পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রান্ত্রি প্রায়শ্বখন ১০টা, বাশড়ী ঠাকুরাণী আমাদের কক্ষে অসিলেন। পাণ আনিয়াছিলেন, তাহা রাখিয়া বলিলেন, “তোমরা তা হ’লে শোও এখন দোর বন্ধ করে।” শবশুর মহাশয় বললেন, “হ্যাঁ, তোমরাও শোওগে, রাত হ’ল।” শবাশুড়ী বলিলেন, “বাড়ীর কি হ’ল ?” শবশ্যর উত্তর দিলেন, “যাত্রাওয়ালা বললে, তার সন্ধানে দু’তিনখানি বাড়ী খালি আছে। কাল সকালে সেগুলো দেখাবে। তার পর যেটা পছন্দ হয়।” ”আচ্ছা”—বলিয়া বাশুড়ী প্রস্থান করিলেন। শ্বশুর মহাশয় উঠিয়া দবারে খিল লাগাইয়া দিলেন । আমি পিছ ফিরিয়া চপ করিয়া শুইয়া রহিলাম। মনে মনে বড়ই চটিয়া গিয়াছিলাম। অলপক্ষণ পরেই শবশর মহাশয়ের নাসিকাধৰনি আরম্ভ হইল। আমার কিন্তু অনেকক্ষণ অবধি নিদ্রা হইল না। অবশেষে এই বলিয়া মনকে সান্ত্বনা দিলাম,—ধত্তোর কাশীর কাঁথায় আগুন ! এখানে কি সবই উলটো ? বিশবনাথের মন্দির আলাদা, অন্নপ্রণীর মন্দির আলাদা—আমারই বা দুঃখ করলে চলবে কেন ?—অনেক রাত্রে ঘনমাইয়া পড়িলাম। পরদিন প্রাতে উঠিয়া, মুখ-হাত ধুইয়া, যাত্রাওয়ালার সঙ্গে আমরা বাড়ী দেখিতে গেলাম । নদীয়া ছত্রে একটি বাড়ী আমাদের বেশ পছন্দ হইল। তখনই সহবাপেক্ষা ভাল ঘরটি আমার শয়নের জন্য নিদিচিট হইল। যারাওয়ালা একজন চাকর ও একজন ঝি ঠিক করিয়া দিবার ভার লইল । সেখান হইতে ফিরিয়া, গঙ্গাসনানান্তে দেবদর্শনাদি সারিয়া, যাত্রাওয়ালার বাসার আসিয়া আহারাদি করিলাম। বিশ্রামান্তে বিকালে নতন বাসায় উঠিয়া যাওয়া গেল। বহুকাল বিচ্ছেদের পর আজ আমার সুশীলাকে পাইব জানিয়া মনে মনে বাবা বিশ্বনাথকে প্রণাম করিলাম।—আমার এই প্রণামটি লইয়া, বাবা বিশ্বনাথ বোধ হয় হাসিয়াছিলেন। আরতি দেখিয়া আসিয়া, নৈশ ভোজন সমাপনাক্ষেত যখন শয়নকক্ষে প্রবেশ করিলাম, রান্ত্রি তখন ১০টা বাজিয়া গিয়াছে। অধীর আবেগে আমি সশীলার আগমন প্রতীক্ষা করিতে লাগিলাম। কিয়ৎকাল অপেক্ষা করিবার পর ধীরপদক্ষেপে সুশীলা আসিয়া প্রবেশ করিল। ধীরে বারটি ভেজাইয়া দিল। জন্মদরিদ্র ব্যক্তি সহসা মহারত্ব লাভ করিলে যেমন আত্মবিস্মত হইয়া পড়ে, আমারও অবস্থা প্রায় সেইরূপ হইয়া পড়িল,—আমার মুখ দিয়া হঠাৎ সেই পরাতন রসিকতা বাহির হইয়া পড়িল—“সুশীলা না পিপলো ?”--কথাগুলি উচ্চারণমাত্র সকল কথা আমার মনে পড়িল—আমি মরমে মরিয়া গেলাম। ছি ছি আমি কি একটা মানুষ, না পশ্য ? মেঝের উপর আমার বিছানা পাতা ছিল। সুশীলা সজল নয়নে ধীরে ধীরে বিছানার দিকে অগ্রসর হইল, কিন্তু বিছানায় আসিল না; কিছু দরে, মেঝের উপর বসিয়া রহিল। আমি বলিলাম, “আমায় মাফ কর সশীলা, আমার বড়ই অন্যায় হয়ে গেছে। পিপলা আজ নেই—আজ ওরকম রসিকতা করা আমার ভারী অন্যায় হয়ে গেছে!”— বলিয়া তাহাকে টানিয়া বিছানায় লইবার জন্য বাহন বাড়াইলাম। সুশীলা হঠাৎ দরে সরিয়া বলিল, "আমায় ছয়ে না।” তাহার এই ভাব দেখিয়া আমি বড়ই বিস্মিত হইলাম। জিজ্ঞাসা করিলাম, "কেন, আমি তোমায় ছোঁর না কেন সশীলা ?” উত্তর—“আমার পানে বেশ করে চেয়ে দেখ দেখি—আমি কি তোমার সুশীলা ?” তাহার মাত্তির গাম্ভীৰ্য্য দেখিয়া ভয়ে আমার কণ্ঠ শতক হইয়া উঠিল। বলিলাম, "নিশ্চয়ই তুমি আমার সশীলা।” - উত্তর পাইলাম—“না, আমি ಡಸ್ಟ್ H নই। তোমার সমশীলাকে ওয়ালটেয়ারে