পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১২৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মত, আমাদের দেশে মেয়েছেলের লেখাপড়া শেখার রেওয়াজ ত এখনও হয়নি। হলে, এতদিন আমি বা কোন দচারখানা বই না পড়ে ফেলতাম। তার যদি সেই ইচ্ছেই হয়, বিয়ের পর আমায় শেখালেই পারবে—কে মানা করছে বাপ ?” বরের কথা ভাবিতে ভাবিতে প্রভা ঘামাইয়া পড়িল। ঘুমাইয়া, স্বপন দেখিল, বর যেন ঘোমটা খুলিবার জন্য তাহাকে কত সাধ্য-সাধনা করিতেছে—আর সে যেন বলিতেছে —“ও কি নীল ছি! কি ছেলেমানষী করছ তুমি ? কনে বউকে, বরের সাক্ষাতে কি ঘোমটা খলতে আছে ? দাঁড়াও আগে বড় হই, তারপর তুমি যা বলবে আমি তাই শনবো !" ঘুম ভাঙ্গিলে, এই সবনের কথা মনে পড়িয়া প্রভার বড়ই হাসি পাইল। ভাবিল, “স্বপেন বরকে বলেছি ‘ছি নীল ! বরকে কি মানুষ নাম করে ডাকে ? আমি যেন কী !” চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের নিকট যথাসময়ে হরবিলাস কথা পাড়িলেন। তিনি আহাদের সহিত সম্মতও হইয়াছেন, তবে এখন অকাল চলিতেছে, সেই বৈশাখের পাবে আর বিবাহের দিন নাই। নীলর সহিত প্রভার বিবাহ হইবে, একথা পাড়াময় রাষ্ট্র হইয়া গেল। প্রভা আর নীলর সঙ্গে হাসি ঠাট্টা করে না; এমন কি তাহার সহিত বাক্যালাপ পৰ্য্যন্ত বন্ধ করিয়া দিয়াছে। হঠাৎ উভয়ে চোখোচোখী হইয়া গেলে, নীল একটা মচকে হাসে, প্রভা ব্যস্তভাবে সেখান হইতে পালাইয়া যায়। বিবাহের এখনও ৭॥৮ মাস বিলম্বব থাকিলেও, উভয় পরিবারে এখন হইতেই বেয়াই বেয়ান সবোধন প্রচলিত হইয়াছে। পাজার সময় প্রভার মা তাঁর হব জামাইকে ধতি চাদর ও মিস্টান্ন পাঠাইয়া তত্ত্ব করিলেন। পরদিন, ও-বাড়ী হইতে প্রভার জন্যও তত্ত্ব আসিল। ক্ৰমে বিজয়ার দিন আসিল। সারাদিন প্রভার মনে এই কথাটাই তোলাপড়া করিতে লাগিল—“সন্ধ্যার পর যখন ও-বাড়ীতে প্রণাম করতে যাব, আর সকলকে ত প্রণাম করব, তাকেও প্রণাম করব কি না ? যদি তাকে প্রণাম করি, তবে কি সেটা আমার বেহায়াপনা হবে ? যদি না করি, সেটাই বা কেমন দেখায়?” এক একবার মনে হইতে লাগিল, যাই মাকে কথাটা না হয় জিজ্ঞাসা করিয়াই দেখি, তিনি যেরপে মীমাংসা করিয়া দিবেন সেইরাপই করা যাইবে। কিন্তু লজ্জায় বাধিল; মাকে প্রভা এ কথা জিজ্ঞাসা করিতে *ाद्गिल ना । সন্ধ্যার পর মার সঙ্গে প্রভা ও-বাড়ীতে প্রণাম করিতে গেল। নীল বাড়ী নাই, উভয়-সঙ্কট হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সে, আরামের নিঃশ্বাস ফেলিয়া বাঁচল। তথায় বিজয়কৃত্য সম্পন্ন করিয়া বাড়ী ফিরিবার পথে কিন্তু তাহার মনে হইতে লাগিল—. “আজকের দিনে তাঁকে একটি প্রণাম করা হল না।” বাড়ী ফিরিয়াও মাঝে মাঝে কথাটা মনে পড়াতে তাহার বকের ভিতরটা খচখচ করিতে লাগিল। রাত্রি প্রায় ৮টার সময় সারদাসুন্দরী পড়ার অপর কয়েকজন গিন্নীবান্নির’ সহিত ও-পাড়ার পরোহিত ঠাকুরের বাড়ী বিজয়া করিতে গেলেন। পরিকার চাঁদনি রাত্রি। প্রভার পিতাও কাঁধে চাদর ফেলিয়া ছড়িহন্তে বাহির হইলেন। বাড়ীতে রহিল কেবল প্রভা, আর তার মামী ঠাকুরাণী। প্রভা মামীর ঘরে বসিয়া বসিয়া তাঁহার সহিত কথা-বাৰ্ত্ত কহিতেছিল, কি একটা প্রয়োজনে নিজেদের শয়ন-ঘরে আসিল। তাহা সারিয়া, মামৗমার ঘরে যাইবার জন্য যেই দাওয়া হইতে উঠানে নামিয়াছে, অমনি জ্যোৎস্নালোকে দেখিল—সম্মখে তার বর! দেখিয়াই সে ব্যস্তভাবে মাথায় ঘোমটা দিতে হাত উঠাইল, কিন্তু দুষ্ট নীল খপ করিয়া তাহার হাতখনি ধরিয়া ফেলিয়া বলিল, “আর ঘোমটা দেয় না। এখানে কে আছে ? আগে আমার সঙ্গে ত হাতে গ্রুপ কত্ত্ব সে সব ভ মই কৰে। এদানী এমনই