পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরিতেন। স্বামীর অনুরোধে তিনিও বিলাতার পরিবত্তে সবদেশী মিলের শাড়ী ধরিলেন। পাঁচ বছরের মেয়ে লীলার নাম ছিল তখন লিলি-বা লিল-তাহাকে হীরবাব লীলাবতী করিলেন। পিতাকে সে ড্যাডি ও মাতাকে মমি বলিত, তাহাকে বাবা মা বলিতে শিখাইলেন। টেবিল চেয়ারের পরিবত্তে কবলের আসন পাতিয়া ভাত খাওয়া - প্রচলিত হইল। জীবনযাত্রা প্রণালীতে দেশীয় প্রথা অবলম্বনে কিছু ব্যয়লাঘবও হইল। একে মেয়েটি কালো, তায় তাঁর নিজের তেমন অথ-সামথ নাই—বিবাহের জন্য ভাল ঘর বর যটিবে কি না তাহা ঈশ্বরই জানেন—না যদি জোটে, তাহা হইলে ভবিষ্যতে মেয়েটা কটে না পড়ে, এই মনে করিয়া, হরিনাথবাব তাহাকে ডাক্তারি পাঁড়বার জন্য ক্যাবেল স্কুলে ভত্তি করিয়া দিয়াছিলেন। লীলা আজ দই বৎসর হইল ক্যামেবল হইতে পাস করিয়া বাহির হইয়াছে। মেয়ের প্রাকটিসের সুবিধার জন্য হরিনাথবাব গলিমধ্যে পর্বে বাসা ত্যাগ করিয়া এলগিন রোভে উঠিয়া আসিলেন। এই দই বৎসরেই লীলা কিছ কিছু উপাত্তজৰ্শন করিতে আরম্ভ করিয়াছে। বয়সও কম, ব্যবসায়েও নতন ব্ৰতী, তাই লোকে এখনও তাহার চিকিৎসার প্রতি তেমন আস্থা থাপন করিতে পারে নাই। তবে চিকিৎসায় যত হউক না হউক, ধাত্রীবিদ্যা ও প্রসতি-পরিচযা সম্বন্ধে লীলার বেশ সনামই হইয়াছে। পরববর্ণিত যবেক সরোজ রায়ের সহিত ইহাদের পরিচয় এক বৎসর মাত্র। সরোজ পবে ইটিলিতে বাস করিত—এ পাড়ায় সে উঠিয়া আসার পর আলাপ পরিচয়ের সত্রপাত। যুবকটিকে সুশিক্ষিত ও সচ্চরিত্র দেখিয়া, হরিনাথবাব তাহাকে আদর আপ্যায়ন করিয়াছিলেন। মাসকয়েক মধ্যেই সরোজ ইহার নিকট উপস্থিত হইয়া, লীলাকে বিবাহ করিবার বাসনা জানায় ও তাঁহার সম্মতি প্রার্থনা করে। হরিনাথ আহাদের সহিত সে সম্মতি প্রদান করিয়া বলেন, “বেশ ত বাবা, লীলা যদি রাজি হয়, আমার তাতে কিছমাত্র আপত্তি নেই। তুমি তার মন পাবার জন্যে চেষ্টা কর।”—অসাধ্য সাধন সরোজকে করিতে হইবে না ইহা বড়া বিলক্ষণ জানিতেন। সরোজের প্রসঙ্গ উঠিবামাত্র লীলা কেমন আগ্রহ ভরে তাহা শ্রবণ করে, কোনও দিন তার আসিবার কথা আছে কিন্তু আসিতে বিলম্ব হইতেছে দেখিলে কিরুপ অধীর হইয়া ঘর বাহির করিতে থাকে, এবং আসিলে কিরুপ আনন্দ-বিহবল হইয়া উঠে, ক্ষীণ দটি সত্ত্বেও এ সকল তাঁহার চক্ষ এড়ায় নাই। অতঃপর, সরোজ লীলাকে লইয়া কোথাও বেড়াইতে যাইতে চাহিলে, কিংবা ইংরাজি থিয়েটার বা বায়োসেকাপের বৈকালিক অভিনয়ে লইয়া যাইবার অভিপ্রায় প্রকাশ করিলে, হরিনাথবাব প্রসন্ন মনে সম্মতি দিতে লাগিলেন। সরোজ অন্যদিন ত আসেই—প্রতি রবিবারে নিয়মিতভাবে এখানে আসে এবং ইহাদের সঙ্গে একত্র গিজায় যায়। মাস দই পরে একদিন হরিনাথবাব কন্যাকে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, “হ্যাঁ মা, সরোজ, কি তোকে কোনও কথা বলে ?” হাজার হোক বাঙ্গালীর মেয়ে, পিতার প্রশেনর মন্ম বিলক্ষণ বঝিয়াও লীলা নেকা সাজিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “কি কথা বাবা ?” হরিনাথ বলিলেন, “সরোজ আমার কাছে পর্বে বলেছিল, তোকে সে বিয়ে করতে চায়। তোর কাছে সে রকম প্রস্তাব সে করেছে ?” লীলা লজ্জায় রাঙা হইয়া বলিল, “ওঃ—সে কথা ত মাঝে মাঝে বলেন। আমি রাজী হইনি, বাবা।” "কেন মা, সরোজ ত বেশ ছেলে। কেমন ভদ্র, কেমন শিক্ষিত, কেমন সচ্চরিত্র— চাকরিতেও সনাম করেছে, ক্ৰমে উন্নতিও হবে, তবে কেন তুই আপত্তি করেছিস ?” “হ্যাঁ বাবা, আমি কি তোমার এতই ভার বোঝা হয়েছি যে তুমি আমায় বিদায় করতে চাণ্ড ?” - .8%