পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১২২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সরেন সেখানি পাঠ করিয়া মার হাতে ফিরাইয়া দিয়া বলিল, “তাই ত! এখন উপায় ?” মা বলিলেন, “তুমি, বাবা, উপযুক্ত ছেলে,—উপায় তুমিই কর।” সরেন নৈরাশ্যপণে স্বরে কহিল, “আমি কি উপায় করবো, মা ?” মা বলিলেন, “কোন্নগরের মুখ যোদের সেই মেয়েটিকে বিয়ে কর। এখনি নগদ পাঁচ হাজার টাকা পাওয়া যাবে।” সরেন বলিল, “কিন্তু মা, আমি ত বলেছি— পত্রকে বাধা দিয়া জননী বলিলেন, “তুমি যা বলেছ, তা আমি শুনেছি। তুমি বলেছ, বিবাহপণ-নিবারণী সভার তুমি একজন মস্ত পাণ্ডা, তুমি পণ নিয়ে বিবাহ করলে সমাজে আর তুমি মুখ দেখাতে পারবে না। সে সবই আমি বঝি । কিন্তু এদিকে যিনি তোমার জন্মদাতা, মহাগরত্ন-যিনি এত কট করে আপনি না খেয়ে তোমায় খাইয়ে, তোমায় এত বড়টা করে তুলেছেন, নিজের গায়ের রক্ত জল করে তোমায় মানুষ করছেন, তিনি যে দেনার দায়ে জেলে যান । উনি জেলে গেলে সমাজে কি তোমার মানসম্ভ্রম বাড়বে, বাবা ?” সরেন কিয়ৎক্ষণ নতমস্তকে বসিয়া কি চিন্তা করিল। তাহার পর মুখ তুলিয়া বলিল, “আর কি কোনও উপায় নেই, মা ?” মা বলিলেন, “আর কোনও উপায় নেই। কমলার বিয়ের পর আমার যে ক’খানা গহনা বাকী ছিল, সরলার বিয়ের সময় সে সবই গেছে, তা ত তুমি জান । হাতে এই যে দগাছি রলি দেখছ, এই সার। কোথাও নিমন্ত্রণ আমন্ত্রণে যেতে হলে আমার যেন মাথা কাটা যায়—একজন উকীলের পরিবার, তার এই দরবস্থা ! কিন্তু সে কথা যাক। সম্মবলের মধ্যে এই বাড়ীখানি। তা পাড়াগাঁয়ে এ পরানো বাড়ী, এ বেচলে হাজার টাকা পাওয়া যায় ত ঢের। আর এই থালা, ঘটি-বাটি—লেপ কথিা বিছানা—এ সব বিক্ৰী করলেই বা আর কত হবে ?" বলিতে বলিতে গহিণীর নেত্রযুগল সজল হইল, কন্ঠস্বর ভারি হইয়া উঠিল। সরেন বলিল, “তা বলছিনে। আর কোথাও যদি ধার পাওয়া যায়—” ”কে আর ধার দেবে, বাবা - কি বিষয়-সম্পত্তি আছে যে, তাই দেখে ধার দেবে ? —বিশেষ, মহাজন যে হবে, সে এটা জানতেই পারবে যে, আর এক মহাজনের কাছে টাকা ধার নিয়ে, ৪৫ বছরের মধ্যে তার একটি পয়সাও শোধ করতে পারেনি; নালিশের ভয় দেখাচ্ছে বলে, তাদের দেবার জনোই এই টাকা ধার করা হচ্ছে।” সরেন নীরবে বসিয়া রহিল। কিয়ৎক্ষণ পরে মা বলিলেন, “সপত্রের যা কত্তব্য, তাই তুমি কর, বাবা । পিতাকে সত্য থেকে মুক্ত করবার জন্যে রামচন্দ্র বনে গিয়েছিলেন, তুমি তোমার পিতাকে জেল থেকে মুক্ত করবার জন্যে বিয়ে করবে, এটা কি একটা বড় কথা হ’ল ? মেয়েটি আমি দেখেছি; খাসা, ঘর আলোকরা মেয়ে। সদ্বংশ, সকল রকমেই উপযুক্ত কুটুম্ব। লোকে যেমনটি চায়, এও তেমনটি। আর অমত কোরো না বাবা, রাজি হও, এই বোশেখ মাস পড়তেই শুভ কাৰ্য্যটি হয়ে যাক ৷” একটা দীর্ঘ-নিঃশ্বাস ফেলিয়া, “আচ্ছা মা, ভেবে চিন্তে দেখি” বলিয়া সরেন উঠিয়া গৈল । ঘণ্টাখানেক পরে, শ্যামাচরণবাব অন্তঃপরে আসিয়া সত্রীকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি বললে খোক ?” পরের সঙ্গে কথাবাত্ত যাহা হইয়াছিল, গহিণী সে সমস্তই বিবত করিলেন। শনিয়া কুত্ত বললেন, “বোধ হয় মন গলেছে: রাজি হবে! কি বল ?" গহিণী বলিলেন, “মা সবচনী, মা মঙ্গলচণ্ডী তাই করন। আমি তোমাদের পুজো দেবো মা, ছেলেকে আমার সমতি দাও "e