পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করাইয়া লইলাম। শ্বশুর মহাশয়কে সেই মৰ্ম্মে তারও করিয়া দিলাম। যথাদিনে আমি মোকামা টেশনে শ্বশুর মহাশয়ের সহিত সাক্ষাৎ করিলাম। তিনি সেকেন্ড ক্লাসের একটি কামরা রিজাভা করিয়া যাইতেছিলেন. আমিও সেই কামরায় উঠিলাম। বাশুড়ী আমাকে দেখিয়া চোখে অচিল দিয়া কাঁদিতে লাগিলেন। সুশীলাও ঘোমটার ভিতর ফোঁপাইতেছে—বঝিতে পারলাম। বড় ইচ্ছা হইল, তাহার হাতটি ধরিয়া তাহাকে সান্দ্রনার কথা বলি, তাহার চোখ মছোইয়া দিই; কিন্তু শবশরে-বাঁশড়ীর সমক্ষে তাহা করিবার উপায় নাই। শ্বশুর মহাশয় চক্ষ মাছিতে মুছিতে পিপলার পীড়া ও চিকিৎসার কথা আন পবিক বর্ণনা করিলেন। দানাপর টেশনে ট্ৰেণ পে’ছিলে, লুচি প্রভৃতি খাবার কেনা হইল। শবশরে মহাশয় বলিলেন , “সুশীলা, দেখ ত মা, ঐ ব্যাগের মধ্যে পাণের কোঁটায় সাজা পাণ আর আছে কি না ? না থাকে ত কিনতে হবে। -সুশীলা উঠিয়া, ব্যাগ হইতে পাণের কৌটা বাহির করিয়া, তাহা খলিয়া পিতাকে দেখাইল-কৌটাটি শান্য। পাণের খিলিও কেনা হইল। শবাশুড়ী, দুইটি শালপাতায়, আমাদের দুইজনকে খাবার দিয়া বলিলেন, “সুশীলা, সোরাই থেকে ওঁদের দ্য লাস জল গড়িয়ে দাও ত মা।” সশীলা উঠিয়া জল গড়াইয়া দিল। আমরা আহার শেষ করিলাম। হাত ধইয়া পাণ খাইয়া, বহিরের দিকে চাহিয়া বসিয়া রহিলাম। শবশর শাশড়ী দুজনেই মাঝে মাঝে দীঘনিশবাস ফেলিতেছেন। সুশীলা এখন আর কাঁদিতেছে না। একবার যদি চোখো-ছোখি হয়, এই আশায় আমি সুশীলার পানে মাঝে মাঝে চাহিতে লাগিলামকিন্তু সে আড়স্ট হইয়া বসিয়া আছে। তখন হঠাৎ মনে পড়িল, আমি রহিয়াছি বলিয়া সশীলা বা শবাশড়ী কেহই খাইতে পারিতেছেন না। আরা টেশনে গাড়ী থামিলে আমি শবশর মহাশয়কে বলিলাম, “আমি তবে এখন ও কামরাটায় গিয়ে শাইগে "— আমার বিছানার বাণিডলটি বগলে করিয়া, আমি নামিয়া গেলাম। পাচ পরদিন কাশীধামে পেপছিয়া আমরা এক “যাত্রাওয়ালা"র বাড়ীতে উঠিলাম। দইখানি ঘর ভাড়া লওয়া হইল। এখানে ২১ দিন থাকিয়া, একটি বাড়ী খুজিয়া লইবার পরামর্শ ছিল। বাসায় জিনিষপত্র রাখিয়া ধলাপায়ে গঙ্গাস্নান এবং বিশ্বনাথ ও অন্নপণে দর্শনে বাহির হওয়া গেল। ফিরিয়া আসিয়া পাকাদি সমাপন হইতে অপরাহুকাল উপস্থিত হুইল। আহারান্তে বিশ্রাম। শ্বশুর মহাশয় ও আমি একটি কক্ষে শয়ন করিলাম, সশীলাকে লইয়া বাশুড়ী অপর কক্ষে রহিলেন। নিদ্রাভঙ্গে সন্ধ্যার সময় উঠিয়া, মুখ-হাত ধাইয়া, আমরা তিনজনে বিশ্বনাথের আরতি দশনে বাহির হইলাম। ফিরিয়া আঁর পাকাদির উদ্যোগ হইল না, বাজার হইতে লুচি, আলর দম, রাবড়ী প্রভৃতি আনাইয়া তাহার দ্বারা জলযোগ সম্পন্ন হইল। আহারান্তে ধমসেবন করিতে করিতে বশর মহাশয় আমার সহিত গলপ করিতে লাগিলেন। আমি মাঝে মাঝে ঘড়ি দেখিতেছি এতক্ষণ বোধ হয় সশীলা ও শ্বাশুড়ীর খাওয়া হইল। এইবার বোধ হয়, শবশর মহাশয় উঠিয়া ও ঘরে যাইবেন এবং সশীলাকে এ ঘরে পাঠাইয়া দিবেন। সুশীলার সঙ্গে দেখা করিবার—তাহার সঙ্গে কথা কহিবার জন্য আমি বড় ব্যাকুল হইয়া পড়িয়ছিলাম। এক রাত এক দিন এত কাছাকাছি দুজনে রহিয়াছি—অথচ দেখা-সাক্ষাৎ নাই। একবার মাত্ৰ—আজ দশাবমেধ ঘাটে গঙ্গানানের সময় আমি সশীলার মুখখানি দেখিতে পাইয়াছিলাম। দুজনে চোখো-চোখ হইয়াছিল —কান্নায় ফেলা সে চোখ দটি, আমার চক্ষর সহিত মিলিত হইবামাত্র সশীলা মাখখানি নামাইয়া লইয়াছিল। সুশীলাকে বকে জড়াইয়া ধরিয়া তাহাকে আদর করিবার জন্য আমার প্রাণটা বড়ই ব্যাকুল হইয়াছিল। 8