পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হলে লীলা ? এমন ত তুমি ছিলে না –আচ্ছা, বেড়াতে না যাও না যাবে। এস এইখানে আমরা অনেক রাত্রি পয্যন্ত বসে দজনে গল্প করি। তোমাতে আমাতে একসঙ্গে বসে মনের কথা কইনি যেন কত কাল—কত বছর। এ ক'দিন একটি চমো পর্যন্ত দাওনি তুমি আমায়। এস—আজ একবার তোমায় বকে নিই।”—বলিয়া সরোজ লীলার হসত ধরিয়া তাহাকে নিজের দিকে আকষণ করিল। “মা”—বলিয়া লীলা হাত ছাড়াইয়া, দরে সরিয়া দড়িাইল । সরোজ দুঃখিত স্বরে বলিল, “কেন লীলা?—তুমি কি আমায় আর সহ্য করতে পারছ না ?—আমি কি তোমার চক্ষশীল হয়েছি ? তোমায় বিরক্ত করছি? চলে যাব ?" “না।” “ওগো মিস না”—ওগো ‘না সন্দেরী !—তোমার মুখে কি না ছাড়া অন্য কোনও কথা জীবনে আর শুনতে পাব না ?” লীলা বলিল, “সরোজ, তুমি মনে দুঃখ কোর না। তোমায় বিবাহ করা, আমার পক্ষে এখন অসম্ভব। আমি তোমায় যে বাক্য দান করেছিলাম—দয়া করে, সে বাক্য আমায় ফিরিয়ে দাও!” সরোজ লীলার কাছে সরিয়া আসিয়া, কিন্তু তাহাকে সপশ না করিয়া বলিল, “সে কি ? কি বলছ তুমি ? কেন, এক হস্তা আগে যা সম্ভব ছিল, আজ তা হঠাৎ অসম্ভব হল কেন ?—আমার নামে, আমার চরিত্র সম্বন্ধে কেউ কি কোনও মিথ্যা কথা তোমায় বলেছে—যা বিশ্বাস করে তুমি আমায় পরিত্যাগ করাই সিথর করেছ? যদি সে রকম কিছু শনে থাক—তবে জেনে—তা সঞ্চৈবাব মিথ্যা—মিথ্যা—কোনও সবার্থপর লোক, নিজ সবাথ সিদ্ধির চেষ্টায়—বা বিদ্বেষের বশবত্তী হয়ে, মিথ্যা করে তোমায় বলেছে!”—শেষ কথাগুলি অত্যন্ত উত্তেজিত ভাবেই সরোজ উচ্চারণ করিল। লীলা বলিল, “না সরোজ—তুমি শান্ত হও—সে রকম কোনও কথা কেউ আমায় বলেনি! কার এমন সাহস যে ও রকম কথা আমায় বলে ? আর, বললেই বা আমি তা বিশ্বাস করবো কেন ? না—তা নয়। তুমি জিজ্ঞাসা করেছ—এক হস্তা আগে যা সম্ভব ছিল, তা আজ অসম্ভব হয়ে দাঁড়াল কেন ?—কেন তা তোমায় বলছি, শোন। যখন তোমার আমার মিলন সম্ভব ছিল—তখন তোমার আমার সাংসারিক অবস্থাও সমান ছিল । এখন তুমি রাজার ঐশ্ববৰ্য্য লাভ করেছ—আমি যে ফকীরের মেয়ে সেই ফকীরের মেয়েই আছি। অবস্থাগত সাম্য না থাকলে, সে মিলন কি কখনও সখের হতে পারে ? তাই ত্ৰামি তামায় বিবাহ না করাই সিথর করেছি। আমি গরীবের মেয়ে, চিরকাল গরীব বই কাটিয়েছি—আজ তোমায় বিয়ে করে, রাজরাণীর মত জীবনযাপন করা আমার পক্ষে অসম্ভব—অসম্ভব। সে কলপনা পৰ্য্যন্ত আমার অসহ্য ! সে নিম—নিমের চেয়েও তেতো, আমায় গিলতে বাধা কোর না সরোজ। তুমি বলেছিলে আমায় ভালবাস। . যদি যথার্থই আমায় ভালবাস, তাহলে এ নিৰ্য্যাতন আমায় কোর না—আমি কিছুতেই তোমার হতে পারবো না সরোজ ! আমায় দয়া কর—আমায় ক্ষমা কর—আমায় মুক্তি দাও । আমার বকে তুমি মৃত্যুবাণ হেন ন+আমায় বেচে থাকতে দাও—তুমি আমায় ভুলে যাও—তুমি চলে যাও।” বলিয়া দই হাতে মুখ চাপিয়া, লীলা ঝর ঝর করিয়া কাঁদিতে লাগিল । সরোজ বলিল, “আচ্ছা লীলা, প্রথমটি পারবো না, তোমার দ্বিতীয় আদেশ আমি পালন করচি—আমি যাচ্চি। কিন্তু এও তোমায় জানিয়ে যাচ্ছি—তোমার প্রতি আমার সে ভালবাসা—কোনও দিন এক তিল কমবে না। ভুলতে আমি তোমায় পারবো না— অন্ততঃ কবরে যাবার আগে নয়। আচ্ছা তবে আসি।”—বলিয়া সরোজ মাতালের মত টলিতে টলিতে সিড়ির ব্যানিস্টর ধরিয়া নামিয়া গেল। Go)