পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হইলাম। \ ওয়ালটেয়ারে যে স্থানে আমাদের বাড়ীটি লওয়া হইয়াছিল, তাহা একেবারে ফাঁকা —সহর হইতে মাইলখানেক দুরে হইবে। সেখানে সপ্তাহখানেক থাকিবার পরেই শ্বশর মহাশয়ের সবাসেথ্যর উন্নতি দেখা যাইতে লাগিল। প্রাতে ও বৈকালে আমরা বেড়াইতে বাহির হইতাম। এখানে আসিয়াই শ্বাশুড়ী ঠাকুরাণী পিপলোকে থান ছাড়াইয়া আবার পাড়ওয়ালা কাপড় পরাইলেন, হাতে দলগাছি পাতলা সোণার চড়ি পরাইয়া দিলেন। এ বিদেশে আর কে আছে যে, দেখিয়া নিন্দা করিবে ? ইহাতে মায়ের প্রাণে যদি একটন শান্তিলাভ হয়, এই মনে করিয়া অবশর মহাশয়ও এ কায অনুমোদন করিলেন। পজার এক মাস ছটি দেখিতে দেখিতে ফরাইয়া আসিল। মোতিহারিতে ফিরিবার জন্য আমি তলিপতলপা বধিতে লাগিলাম। সশীলা আসিয়া আমায় বলিল, “দেখ, বাবা মার ইচ্ছে, এ দটো মাস আমি এইখানেই থাকি। তোমাকে তাঁরা ভরসা করে বলতে পারছেন না ।” আমি বলিলাম, “তোমার কি ইচ্ছে, তাই বল ।” সশীলা বলিল, "আর কিছ নয়—সেখানে একলা তোমার কষ্ট হবে—নইলে দটো মাস না হয় আমি থেকেই যেতাম।” বুঝিলাম সুশীলার মনোগত অভিলাষ, দই মাস এখানেই পিতামাতার নিকট অবস্থান করে। হাসিয়া বলিলাম, “না, আমার তেমন বিশেয কোনও কট হবে না। তুমি দম মাস এখান থেকে, ওঁদের সঙ্গেই ফিরো। আমি একটা রবিবারে ভাগলপরে এসে তোমায় নিয়ে যাব এখন।” সশীলা বলিল, “তবে বাবা-মাকে বলিগে আমায় রেখে যেতে তোমার মত আছে।” বলিলাম, “তা বলগে।” চার যথাসময়ে কম স্থানে ফিরিয়া গেলাম। মোতিহারি জিলায় অনেকগুলি অরণ্য আছে। অরণ্যের সংখ্যা একটি বধি হইল । আমার প্রেয়সী-হীন গহ আর গহ বলিয়া মনে হইল না, অরণ্য বলিয়া মনে হইতে লাগিল । অতি কন্টে দই মাস গহোরণ্যে কাটাইলাম। ৫৭ দিন অন্তর সশীলার একখানি পর পাইতাম--তাহতে অরণ্যবাসের ক্লেশ কতকটা লাঘব হইত। কবে বড়দিন আসিবে —কবে আবার তাহাকে ফিরিয়া পাইব--কবে "মঝ গেহ গেহ বলি মানব”—এই চিন্তাতেই দিনযাপন করিতাম। পৌষের প্রারম্ভে হঠাৎ শবশর মহাশয়ের একখানি সংক্ষিপ্ত পত্র পাইলাম—“বাবাজী, বড়ই দুঃখের বিষয়, গত শব্রুেবর সন্ধ্যার পর তিন দিনের জন্বরে হঠাৎ হাটফেল হইয়া পিপলা মারা গিয়াছে। এই শোকে আমরা পাগলের মত হইয়াছি। কিছুদিন আমরা কাশীধামে গিয়া বাস করিব পিথর করিয়াছি। আগামী রবিবার সন্ধ্যা ৮টার সময় এক্সপ্রেস গাড়ীতে আমরা মোকামা পাস করিব, তুমি যদি কিছু দিনের ছটি লইয়া আমাদের সঙ্গ লইতে পার, তবেই বড়ই ভাল হয় বাবা! এ শোকের সময় তোমায় কাছে পাইলে আমাদের অনেক সাত্বনা। বিশেষ চেষ্টা করিও । এবিষয়ে অধিক আর কি লিখিব।” পত্রখানা পড়িয়া স্তম্ভিত হইয়া বসিয়া রহিলাম। মনের মধ্যে নানা চিন্তার উদয় হইতে লাগিল। বাল্যকালে, যমজ ভগিনীর দুইজনের মধ্যে একজনের জর হইলে, অপরটিরও গা গরম হইত। উহারা বড় হইলে সেরাপ আর দেখা যায় নাই বটে,-কিন্তু —ইহা ষে মৃত্যু ! যদি আমার সশীলার কিছ হয়, তবে আমি কেমন করিয়া বাঁচিব ? বড়দিনের ছয়টি হইতে তখনও ১৫ দিন বিলম্ব আছে। কাছারী গিয়া, জজ সাহেবকে অনেক অনুনয়-বিনয় করিয়া, সোমবার হইতে বড়দিনের বন্ধের দিন পর্যন্ত ছয়টি মঞ্জর లిస్టి