পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১২৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ডমরের ফল হয়ে দাঁড়িয়েছ যে, মুখখানি দিনাতে একবার দেখতেও পাইনে। আজ বছরকার দিনেও একটিবার দেখবো না ?” প্রভা লহুজায় রাঙা হইয়া চলপি চলপি বলিল, “হাত ছাড় না, ও কি ?” নীল ও নিম্ন স্বরেই বলিল, “ছাড়বই বা কেন ? যার বা জিনিষ, সে কি তা ছাড়ে ?” বলিয়া প্রভার অপর হস্তটিও ধারণ করিয়া প্রভাকে নিজের দিকে টানিল । প্রভা যেন জ্ঞানহারা হইয়া পড়িল, তাহার দেহ কাঁপিতে লাগিল। অশিষ্ট বালক, তাহাকে নিজ বক্ষে জড়াইয়া, তাহার মুখচমবন করিল ! প্রভার তখন জ্ঞান ফিরিয়া আসিল । সে গলায় আচিল দিয়া, হাঁট গাড়িয়া বসিয়া, নীলমাধবকে প্রণাম করিয়া তাহার পদধলি লইল । নীল তাহাকে হাত ধরিয়া তুলিয়া মন্দবরে বলিল, “বেচে থাক, সখে থাক। তোমার মা বাপকে প্রণাম করতে এসেছিলাম, কিন্তু তাঁরা ত বাড়ী নেই, ফিরে এলে তাঁদের বোলো যে, আমি এসেছিলাম। তোমার সঙ্গে তব বিজয়টা হল। কিন্তু দেখ প্রভা, মা দাগ যদি দয়া করেন, আসছে বছর তোমায় আমায় বিজয়া কিন্তু এ রকম উঠানে দাঁড়িয়ে আর নয়! কি বল ?” মন্দ হাসিয়া অাদরে প্রভার চিবকে পশ করিল। তারপর বলিল, “পোড়া বোশেখ মাস যে কবে আসবে তা জানিনে! একটা কথা বুলে যাই—মাঝে মাঝে দেখা দিতে কৃপণতা কোর না। যেদিন তোমার মুখখানি একটিবারও না দেখি, সে দিনটা যেন অন্ধকার বলে মনে হয়। আচ্ছা এখন তবে আসি ” दलिझा नौळ् छजिन्ना काञ । মামীম তাঁহার অন্ধকার বারান্দায় দাঁড়াইয়া এই দশটি আগাগোড়া দেখিয়াছেন, কিন্তু কথোপকথন শুনিতে পান নাই। আপন মনে তিনি হাসিয়া বলিলেন, "ওমা! এ যে দেখচি গাছে না উঠতেই এক কাঁদি ! এখনও ত বাপ বিয়ে হয়মি—এরই মধ্যে এত! আর ছড়িটাও ত বেহায়া কম নয়। কালে কালে এ সব হল কি ? দগর্ণ দগা।” সারদাসুন্দরী বাড়ী ফিরিলে, মামৗমা গোপনে তাঁহার নিকট এ ব্যাপারটি বর্ণনা বলাইতে তিনি মনে মনে আশীব্বাদ করিতে লাগিলেন—“ঐ স্বামী নিয়ে তুমি চিরসখী হও মা !” ৷৷ চতুর্থ পরিচ্ছেদ ॥ এবার শীতটা খাব প্রবল ভাবেই পড়িয়াছে। অগ্রহায়ণের হিম লাগিয়া অনেকের সন্দি কাসি হইতে লাগিল, এবং কেহ কেহ জারেও পড়িতে লাগিল; কিন্তু সে ম্যালেরিয়া নহে, বঙ্গদেশে ম্যালেরিয়ার নামও তখন কেহ শোনে নাই। একদিন সংবাদ আসিল, নীলর জর হইয়াছে, তার সঙ্গে সঙ্গে সন্দি কাসি খুব প্রবল। প্রথমে নীলর পিতা মাতা এটাকে বিশেষ কিছু একটা বলিয়া মনে করেন নাই। কিন্তু তিন দিন জর ছাড়িল না দেখিয়া ভীত হইয়া চতুর্থ দিনে কবিরাজ ডাকিলেন। . প্রবীণ কবিরাজ মহাশয় চিকিৎসা করিতে লাগিলেন। কিন্তু কয়েকদিন পরে তিনি চট্টোপাধ্যায় মহাশয়কে একটা সাংঘাতিক সংবাদ দিলেন। তিনি বলিলেন, “জর আর দিন দই তিনে আমি বন্ধ করে দিচ্ছি; কিন্তু ছেলেটির দেহে যক্ষমাকাসের সচেনা হয়েছে।” কি সব্বনাশ! শানিয়া চট্টোপাধ্যায় মাথায় হাত দিয়া বসিয়া পড়িলেন। ক্ৰমে, গহিণীকেও তিনি এ বিষয় অবগত করাইলেন। প্রভার পিতামাতাও শনিলেন। সকলেই মহা চিন্তিতভাবে কালাতিপাত করিতে লাগিলেন। জর তখনকার মত বন্ধ হইল বটে; কিন্তু কাসিটকু থাকিয়া গেল। মাঝে মাঝে বাডে, মাঝে মাঝে কমে। যখন বাড়ে তখন আবার জবর হয়: কমিলে জর ছাড়িয়া లి