পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১২৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চেয়ে এই ভাল নয় ? নীল ছেলেটি দেখতে শুনতেও যেমন, স্বভাব চরিত্রও তেমনি— তার উপর ইংরেজী লেখাপড়া শিখছে, চাকরী করবে। আমি ত বলি বটঠাকুরের কাছে তুমি একবার কথাটা পেড়ে দেখ। পিতা। নীলই যে তোমার মেয়েকে বিয়ে করবার পর আর পাঁচটা বিয়ে করবে না তা তুমি কি করে জানলে ? ভঙ্গ হলেও, ও তিন পরষে বইত নয় ! মাতা। কি বল তুমি তার ঠিক নেই! ও যে ইংরেজী পড়ছে গো ! যারা ইংরেজী পড়ে, তারা সাহেবের চাকরী করে,—তারা কি আর বিয়ের ব্যবসা করতে যায় ? পিতা। হ্যাঁ, আমিও ঐ রকম শুনেছি বটে, যারা ইংরেজী পড়ে তারা একটার বেশী বিয়ে করতে চায় না। আচ্ছা, তা কথাটা ভেবে চিন্তে দেখি। পিতৃকুলের মৰ্যাদাটা ! —খোয়াব ? এই একটা আপশোষ, নইলে আর কি! মাতা। আপশোষই বা কিসের? যে দেশে যেমন চল । আমাদের দেশে হলে, অবিশ্যি, এটা একটা নিন্দের কথা হত। কিন্তু এদেশে, এরা ত কই ততটা মনে করে না। পিতা। তা ঠিক। ইংরেজ হল দেশের রাজা, কলকাতা হল তাদের রাজধানী । কলকাতার হাওয়া লেগে এদের ধর্ম-কম অনেকটা শিথিল হয়ে গেছে বইকি ! নইলে ধর, আমাদের দেশে বামন কায়েতের ঘরের বিধবারা কি পাণ খায়, না মাথায় চল রাখে ? এদেশে দেখ বিধবারা দিব্যি চলে রাখছে, খাসা পাণ থেয়ে ঠোঁটটি লাল করে বেড়াচ্ছে, ভাতে ত কোনও নিন্দে নেই! যমিন দেশে যদাচারঃ–কথাটা তুমি নেহাৎ অন্যায় বলনি বটে। আচ্ছা তা হলে চাটয্যে মশায়ের কাছে কাল কথাটা না হয় পেড়েই দেখি ! মাতা। তবে তোমায় খালেই বলি। গিন্নীর কাছে ও কথা আমি বলেছিলাম। তিনি বটঠাকুরের সঙ্গে পরামর্শ করে আমায় বলেছেন, “তা যদি হয় তা হলে ত খুবই ভাল। কিন্তু মখায্যে মশায় হলেন বাঙ্গাল দেশের একটা জাঁদরেল কুলীন, উনি কি আমার ছেলেকে মেয়ে দেবেন ?" দিদি আমায় বললেন, “তুমি ভাই তোমার কত্তাকে বলে কয়ে যদি রাজি করাতে পার, তা হলে আমাদের কোনও আপত্তি হবে না।” হরবিলাস বলিলেন, “তা হলে ভিতরে ভিতরে কাজটা তুমি অনেকখানি এগিয়ে রেখেছ বল ? এতক্ষণ তবে আমার সঙ্গে নখরা করছিলে কেন ?”—বলিয়া তিনি হাসিতে লাগিলেন। শেষে বলিলেন, “ঐ ছেলেটাকেই জামাই করতে যদি তোমার এতই সাধ হয়ে থাকে, তবে তাই কর। মেয়ে আমার সখে থাকলেই হল। না হয় তিন পর্ষ নেমেই গেলাম, তার আর কি করা যাবে । অনেক রাত্রি হল, এখন ঘমোও।” ॥ তৃতীয় পরিচ্ছেদ ॥ প্রভাবতী তার পিতামাতার কথোপকথন, অত্যন্ত নিবিষ্ট চিত্তে সমতটাই শনিল। শনিয়া সে মনে মনে বলিল, “কি মস্কিল! ওদের নীল হবে আমার বর? তার সামনে কত হেসেছি, কথা কয়েছি, বাচালতা করেছি, এখন আমি হব তার বউ ; সে বাড়ী ঢািকলে, ঘোমটা দিয়ে আমায় পালাতে হবে ? কি কেলেণ্ডকারী মা, কি কেলেংকারী! প্রথম যখন আমরা এলাম, ওদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভা হল, তখন মা আমায় বলেছিলেন, নীলকে তুই দাদা বলবি। আমি বলেছিলাম, "কেন গা, পরের ছেলেকে আমি দাদা বলতে যাব কেন ? সে আমি পারবো না।" ভাগ্যিস দাদা বলিনি। ওমা, যাব কোথা ? কি ঘেন্না মা, কি ঘেন্না তা, এরা ত একরকম সব ঠিকঠাক করেই ফেলেছেন দেখছি। আমাকে নীলর পছন্দ হবে ত? সে যদি তার মা-বাপকে বলে, ও মেয়ে আমার পছন্দ নয়—ওকে আমি রিয়ে করতে চাইনে! তখন কি হবে ? এক ছেলে সোমত্ত ছেলের কথা কি মা-বাপ ঠেলতে পারবেন? কিন্তু, পছন্দ বোধ হয় হবে তার আমাকে। হ্যাগা, আমি ত আর কালো কুচ্ছিৎ নই। ওর গায়ের রঙের চেয়ে আমার রঙ ত অনেক ফসা। অব ক্ষু লেখাপড় জলি মত এই বা বল। এদেশের