পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তাঁর অবস্থা খারাপ—বোধ হয় ৭or৭৫ হাজারেই সেখানি পাওয়া যেতে পারে। চল বাবাকে সঙ্গে নিয়ে তিনজনে বাড়ীটা দেখে আসি।” লীলা বলিল, “বাবাকে নিয়ে যাও—আমি এখন যেতে পারবো না। আমার কাজ আছে।” “কি এমন কাজ লীলা ? চল চল, লক্ষীটি।” লীলা বলিল, “আমার রোগী আছে—তাকে এখনি দেখতে যেতে হবে।” “আচ্ছা বেশ—আমি বসি। ততক্ষণ বাবার সঙ্গে একটা গলপ কার—তুমি কাজ সেরে এস। তারপর তিনজনে একসঙ্গে যাওয়া যাবে। আমার গাড়ী নিয়েই তুমি যাও।” লীলা বলিল, “হ্যাঁ—চার টাকা ভিজিটের ডাক্তারণী, রোলস রয়েসে চড়ে রাগী দেখতে যাবে! আমি ঠিকেগাড়ী আনতে পাঠিয়েছি।” সরোজ, লীলার হাত দুখানি ধরিয়া বলিল, “আচ্ছা, আজকাল তুমি এমন কেন হয়ে গেছ লীলা ?—আমার কাছ থেকে যেন দরে দরে থাকতে চাও। কেন, আমি কি করেছি ? তোমার কাছে আমি কি কোনও অপরাধ করেছি ?” ੰ অপরাধ তুমি কেন করবে ?”—বলিতে, লীলার বকে কাঁপাইয়া একটি দীঘনিঃশ্বাস I বাহিরে ছক্কড় গাড়ী দাঁড়াইবার শবদ হইল। "আচ্ছা আমি তা হলে চললাম—ফিরতে আমার দেরী হতে পারে। তুমি বাবাকে নিয়ে বাড়ী দেখে এস।”—বলিয়া, ডাক্কারি ব্যাগ হাতে ঝলাইয়া, লীলা বাহির হইয়া গেল। সরোজ একটা দীঘনিঃশ্বাস ফেলিয়া আপন মনে বলিল, “কি জানি–কিছু বুঝতে পারছিনে!” বাসতবিকই, সরোজের নিকট লীলার ব্যবহার আজকাল অত্যন্ত দবোধ্য হইয়া পড়িয়াছে। নিজনে পাইয়া, তাহাকে কোনও রপে আদর করিতে গেলেই সে সরিয়া দড়িায়। মুখখানি সদাই বিষন্ন করিয়া থাকে। কে জানে, তার কি হইল। বাড়ী দেখিয়া ফিরিবার সময়, হরিনাথবাব সাধ্যভোজনের জন্য নিমন্ত্ৰণ করিয়া সরোজকে বিদায় দিলেন। লীলা তখনও রোগী দেখিয়া ফেরে নাই। রাত্রিভোজন শেষ হইলে, লীলা সরোজকে বলিল, “তুমি একটা বস—আমি বাবাকে শুইয়ে দিয়ে আসি।” দিবতলের ভিতরের বারান্দার রেলিং ধরিরা, সরোজ দাঁড়াইয়া রহিল। চৈত্র মাসের সুবিমল জ্যোৎসনা ধারায় গগন ভূবন প্লাবিত। মিনিট দশেক অপেক্ষা করিবার পর লীলা ফিরিয়া আসিল । সরোজ বলিল, “লীলা, এস এই বারান্দায় এস।” লীলা বারান্দায় গেলে সরোজ বলিল, “আজ কি সন্দের জ্যোৎসনা উঠেছে দেখ লীলা!” লীলা ক্ষীণ সবরে “বেশ ।” “আমার কি ইচ্ছে হচ্ছে জান ?—এই জ্যোৎস্নায়, দুজনে ময়দানে কিংবা ব্যারাকপুর রোডে খানিক বেড়িয়ে আসি। যদি হরকুম কর, সমখের বাড়ী থেকে এখনই আমি ফোন করে’ গাড়ীটা আনাই।” “তাঁর বিনা অনুমতিতে রাত্রে আমার সঙ্গে বেড়াতে পার না, এই কথা বলছ ত ? দুদিন বাদে যে তোমার স্বামী হবে, তার সঙ্গে রাত্রে তুমি বেড়াতে বেরলে বাবা নিশ্চয়ই রাগ করবেন না। বল লক্ষীটি—গাড়ী আনাই ?” - “সব কথাতেই না! না—না—না এই তোমার বলি হয়েছে। এমন পাষাণ কেন é२ "