পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গিরিবালাকে লইয়া যাইবার জন্য হেনরি মহা হাঙ্গামা করিয়াছিল। পাগলামী প্রায় অন্তহিত হইলেও, এই বিষয়ে তাহার আগ্রহ প্রশমিত হয় নাই। এক একবার ববিত অন্যায় আব্দর করিতেছে, কিন্তু তব আত্মস্বম্বরণ করিতে পারিত না। শেষকলটা আমি মত করিয়াছিলাম, কিন্তু আমার ত্রী কিছতেই সম্মতি দিলেন না। তাঁহাকে আমি কত বুঝাইলাম, তাঁহার শপথ স্মরণ করাইলাম, কিছুতেই তিনি শুনিলেন না। এইবার গিরিরালাকে বেথন স্কুলে পাঠাইয়া দিব ভাবিতেছি, নহিলে মেয়েটা মখ হইবে যে। গিরির , ম্য যেরপে কন্যাগত প্রাণ, মেয়ের সঙ্গে যাইতে না চাহিলে হয়। তা, গেলে মন্দ হয় না। তাঁহার বিদ্যার দৌড়— থাক আর ঘরের কথা বেশী প্রকাশ করিব না। আশিরন, ১৩০৬ ] বিষবৃক্ষের ফল প্রথম পরিচ্ছেদ কলিকাতা বারাণসী ঘোষের স্ট্রীটে একটি দ্বিতল অট্টালিকা। বাড়ীটি অত্যন্ত পরিকার পরিচ্ছন্ন, দগন্ধবিহীন। প্রবেশ করিলেই তাহাকে "মেসের বাসা" বলিয়া ভ্ৰম জন্মে না। সিড়িগুলি প্রশস্ত,—জলে কাদায় পিচ্ছিল নহে, অন্ধকার নহে। উপরের কক্ষগুলি কোনটিতে একাধিক শয্যা নাই এবং সেগুলি টেবিল, চেয়ার, পুস্তকাধার, কাঁচের আলমারি প্রভৃতিতে সসজিত। ভিত্তিগাত্র দই চারিখানি করিয়া সরচিসঙ্গত নয়নাকষক চিত্রে অলঙ্কৃত। গ্রহটির সবত্রই আরাম ও স্বচ্ছলতার একটা ভাব বিদ্যমান। এটি কিন্তু মেসের বাসা না হইলেও পরেষের বাসা বটে। নোনাদীঘির জমিদার বিখ্যাত বন্দ্যোপাধ্যায় বংশের দইটি যুবক এ বাটীতে থাকিয় লেখাপড়া করে। দুইজনের একজন কায্যোপলক্ষে বাটী গিয়াছে। যে আছে তাহার নাম চার বি-এ ক্লাসে অধ্যয়ন করে। বয়ঃক্রম বাবিংশতি বৎসর। মুখশ্ৰী সত্ৰীলোকের মত কোমল, ঢল ঢল ভাবাপন্ন, pক্ষ দইটি সরলতামাখা, দেখিলেই তাহার সহিত বন্ধত্ব স্থাপন করিবার প্রবল আকাঙ্ক্ষা জন্মে। আজ জন্মাষ্টমীর ছটি। কলেজ বন্ধ। আহারান্তে চার একখানি উপন্যাস হতে শয্যাগ্রহণ করিয়া দিবানিদ্রার আয়োজন করিতেছিল, এমন সময় তাহার দজন বন্ধ বিপিন ও নগেন্দ্র আসিয়া উপস্থিত হইল। বিপিন ও নগেন্দ্র চারর সমবয়স্ক। ইহারা বি-এ পাস করিয়া আইন পড়িতেছে । নগেন্দু মহা ধনীর সন্তান, বিপিন মধ্যবিত্ত অবস্থার লোক। ইহারা চারীর ন্যায় সকোমল নহে। ব্রিকেটে, ফুটবলে খাব নম; বাল্যকাল uইতে জিমন্যাটিক-পরায়ণ। নব্যতন্ত্রের এক একটি গণ্ড: বলিলেই হয়। নগেন্দ্র ত দুইবার পাহারাওয়ালাকে প্রহার করিয়া পলিসকোর্টে জরিমানা দিয়াছে। চারকে দেখিয় দইজনে যুগপৎ বলিয়া উঠিল—“কি চার্য, শবশুরবাড়ী যাওনি ?” চার শ্বশুরবাড়া গিয়াছে কি না, এই বিষয় লইয়া নগেন্দ্র ও বিপিন পথে মূহা তকশিতক করিতে করিতে আসিয়াছিল। প্রথমে তাহাবা হাসিতে হাসিতে সেই সকল গল্প করিল। তাহার পর নানা কথা আসিয়া পড়িল। কথাবাৰ্ত্তার স্রোত মন্দা হইলে, চার rাগেন্দুকে গাহিতে অনুরোধ করিল। নগেন্দ্রর পিতা ওস্তাদ রাখিয়া বাল্যকালে কয়েক গণময় তাহাকে গীত বাদ্য শিখাইয়াছিলেন–দিব্য গাহিতে পারিত। বলিল—“কি গাইব ?” "আজ জন্মাস্টমণী—একটা কৃষ্ণবিষয় গাও।” Hগেন্দ্র রাগিয়া বলিল—“দেখ তোমার ভ ৬iমণীগুলো আমি দুচক্ষে দেখতে পারিনে । tnলাদিঘির বড়িয্যেরা যে পরম বৈষ্ণব তা আমি জানি। কিন্তু তুমি হতভাগা যে আমাtঙ্গা চেয়েও যবন, স্লেচ্ছভাবাপন্ন তাও বিলক্ষণ জানি । তোমার কৃষ্ণভক্তির ভান আমার Ꮌ ☾