পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১২১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কাজির বিচার পরোকালে পারস্য দেশের কোনও গ্রামে একজন অতি ধনবান ওমরাহ বাস করতেন, তাঁহার নাম ছিল নবাব কুদরতউল্লা খাঁ। তিনি ছিলেন সেই গ্রাম এবং চতুঃপাশ্ববত্তী” অনেকগুলি গ্রামের প্রবল প্রতাপান্বিত জমিদার। প্রকাণ্ড পাঁচমহল প্রাসাদে তিনি বাস করিতেন। প্রাসাদ-সংলগ্ন বাগানে এত গোলাপ ফটিত যে, তাহার সৌরভে চারিদিক অনেক দরে পয্যন্ত আমোদিত থাকিত। নবাব বাহাদর প্রত্যহ গোলাপ জলে স্নান করতেন। নবাব বাহাদরের তখন যৌবন কাল; বয়স ৩০ বৎসরের অধিক হয় নাই; কিন্তু নিত্য কালিয়া পোলাও ও নানাবিধ শিরনী (মিন্টান্ন) আহার করিয়া তাঁহার দেহটি অত্যন্ত পথল হইয়া পড়িয়াছিল। দিবসের অধিকাংশ সময় তিনি অবিলশে কাঠ নিমিত, লাল মখমল মণ্ডিত এক সোফায় শয়ন করিয়া কাটাইতেন। শয়ন করিয়া, সোণার ফসিতে তামাকু সেবন করিতে করিতে তিনি কিছুক্ষণ বিষয়কাৰ্য্য নির্বাহ করিতেন; অবশিষ্ট সময় নিদ্রায় অথবা মোসাহেবগণের খোস গলপ শ্রবণ করিয়া অতিবাহিত করিতেন। কেবল বিকালে একবার তাঞ্জামে চড়িয়া বায় সেবনে বহির্গত হইতেন। গ্রামের বাহিরে বলিলেই হয়, নদীর নিকট একস্থানে একটি ক্ষুদ্র মৎকুটীরে আবদল নামক একজন গরীব লোক বাস করিত। রাস্তা হইতে এই কুটীরখানি বেশী দরে নহে; —মাঝে খানিকটা পতিত জমি মাত্র। কুটীরের উভয় পাশেব এবং পশ্চাতে নদীতীর অবধি শররন। আবদল প্রত্যহ প্রভাতে উঠিয়া, একখানি ছরি হাতে করিয়া এই শরবন মধ্যে প্রবেশ করিত;–এবং বেশ পাকাপাকা শরগুলি খুজিয়া খুজিয়া কাটিয়া, বোঝা বধিয়া তার কুটীরের সম্মখে আনিয়া ফেলিত। ধারালো ছরেীর সাহায্যে শরের ছালগলি ছাড়াইয়া তাহা দিয়া সারাদিন বসিয়া কুলা, ডালা, পাখা, ছোট ছোট বাক্স ইত্যাদি নানা দ্রব্য বয়ন করিত। বাজারে বা গহস্থ বাড়ী গিয়া, সেই সব বিক্ৰয় করিত—ইহাই তাহার উপজীবিকা। নবাব বাহাদর বিকালে হাওয়া খাইতে বাহির হইলে, প্রায়ই তাঁহার তাঞ্জাম আবদলের কুটীরের সন্মখ দিয়া যাইত। তিনি দেখিতেন, সারাদিনের পরিশ্রমের পর, আবদলে কোন দিন কুটীরের বাহিরে বসিয়া অন্নপাক করিতেছে, কোনও দিন দেখিতেন, বহৎ শানকাঁতে লাল মোটা চাউলের একরাশি ভাত ঢালিয়া, যৎসামান্য ব্যঞ্জন অথবা কেবলমাত্র লবণ সহযোগে পরমানন্দে ভক্ষণ করিতেছে। কোনও দিন বা দেখিতেন, তাহার খাওয়া হইয়া গিয়াছে, ধলা মাটীর উপর ছোড়া চেটাই বিছাইয়া, গ্রীমের ফরফারে হাওয়ায় আবদল গভীর নিদ্রায় মগন। দেখিয়া দেখিয়া, নবাব বাহাদরের মনটা ঈষায় -জলিয়া যাইত। > - - তিনি ভাবিতেন, “উ-হতভাগার কি পদ্ধা! উৎকৃষ্ট কাশ্মীরী চাউলের পোলাও, তাহাই অাধপোয়ার বেশী আমি খাইতে পারি না;-বাবাচ্চারা প্রত্যহ ৮১০ প্রকারের মাংস রন্ধন করিয়া দেয়, কোনওটা একট চাখিয়া দেখি মাত্র—মখে রাচে না—খাই না,— কোনওটার দুই চারি টুকরা খাই; একদিন দুই চামচ বেশী খাইলেই বদহজম হয় ! আর ঐ শয়তান, শুধ খানিকটা নতুন বা খানিকটা কুমড়ার ঘাঁট দিয়া সেরখানেক বাকড়ি চাউলের অন্ন গোগ্রাসে গিলিতেছে; রেশমের গাঁদ তোষকের উপর শইয়া থাকি, ভূত্যেরা দই পাশেব দাঁড়াইয়া, গোপালজলে ভিজানো পাখায় আমায় হাওয়া করে, তব আমার ঘম আসে না, অন্ধ রাত্রি পয্যন্ত আমি জাগিয়া কেবল এ পাশ ও পাশ করি! আর, ও কিনা ধলোর উপর চেটাই পাতিয়া এমন ঘুমায় যে, আমার তাঞ্জামবাহকগণের শব্দ পর্যন্ত শনিতে পায় না,—উঠিয়া দাঁড়াইয়া আমায় সেলাম করে না! উঃ, অসহ্য।” গ্রীষ্মকাল! সমস্ত শরবন পাকিয়া শকাইয়া উঠিয়াছে। একদিন রাগের মাথায় “&brg