পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“না বাবা।” “বোধ হয় গোপন রেখেছে। সে দেখতে চেয়েছিল হয়ত, সে যেমনটি আছে, তেমনি তাকে তুই গ্রহণ করিস কি না। তার এই ভাগ পরিবত্তনের পর তুই তাকে গ্রহণ করলে, তার মনে হতে পারতো—আমাকে নয়, আমার টাকাকেই এ গ্রহণ করছে। এখন সে ত জানছে—টাকার লোভে কাল তুই বিবাহে সন্মতি দিসনি !" “কি জানি বাবা, কাল হয় ত তিনি নিজেই জানতেন না ।” “হ্যাঁ তাও হতে পারে বটে!” লীলা বলিল, “কিন্তু বাবা, আমি যে সন্মতি দিয়ে ফেলেছি ! কি হবে এখন ?” কন্যার কন্ঠস্বরে বিসিমত হইয়া হরিনাথ বলিলেন, “কিসের কি হবে ?” লীলা বলিল, “বাবা, সে আজ একটা রাজা-আমরা সামান্য লোক । তার সঙ্গে আর আমরা কি করে মিশবো বাবা ? মিশতে পারবো কি ?” "কেন ? ওঃ, বুঝেছি। আচ্ছা, ভেবে দেখি কথাটা। তুই ভয় করছিস-সে এখন বড়লোক হয়ে আমাদের মত অবস্থার লোককে হয়ত তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে পারে। এই ত ?” লীলা বলিল, “তার যে হেড বাকচ্চি হবে, তার মাইনে নিশ্চয়ই তোমার পেন্সনের চেয়ে বেশী হবে বাবা –তুমি কি—” “এই অবস্থা পরিবত্তনের পর, আর কি আমি জামাইয়ের বাড়ী গিয়ে বাস করতে পারব, এই কথা জিজ্ঞাসা করছিস ত ?—ন, সেটা আর আমার পক্ষে সম্ভব হবে না মা । কিন্তু সরোজ যে রকম ছেলে, অবস্থর পরিবত্তনে কি তার স্বভাবেরও পরিবত্তন হয়ে 2.াবে “ “প্রথম নমনা ত এই দেখছি বাবা । তুমি কি বল, তাই শোনবার জন্যে সে কলি রাত্রেই এসে, নীচের ঘরে দর্ঘণ্টা একলা বসে থাকতে প্রস্তুত ছিল। তাতে আমি আপত্তি করায়, আজ সকালে সাড়ে সাতটা হতে না হতেই এখানে ছুটে আসবে বলেছিল। সাড়ে নটা বাজে—এখনও পয্যন্ত তার দেখা নেই –তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য আর কাকে বলে, বাবা ?” হরিনাথবাব বললেন, “তা না হতেও পারে। এই সংস্রবেই—হঠাৎ তার কোনও কাজ পড়ে গিয়ে থাকতে পারে--তাই নিয়ে সে ব্যস্ত আছে।” লীলা বলিল, “আচ্ছা বাবা, যেদিন আমার ডাক্তারি পাশ হওয়ার খবর জানা গেল,— আমি যদি ছটে এসে সে খবর তোমায় না দিতাম, তুমি যদি পরদিন খবরের কাগজে তা পড়তে, তা হলে তোমার কেমন লাগতো ” “ওঃ, সে নিজে এসে তোকে এ খবরটা দেয়নি বলে তুই অভিমান করছিস ?--তা, সে নিজেই এখনও জানতে পেরেছে কি না তার ঠিক কি ? সে হয়ত স্টেটসম্যান দেখেনি।” “গড মর্ণিং—গড় মণিং—এই যে আপনারা দুজনেই রয়েছেন!” ”কে 2 ঘোষাল ? এস-এস—খবর কি ?” ঘোষাল বলিল, “বসবার সময় নেই মিটার সানাল। কাল সন্ধ্যার পর, সরোজ হঠাৎ ভারি পীড়িত হয়ে পড়েছে। আপনারা দুজনে একবার আসনে আমার সঙ্গে।” হরিবাব তীরের মত দাঁড়াইয়া উঠিয়া বলিলেন—“অ্যাঁ? সরোজের অসুখ হয়েছে ? কি অসুখ ? কি অসুখ ? কেমন আছে সে ?” ঘোষাল বলিল, “বসন বসন। মিস সানাল—আপনি দয়া করে, পাঁচ মিনিটের মধ্যে জাতো বদলে আসন । এই যে, টেটসম্যান রয়েছে—আপনারাও খবরটা তা হ’লে পড়েছেন নিশ্চয়। কাল রাত আটটার সময় সরোজ বেড়িয়ে বাসায় ফিরে এসে, বোম্বাই থেকে এই বিষয়ের টেলিগ্রাম পায়। পেয়েই তার ফিট হয়—আমরা তখনি ডাক্তার আনি, মাথায় বরফ দিই—সারারাত অজ্ঞান ছিল—এখন সকালে একটা জ্ঞান হয়েছে।” হরিবাব বসিয়া বলিলেন, “কি সব্বনাশ!—তারপর—তারপর ডাক্তার কি বললে ? 60