পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চাদরের খাটে ট্যাকে, এবং অবস্থাবিশেষে কচ্ছে আবদ্ধ আছে, ভাল করিয়া নিঃশ্বাসও ফেলিতে পাইতেছে না। আমি নিশ্চয়ই পন্বজন্মে কোনও বহৎ পণ্যকর্মের অনুষ্ঠান করিয়াছিলাম, সেই সকতির বলে আমার এই সংখলাভ হইল। যদি কেহ লোকালয়ে পথে ঘাটে দৈবাৎ পড়িয়াও থাকে, তবে সেও আমার ন্যায় এমনি আরামে আছে বটে, কিন্তু সে তাহার কতক্ষণ ? প্রভাত হইতে না হইতেই কোনও উষ্ণাচারী পথিক তাহাকে কবলিত করিয়া পকেটে ফেলিবে, আবার যে দদশা সেই দন্দশা! আর আমি দিনের পর দিন, রাত্রির পর রাষ্ট্র এইখানে পড়িয়া বিশ্বন্ধতম বনবায় সেবন করিব, শিশিরে অগধাবন করিব, পাখীর গান শৰ্মনিয়া ঘামাইয়া পড়িব মুখে প্রভাতের রৌদ্র আসিয়া লাগিলে জাগিয়া উঠিব। আহা ! যদি চলিতে পারতাম, তবে ঐ স্ফটিকসবচ্ছ ঝরণার জল একট পান করিয়া আসিতাম, আর গোটাকত ঐ ফল তুলিয়া আনিয়া বিছাইয়া শয়ন করিতাম, আর ঐ কি একটা লাল টকটকে ফল পাকিয়া রহিয়াছে, উহার রস নিয়া মথটি একট, রাঙাইয়া লইতাম। বাসনার এইরূপ নিফল আবেগ প্রতিনিয়ত আমার বক্ষঃপঞ্জরে আঘাত করিত, তথাপি বড় সুখে ছিলাম, কিন্তু প্রতিদিন আমার উপরে ধুলিস্তর জমা হইতে লাগিল। দেখিলাম, কুমেই আচ্ছন্ন হইয়া পড়িতেছি। একটা দুঃখ হইল, কিন্তু কি করিব, উপায় নাই। মাসের পর মাস চলিয়া গেল, আমি সম্পর্ণেরুপে আবত হইয়। গেলাম। আর পাখীর গান শুনিতে পাই না ফলের গন্ধ পাই না, নবরৌদ্ররাগে রঞ্জিত প্রভাতগগনের শোভা দেখিতে পাই না, আমি যেন গভীর নিদ্রায় মগন রহিলাম। কতকাল পরে বলিতে পারি না, একদিন কিঞ্চিৎ শীতলতা অনুভব করিলাম। দেখিলাম আমার দেহের মত্তিকাবরণ সিক্ত হইতেছে: ক্লমে তাহা গলিয়া ধৌত হইয়া গেল; আমার যেন নিদ্রাভঙ্গ হইল; দেখিলাম, পাংশাবণ মেঘে আকাশটা পরিয়া গিয়াছে, মনুষলধারায় বটি পড়িতেছে, আমার এমন সুখবোধ হইল যে, সে আর তুমি কি বুঝিবে ! তোমরা স্মৃটির সময় ছাতা, ওয়াটারপ্রফে ব্যবহার কর, প্রকৃতিদত্ত একটা মহাসুখ হইতে স্বেচ্ছায় বঞ্চিত হইয়া থাক, তোমাদের কথাই স্বতন্ত্র। আমি দেখিলাম, বনের সমস্ত গাছপালা উন্মুখ হইয়া দাঁড়াইয়া ভিজিতেছে, যেন কতদিনকার তৃষ্ণা আজ সাগ্রহে মিটাইতেছে। আকাশে বিদ্যুতের ঝিলিক দিতে লাগিল; সেই এক চমৎকার ব্যাপার, একবার করিয়া বিদ্যুৎ চমকে, আর আমি নিঃশ্বাস বন্ধ করিয়া থাকি—যতক্ষণ মেঘ না ডাকিবে, ততক্ষণ নিঃশ্বাস ফেলিব না। সে একটা খেলা মাত্র, তাহার কোনও বৈজ্ঞানিক বা আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্য ছিল না। ব্রমে জল ছাড়িয়া গেল; পৰবদিকে রামধন দেখা দিল: ক্ৰমে সন্ধ্যায় চারিদিক অন্ধকার হইয়া আসিল। বষাকাল, প্রায়ই এইরুপ জল হইত; ক্রমে কষর্ণ ছাড়িয়া শরৎ আসিল, হেমন্ত আসিল, আমি আবার ঢাকা পড়িয়া দুরন্ত শীত হইতে, আত্মরক্ষা করিলাম। আবার কষর্ণকালে সহসা একদিন বাহির হইলাম। এইরূপ প্রতিবৎসর হইতে লাগিল; কয়বৎসর কাটিয়া গেল, তাহার কোনও হিসাব রাখতে পারি নাই; একদিন আমার অবস্থার আকস্মিক পরিবত্তন ঘটিল। ডিটেকটিভ-পলিশের এক দেশীয় কমচারী অশ্বারোহণে সেই বনে প্রবেশ করিয়া, যেখানে আমি পড়িয়াছিলাম, তাহার অতি নিকট দিয়াই যাইতেছিলেন। যেই আমাকে দেখিতে পাওয়া, অমনি অশব হইতে লম্ফ দান, এবং বাক্যব্যয় মাত না করিয়া আমাকে পকেটে গ্রহণ। তুমি আমার জীবনচরিত সংক্ষেপে বলিতে বলিয়াছ; সুতরাং কেমন করিয়া আমি পলিশ কর্মচারীর হস্ত হইতে পোস্ট অফিসে এবং তৎপরদিন সেভিংস ব্যাঙ্কের টাকার সহিত স্কুলের হেডমাস্টারের নিকট ও ক্লমে ক্ৰমে ফল-বিক্লেতা, সাহেবের খানসামা, মৎস্য বিক্লেতা, আয়কর কর্মচারী, গবৰ্ণমেণ্ট ট্রেজরি এবং তথা হইতে বহুলোকের হস্ত অতিক্ৰম করিয়া মিরজাপরের এক পাজারীর হস্তে আসিয়া পড়িলাম, তাহার সবিস্তার বর্ণনায় আর প্রয়োজন নাই। পাজারী মহাশয় আমাকে ট্যাকে গজিয়া গংগার ঘটে १