পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হরিনাথ আদরে কন্যার পিঠ চাপড়াইয়া বললেন, “ভার বোঝ্য'তুই কেন হবি, মা ! বরং তুই মেয়ে হয়েও আমার ছেলের কাজ করছিস। যে কটি টাকা পেন্সন পাই তাতে । ত আমাদের সব খরচ কুলোয় না,--নিজের উপাজনের টাকা তাতে যোগ করে সংসার চালাচ্ছিস । তা নয়; কিন্তু মা, আমি, ত বড়ো হয়েছি, আমি আর কদিন আমার অভাব হলে, কে তোকে দেখবে শনবে, কাকে আশ্রয় করে তুই জীবন কাটাবি ? তাই আমার সাধ, আমি বেচে থাকতে থাকতে তোর একটা কিনারা দেখে যাই। আমি আর কদিন বল ?” লীলা রাগ করিয়া বলিয়াছিল, “ঐ সব অমঙ্গলের কথা তুমি খালি খালি আমায় কেন বল বাবা ? তুমি কি ভাব ঐ সব শনতে আমার বড় মিটি লাগে?” হরিনাথবাব বললেন, “আচ্ছা, ও কথা না হয় আর নাই বললাম। কিন্তু তুই সংসারী হবি, তোর ছেলেমেয়ে হবে—সে সব দেখতে কি আমার সাধ হয় না রে ? বেশ করে ভেবে চিন্তে দেখিস।” সেদিন এ প্রসঙ্গ এই পৰ্য্যন্তই শেষ হইয়াছিল। কিন্তু মাঝে মাঝে হরিনাথবাবদ কথাটা পাড়িতেন, লীলার কিন্তু সেই একই উত্তর-“আমি চলে গেলে তোমার সেবা কে করবে বাবা ?” আজ পিতাকে আহার করাইয়া, তাঁহাকে শয্যায় দিয়া, তাঁহার পায়ে হাত বলাইতে বলাইতে লীলা সরোজের সহিত তার অদ্যকার অধিকাংশ কথোপকথন নিবেদন করিল। সমস্ত শনিয়া বদ্ধ কিয়ৎক্ষণ নীরবে চিন্তা করিয়া বলিলেন, “আচ্ছা, তাই যদি তোর ধনভঙ্গ পণ হয় যে, আমি তোর কাছে গিয়ে না থাকলে তুই বিবাহই করবিনে, তা হলে তাই হবে। কিন্তু আমার খরচস্বরপ মাসে মাসে অন্ততঃ পঞ্চাশটি টাকা জামাইকে নিতে হবে, সেটা তাকে বুঝিয়ে বলিস।” লজাত্যাগ করিয়া, বিবাহের দিন পিথর সম্বন্ধে সরোজের আগ্রহের কথাও লীলা পিতাকে জানাইল। তিনি বললেন, “তা বেশ। এ মাসের ত আর দিন দশেক মোটে বাকী—আসছে মাসের মাঝামাঝিতে একটা রবিবার দেখে দিন পিথর করে বলিস। তোর জন্যে কিছু গহনা গড়াতে হবে, কাপড় চোপড়ও তৈরী করাতে হবে—তাতে যেটুকু সময় দরকার, তার বেশী আর দেরী করে ফল কি ?” পিতাকে ঘুম পাড়াইয়া, লীলা নিজ শয়নকক্ষে গিয়া, তখনি রবিবার ১৭ই মাচ্চ’ দিনটি পিথর করিল। দশদিন আর সতেরো—সাতাশ দিন। তার পর চির-মিলনোৎসব। আনন্দের আবেগে, সরোজের ফটোখানি বাহির করিয়া লীলা বারবার চাম্ববন করিল। অবশেষে সেখানি বালিসের তলায় রাখিয়া, আলো নিবাইয়া দিয়া শয়ন করিল; কিন্তু অনেক রাল্লি পৰ্য্যন্ত ঘুমাইতে পারিল না। পরদিন প্রাতে, অন্যদিন অপেক্ষা শীঘ্রই লীলা শয্যাত্যাগ করিল। পিতা জাগিবার পবেই সনানাদি সমাপন করিয়া লইল। সাড়ে সাতটার সময় সরোজ আসিবে, এখানেই ছোট হাজরী খাইবে--তার পর তিনজনে একত্র গিজায় যাইবে এইরুপই পরামর্শ ছিল। লীলার মনটি আজ বড় প্রফুল্ল। এতদিন কত্তব্যের খাতিরে সরোজকে সে তেমন আমল দিতে পারে নাই—সরোজের মনে কট দিয়াছে—আজ সে বাধা অপসত—আজ সরোজ আসিলে সে তাকে সুখী করিতে পারবে। লীলার মনের ভিতর আজ কেবল গানের লহর উঠিতেছে—মাঝে মাঝে গণ গণে করিয়া সে গান গাহিতেছে। গিজা হইতে ফিরিয়া, আজ সরোজকে এইখানে খাইবার জন্য সে অনুরোধ করিবে। আজ অনেকক্ষণ —অনেকক্ষণ, দুজনে একসঙ্গে থাকিবে। আজ কোনও বায়সেকাপে ভাল ফিল্ম আছে কিনা কে জানে ! ওবেলা দুজনে দেখিতে গেলে হয়। না—বায়স্কোপে নয়-হাজার লোকের মাঝে নয়, একটিও মনের কথা কহিবার সংযোগ পাওয়া যাইবে না–তার চেয়ে ইডেন গার্ডেন কিংবা গড়ের মাঠই ভাল। একট সকালে বাহির হইয়া শিবপুরের বাগানে - 28% o: