পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গেলেও হয়। বেলা ৮টা বাজিতে আর বেশী দেরী নাই। ছোট হাজরী প্রস্তুত—সরোজ আসিলেই হয়। নীচে সদর দরজার নিকট একটা শব্দ হইলেই লীলার কাণ খাড়া হইয়া উঠে। না, ও ত সরোজের পদশব্দ নয়! লীলা অবশেষে আর থাকিতে না পারিয়া, রাস্তার ধারের দ্বিতল বারান্দায় বাহির হইয়া একদটে পথপানে চাহিয়া রহিল। কত লোক আসিতেছে, কই সরোজের এখনও দেখা নাই কেন ? পাঁচ মিনিট, দশ মিনিট পনেরো মিনিট কাটিয়া গেল—পিতার চা পান ও ছোট হাজরীর সময় উত্তীণ হয় দেখিয়া, লীলা বাবচ্চিকে চা ভিজাইয়া টোল্ট সেকিতে হক্কুম দিল। সাড়ে ৮টা বাজিলে, লীলার মনে কু গাহিতে আরম্ভ করিল। হঠাৎ সরোজের কোনও অসুখ করিল না ত ? নাহলে যে মানুষ কাল রাত্রেই আসিবার জন্য উদ্যত— সে আজ নিদর্ধারিত সময়ে আসিয়া পেপছিল না! ইচ্ছা হইতে লাগিল, সরোজের বাসায় বয়কে পাঠাইয়া সংবাদ লয়, কিন্তু বয় এখন গেলে, পিতার চা পানে আরও বিলম্ব হইয়া যাইবে। তাই সে ইচ্ছা পরিত্যাগ করিল। পিতাকে আনিয়া ছোট হাজরী খাইতে বসাইল । চা পান করিতে করিতে হঠাৎ হরিনাথবাবর স্মরণ হইল—কন্যাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “কই সরোজ ত আজ এল না!” লীলা লান মুখে বলিল, “আজ ত বরং অন্য রবিবারের চেয়ে সকালেই তাঁর আসবার কথা ছিল বাবা, কি জানি কি হল!” “বোধ হয় কোনও কাজে আটকে পড়েছে”—বলিয়া হরিনাথবাব চায়ের পাত্রটি শেষ করিলেন। ধমপান ও স্টেটসম্যান সংবাদপত্র পাঠ করেন। আজও যথারীতি সেই চেয়ারে গিয়া বসিলেন। বয়, গড়গড়িতে তামাক দিয়া গেল—কিয়ৎক্ষণ ধুমপানের পর, পকেট হইতে চশমাখানি বাহির করিয়া চোখে লাগাইয়া টেটসম্যানের ভাঁজ খলিয়া পাঠে মনোনিবেশ । করিলেন। লীলা খানাকামরায় গহকায্য করিতেছে—এবং মাঝে বারান্দায় বাহির হইয়া এদিক ওদিক যাইতেছে। " হঠাৎ এক সময় হরিনাথবাব চীৎকার করিয়া উঠিলেন—"লীলা—শোনা—শোন— শুনে যা ” • লীলা সেলভিট কাপড় দিয়া একটা কাচের গলাস পালিস করিতে করিতে বাহির হইয়া বলিল, “কি, বাবা ?” কাগজখানা কন্যার হাতে দিয়া, একটা সৰ্থান দেখাইয়া বলিলেন, “পড় এইখানটা!” বড় বড় হেড লাইন দিয়া তাহার নিমেন মিটার সরোজনাথ রায়ের অসাধারণ সোঁভাগ্যের সংবাদটি লিপিবদ্ধ হইয়াছে। লীলার হাত কাঁপিতে লাগিল। অবশেষে তার হাত হইতে কাগজখানি পড়িয়া গেল। নিকটস্থ চেয়ারখানাতে বসিয়া পড়িয়া বলিল, “হাঁ বাবা, তা হলে কি হবে ?” হরিনাথবাব কন্যার দিকে চাহিলেন, কিন্তু তিনি ক্ষীণদটি মেয়ের মুখ যে কত ফেকাসে হইয়া গিয়াছে তাহা বুঝিতে পারলেন না। লীলা আবার বলিল, “কি হবে বাবা ?” “ঈশবরকে ধন্যবাদ দে মা—তিনি তোকে রাজরাণী করে দিলেন। কি অসীম দয়া তাঁর !" লীলা নীরবে চিন্তা করিতে লাগিল—”দয়া ? দয়া কি ? না অভিশাপ ? প্রথমেই ত দেখছি, যে লোকের সাড়ে সাতটার মধ্যে আসবার কথা, ৯টা বেজে গেল, তব তার দেখা নেই!” বন্ধ বললেন, “কাল সন্ধ্যেবেলা এ খবর সরোজ তোকে বলেনি?” 8 - 83