পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিড় বিড় করিয়া এই কথা দই তিন বার উচ্চারণ করিবার পরই, সরোজ সংজ্ঞা হারাইয়া সেইখানেই ভূমিশায়ী হইল। ”ক্যা হয়। ক্যা হয়া”—বলিয়া ভূত্য চীৎকার করিয়া উঠিল। পাশের ঘরের মিটার ঘোষাল ছটিয়া আসিলেন। ভূপতিত সরোজের হাত হইতে টেলিগ্রামখানি লইয়া পাঠ করিয়া মহত্তে মাত্রে সমস্ত অবস্থা বঝিতে পারলেন। বাড়ীর সামনেই রাস্তার অপর পারে বরফের দোকান ছিল, ভূতাকে বরফ আনিতে ছটাইয়া, অন্য একজনকে ডাক্তার ডাকিতে পাঠাইলেন। ডাক্তার আসিবার পর্বেই সরোজের জামা প্রভৃতি খলিয়া তাহাকে বিছানায় শোয়াইয়া, তাহার মাথায় বরফ প্রয়োগ আরম্ভ হইয়াছিল। সমস্ত রাত্রি ধরিয়া চিকিৎসা ও শশ্রেষা চলিল। ভোরবেলায় ডাক্তার বলিলেন, “আর কোনও ভয় নাই।”—বলিয়া তিনি প্রস্থান করিলেন। মিটার ঘোষাল ফী কত দিতে হইবে জিজ্ঞাসা করায় ডাক্তার উত্তর দিলেন, “থাক,-উনি ভাল হয়ে উঠন, ওঁর কাছেই ফী নেবো এখন। আমি বাড়ী গিয়ে মাখ হাত ধয়ে চা খেয়েই আবার আসছি।” বলা বাহুল্য রোগের কারণ সবরপে টেলিগ্রামখানি ডাক্তারবাব স্বচক্ষে পাঠ করিয়াছিলেন। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ লীলার পিতা শ্ৰীযক্ত হরিনাথ সানাল মহাশয়ের বয়স ৬০ বৎসর উত্তীর্ণ হইয়াছে { এক সময় তিনি একজন বলশালী পর্ষ বলিয়া গণ্য ছিলেন। নাটাের টমে ক্রিকেট খেলিয়া খাব নামও করিয়াছিলেন। কিন্তু কালের বিচিত্র গতি—এখন তিনি বাতে পঙ্গ, চোখেও আর ভাল দেখিতে পান না। পবে গভর্ণমেণ্টের চাকরি করিতেন। এমন কিছ বড় চাকরি নয়—ফিনান্স দপ্তরে কেরাণীগিরি করতেন—শেষ পর্যন্ত ১৫o, ঢাকা বেতন হইয়াছিল,—এখন পচাত্তরটি টাকা মাসে পেন্সন পান। তাঁর সহধর্মিণী ১o বৎসর পবেই গত হইয়াছেন। একমাত্র লীলা ছাড়া, আর কোনও সন্তান তাহার জীবিত নাই। সুতরাং এই কন্যাই সংসারে তাঁহার একমাত্র অবলম্বন ও একমাত্র বন্ধন। কলেজে পঠদ্দশাতেই হরিনাথ খন্টধমে দীক্ষা গ্রহণ করিয়াছিলেন। শুধ, তাহাই নয়—নিজ নামটিরও পরিবত্তন করিয়া মিটার হ্যারি স্যাণ্ডেল হইয়াছিলেন এবং বিববিদ্যালয়ে আবেদন করিয়া ও ফী দিয়া, এই নাম-পরিবত্তন পাকা করিয়া লইয়াছিলেন। সরকারী কাগজপত্রে এখনও তাঁহার নাম হ্যারি স্যান্ডেল—ঐ নাম সহি করিয়া মাসে মাসে পেন্সনের টাকা আনিয়া থাকেন, কিন্তু চিঠিপত্র লিখিতে এখন তিনি শ্রীহরিনাথ সানাল স্বাক্ষর করেন। বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ সালে দেশে যখন স্বদেশী ভাবের বন্যা বহিল, তখন হইতেই তাঁহার এই মতি পরিবক্তন । ধৰ্ম্মম , মানুষের অন্তরের জিনিষ, অপর কাহারও সহিত এ বিষয়ের কোন সমবন্ধ নাই—যার মনের যা বিশ্ববাস তাই তার ধৰ্ম্ম-কিন্তু জাতীয়তা যে জন্মগত। খাটধমে বিশ্বাস করেন বলিয়াই তাঁহাকে যে “সাহেব” হইতে হইবে, এমন কোন কথা ত নাই-ই; বরং তাহা হইতে চেষ্টা করাই সবজাতি ও স্বদেশদ্রোহিতা। একদিন কৌতুহলবশতঃ স্যান্ডেল সাহেব কলেজ স্কোয়ারে বিপিন পালের বক্তৃত শনিতে গিয়াছিলেন। বক্তৃতাটি শেষ পর্যন্ত শ্রবণ করিয়া, রমোলে চোখের জল মছিয়া, গোলদীঘি হইতে বাহির হইয়া সোজা তিনি ফ্রেন্ডস সোসাইটীর কাপড়ের দোকানে প্রবেশ করেন এবং পকেটে যে কয়টি টাকা ছিল, তাহা দিয়া মিলের ধতি ও শাড়ী ক্ৰয় করিয়া বাড়ী আসেন। বহুকাল যাবৎ তিনি ধতি পরিত্যাগ করিয়াছিলেন-বাড়ীতে পায়জামা সটেই ব্যবহার করতেন। সেদিন, আপিসের ইংরাজি পোষাক ছাড়িয়া, নতন ধতি একখানি পরিধান করিলেন। ভাবের আবেশে, সেই কোরা ধতিরু গন্ধটিও যেন তাঁহার আতর গোলাপের তুল্য মনে হইল। মিসেস স্যাডেল অবশ্য পাব হইতেই—বাড়ীতে বিলাতী ও বাহিরে যাইতে হইলে দেশী শাড়ী و 8