পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নববধরে উভয় কন্ধে হস্তাপণ করিয়া জিজ্ঞাসা করিলম–“কি গো, তুমি সশীলা না পিপলা ?” যে বর বাল্যকালে কাঁধে চড়াইয়া পেয়ারা খাওয়াইয়াছে এবং যাহাকে কামড়াইয়া রক্তপাত পৰ্যন্তি করা হইয়াছে—নববধ হইলেও তাহাকে লন্ডজ করা একটা কঠিন বইকি ! —সে লতজা সুশীলা কবিল না—দটিামীর উত্তরে দন্টামী করিয়া বলিল, “কাকে পেলে খসী হও ?” আমিই বা দুটামী ছাড়িব কেন ? বলিলাম, “পিপলাকে ৷” সুশীলা বলিল, “তাকে কগে নিয়ে গেছে। এখন অর হায় হায় করলে কি হবে বল ?” সরোজের রঙটা কিছু কাল, তাই সুশীলার এই বক্লোক্তি। পরে শনিয়াছিলাম, দই জমাইয়ের দেহবণের পাথক্য বিষয়ে মেয়ে-মহলে একটু আলোচনাও হইয়াছিল। সকলে বলিয়াছিল—“যেমন দটি বোন-নিক্তির ওজনে রপে গুণে সমান—জামাই দটিও সেই রকম হলে বেশ হ’ত!” ङिन পরবৎসর, আমি আইন পাস করিয়া ভাগলপরেই ওকালতি সরে করিলাম। সশীলা বেশীর ভাগ আমাদের বাড়ীতেই থাকিত । মাঝে মাঝে “ও-বাড়ী” যাইত । উভয় ভগিনী একর হইলে কাকামা—অধন শবংশদ্ভদ ঠাকুরাণী—মেয়ে দুইটিকে পাবের ন্যায় আর সমান সাজে সাজাইতেন না। আমি আটপৌরে জামাই—পাছে অজ্ঞাতে কোন গোলমাল করিয়া ফেলি, ইহাই বোধ করি, তাঁহার আশংকা ছিল। স্বাশুড়ীর এই সাবধানতা অবলম্বনের প্রয়োজন কিন্তু অধিক দিন রহিল না। বিনা মেঘে বজ্রাঘাতের মত একদিন সংবাদ আসিল সরোজ পাটনায় হঠাৎ কলেরা রোগে মারা গিয়াছে। পিপলো বিধবা-বেশ ধারণ করিয়া শবশরেবাড়ী হইতে ফিরিয়া আসিল। যমজ দই ভগিনীর বেশে এই হৃদয়বিদারক পথিক দশনে আত্মীয়বন্ধ সকলেরই চক্ষতে জল বহিল। বৎসরখানেক মধ্যে পিতৃদেব বুঝিয়াiছলেন ওকালতি ব্যবসাটি আমার ঠিক উপযোগী নহে; তাই তাঁহার উপদেশে মন্সেফীর জন্য আমি আবেদন করিয়াছিলাম। পিপলার বৈধবের পর বৎসরখানেক মধ্যে পাটনা সহরে ভীষণ প্লেগ রোগ দেখা iদল এবং সেই ব্যাধিতে আমার জনক ও জননী এক সপ্তাহের ব্যবধানে, উভয়ে সবগারোহণ করিলেন । এই সব্বনাশে অামি মাসখানেকের উপর জড়পাত্তলিকাবৎ হইয়া রহিলাম। তাহার পর আমার মন্সেফীতে নিয়োগবাত্তা গেজেট হইল। আমি ত প্রথমে BB BBBB BBBB BBBB BBBBBS BBBB BBBB BBBB BBB BBB করিয়া বঝাইলেন । ফলে, ঐ পদ আমি গ্রহণ করিলাম। আসবাবপত্র কতক বিক্রয় করিয়া, কতক একটা কামরায় তালাবন্ধ করিয়া রাখিয়া, বাড়ীটা ভাড়া দিয়া, সুশীলাকে লইয়া আমি কমপ্ৰিথান মোতিহারিতে গমন করিলাম। এই নতম স্থানে সুশীলাব সেবা-যত্নে, পারিপাবিক দশ্য ও জীবনযাত্রাপ্রণালীর পরিবত্তনে আমার চিত্ত ক্ৰমে সসথ হইয়া উঠিল। কাজকমে আমার সংখ্যাতিও হইল। ছটিতে ভাগলপরে যাইতাম, শ্বশুরালয়েই অবস্থিতি করিতাম। সেবার প্রজার ছয়টিতে গিয়া দেখিলাম, শ্বশুর মহাশয়ের শরীর বড়ই অসুস্থ হইয়া পড়িয়ছে । তিনি ওয়ালটেয়ারে বাড়ীভাড়া লইয়াছেন—মহাপঞ্চমীর দিন যাত্রা করিবেন। তহির ইচ্ছা ছিল, পাজার ছটিটা মাত্র সেখানে যাপন করেন; কিন্তু শ্বাশুড়ী ঠাকুরাণীর বিশেষ জেদাজেদিতে বড়দিনের ছয়টিটা পৰ্য্যন্ত সেখানে কটাইতে সক্ষমত হইয়াছেন। আমাকেও সঙ্গে যাইবার জন্য তাঁহারা অনুরোধ করিলেন, আমিও সহজেই সন্মত منازع.