পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১২১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নিজ ভাষায় এই দুইজনকে কত কথা জিজ্ঞাসা করিল, কিন্তু নবাব ও আবদলে তাহদের একটা কথাও বঝিতে না পারিয়া, ফ্যাল ফ্যাল করিয়া তাহাদের মুখের দিকে তাকাইয়া রহিল। কেহ কেহ বলিল, “এ উৎপাত কোথা হইতে আসিয়া জটিল! না জানি ইহারা কবে আমাদের কি অনিষ্ট করে, ইহাদের মারিয়া ফেলাই উচিত।” কেহ বলিল, “না না, আমরা এত লোক, ইহারা দুইজনে আমাদের কি অনিষ্ট করতে পারে? মারিয়া ফেলা উচিত নহে।” আবার কেহ বলিল, “আমাদের সন্দার আসন, তিনি যেমন বলবেন, সেইরাপ ব্যবস্থাই করা যাইবে।” নবাব বাহাদর দুঃখে ও অপমানে গভীর হইয়া বসিয়া রহিলেন। আবদল হাত দটি যোড় করিয়া, কাতর নয়নে, ইঙ্গিতে তাহদের দয়া ভিক্ষা করিতে লাগিল। BBBB BBBB BBBBB BB BBBB BBBBBBS BB BBBB BBB করিতেছে বুঝিতে পরিয়া, আবদুল গিয়া তাঁহার পায়ে লটাইয়া পড়িল অনেকেই তাঁহাকে পরামর্শ দিল, ইহাদের হাতে পায়ে দড়ি বধিয়া সমুদ্রে ফেলিয়া দেওয়া হউক। কিন্তু সন্দার এ পরামর্শ গ্রহণ করিলেন না। বলিলেন, “মিছামিছি মনুষ্য হত্যা করিয়া কি হইবে ? বরং ইহাদের দ্বারা অনেক কাজ পাওয়া যাইতে পারে। চল, ইহাদের বাঁকতর ভিতর লইয়া চল। ইহাদের কাজ দেওয়া যাইবে-খাটিবে খাইবে।” বস্তির ভিতর লইয়া গিয়া, সন্দারের লোকেরা দইখানি কুড়ল অনিয়া ইহাদের হাতে দিয়া, দুইটা শুকনা গাছ দেখাইয়া ইঙ্গিতে বলিল, “এই গাছ দইটি তোমরা কাটিয়া ফেল, কাজ শেষ হইলে তবে খাইতে দিব।”—বলিয়া তাহারা চলিয়া গেল। আবদল কুড়লখানা লইয়া, গাছের গোড়ায় কপাকপ কোপ বসাইতে লাগিল। তাহার দেহে বিপুল শক্তি—এ সকল কায্যে সে বিলক্ষণ অভ্যস্ত। সারাদিনে গাছটাকে ভূমিসাৎ করিয়া শাখাগুলাও একে একে কাটিয়া পৃথক করিয়া ফেলিল। নবাব বাহাদর প্রাণের দায়ে, কুড়লখানি উঠাইয়া গাছে কোপ দিতে লাগিলেন বটে, কিন্তু একটা কোপও গাছের গড়তে ভাল করিয়া বসিল না। দশ মিনিট অতীত হইতে না হইতেই, তাঁহার সব্বাঙ্গে দর্দর ধারায় ঘাম ছটিল; হাত ব্যথা হইয়া গেল, তিনি কুড়ল ফেলিয়া, বসিয়া বিশ্রাম করিতে লাগিলেন। অনেকক্ষণ বিশ্রাম করিবার পর, আবর সর করলেন; কিন্তু অধিকক্ষণ কুড়ুল চালাইতে পারিলেন না। ক্লমে দিবা অবসান হইল। সন্দর্ণরের লোকেরা আসিয়া আবদলের কার্য্য দেখিয়া খুব খসী হইল। তাহার পিঠ থাবড়াইয়া সেই খাসী প্রকাশ করিল। নবাবের গাছটা অধোঁকও কাটা হয় নাই দেখিয়া রাগিয়া তাঁহাকে এক লাথি মারিয়া বলিল, “তুই গাজি কোনও কমের নোস ! কেবল ভুড়িই সার।” r - আবদলকে তাহারা আদর করিয়া কতকগুলি ফল, ও খানিকটা মাংস খাইতে দিল। নবাবকে গোটকতক নিকৃষ্ট ফল মাত্র খাইতে দিল, মাংস মোটেই দিল না। এইরুপে দিনের পর দিন কাটিতে লাগিল। আবদলকে তাহারা যে কায্যে লাগায়, তাহা যতই পরিশ্রমসাধ্য হউক না কেন, আবদলে তাহা সচাররপে সম্পন্ন করে। নবাবকে ষে কাৰ্য্যই দেয়, কোনটাই তিনি সসম্পন্ন করিতে পারেন না। ফলে, আবদলের খব অাদর হইল। সে ভাল খায়, ভাল পরে, ভাল ঘরে থাকিতে পায়। নবাবকে খাইতে দেয় অন্য সকলের উচ্ছিল্ট-কদন্ন ; পেটের জবলায় নবাব তাহাই খাইয়া কোনও মতে জীবনধারণ করেন । এইরপে কিছুদিন কাটিলে পর, নবাব বাহাদরের শরীরে বিশেষ পরিবত্তন লক্ষিত হইল। তিনি এখন আর সেরাপ স্থলকায় নাই। তাঁহার চব্বি গলিয়া ভুড়ি ধাঁসয়া, দেহের আয়তন অনেক কমিয়া গিয়াছে। খাইবার সময় উপস্থিত হইলে, ক্ষুধায় তিনি অস্থির হইয়া উঠেন। রাত্রে কুড়ে ঘরে চেটাইয়ের উপর শয়ন করিয়া, অধিবণ্টা মধ্যে ՋԽ 2