পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১২৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রভা বলিল, “জানি, সবই আমি শনেছি, বুঝেছিও—তিনি ত বলেন নি যে বিয়ের মন্ত্র পড়লেই তার মৃত্যু হবে।” মা বলিলেন, “তা নয় বটে। তা হলে, জীবনে তোর ছেলেপলে আর হবে না।” প্রভা বলিল, “তা, না হোক ৷” কিঙ্কণ বিস্ময় তখ হইবা বাকিয়া শেষ বালনে আছ কত্তা কি বলেন দেখি ৷” প্রভা বলিল, “বলাবাল নয় মা। আমি আজ থেকে উপবাস সরে করলাম। একদিন —দুদিন—তিনদিন—উপবাসেও মানুষ মরে না। বেশী দিন হলে মরে। মা, তুমি সতীলক্ষী—তোমার পা ছয়ে আমি এই প্রতিজ্ঞা করলাম, ওর সঙ্গে বিয়ে হবার দিন ভোরবেলা আইবড় ভাত খাব-—তার আগে আমি জল-গ্রহণ করবো না।”—বলিয়া প্রভা হাঁট গাড়িয়া জননীর পদযুগল সপশ করিল। সারদাসুন্দরী, স্বামীকে গিয়া সকল কথা বলিলেন। হরবিলাস মেয়েকে ডাকিয়া অনেক বুঝাইলেন, কিন্তু কৃতকাৰ্য্য হইলেন না। অবশেষে বলিলেন, “আচ্ছা, নীল ভাল হয়ে উঠকে। ওরই সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেবো–তুই এখন জল থা।” প্রভা পিতার পা ধরিয়া বলিল, “আমার প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করবেন না বাবা!” হরবিলাস অবশেষে হতাশ হইয়া চট্টোপাধ্যায়ের সহিত সাক্ষাৎ করিয়া সকল কথা তাঁহাকে বলিলেন। শনিয়া চট্টোপাধ্যায় মহা বিস্ময়ে কিয়ৎক্ষণ অবাক হইয়া রহিলেন। শেষে বলিলেন, “এ যে প্রায় সত্যযুগের কথার মত শোনাচ্ছে হে ! কে এরা ? আর . জন্মের সবামী স্ত্রী নাকি ?” হরবিলাস বলিলেন, “ঈশ্বর জানেন !” বৈশাখ মাস ভরাই প্রায় বিবাহের দিন ছিল ; পরদিন বেশ প্রশস্তই ছিল । সমারোহে নয়-চোখের জলের মধ্যে বিবাহ ক্লিয়া সম্পন্ন হইয়া গেল। বিবাহের পর, শ্বাশুড়ী সজল-নেত্রে মস্তকে ধান দাবর্ণ সহযোগে আশীব্বাদ করিবার সময় শধ্যে এইমাত্র বললেন, “সাবিত্রী যেমন যমের মুখ থেকে তাঁর স্বামীকে কেড়ে নিয়ে এসেছিলেন, তুমিও যেন তাই করতে পার মা ।” পরম আশ্চয্যের বিষয় এই যে, বিবাহের পর হইতে নীলমাধব একটু একটা করিয়া আরোগ্যলাভ করিতে লাগিল। মাসখানেক মধ্যেই সে বেশ চাঙ্গা হইয়া উঠিল । সকলেরই ইহাতে অবিমিশ্র আনন্দ, কেবল কবিরাজ মহাশয়ের আনন্দের সঙ্গে বিসময় মিশ্রিত ছিল। তিনি কেবলমার আয়ৰেবাদ শাস্ত্রে নহে, জ্যোতিষ শাসেও বিলক্ষণ ব্যুৎপন্ন ছিলেন। একদিন তিনি হরবিলাসের বাটীতে আসিয়া বলিলেন, “ওহে, তোমার সময়ের কুষ্ঠা আছে ?” হরবিলাস বলিলেন, “আমাদের ও অঞ্চলে মেয়েছেলের কুণ্ঠী আর কে তৈরি করায় !" “ঠিকুজী আছে ?” “হ্যাঁ, তা আছে। কেন বলন দেখি ?" “ঠিকুজী হলেও চলবে। সেখানি আমায় এনে দাও, ভায়া । আমি তোমার মেয়ের সম্বন্ধে কিছ গণনা করতে চাই।” হরবিলাস ঠিকুজীখানি আনিয়া কবিরাজ মহাশয়ের হস্তে দিলেন। সপ্তাহপরে, ঠিকুজীখানি লইয়া আসিয়া কবিরাজ বলিলেন, “তোমার কন্যার বৈধব্যযোগ নেই । সে আমরণ সধবা । আমার ওষুধের গুণে নয়, তোমার মেয়ের এয়োতের জোরেই নীল বেঁচে উঠেছে।” - কবিরাজ মহাশয়ের চিকিৎসা কিন্তু সমানই চলিতে লাগিল। ছয় মাস পরে তিনি বলিলেন, “এখন আর কোনও আশংকা নেই। কিন্তু এখনও দএক বৎসর স্বামী সীকে Y &