব পকেট হইতে পত্ৰখানি বাহির করিয়া সেন সাহেবের হাতে দিলেন। সেন তাহা পাঠ করিয়া বলিলেন, "এ যে জবর খবর। তা, টেলিগ্রাম করে দিয়েছ ত ?” কি টেলিগ্রাম করিতে যাইতেছিলেন, সেখানা ছিড়িয়া কি টেলিগ্রাম করিয়াছেন, দই রকমই সত্যবাব বলিলেন। শেষে বললেন, “উপায় কি করা যায় বল দেখি ? আমি २१४