পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্নান করিতেছিলেন, কম্পিত্যবরে উচ্চারণদষ্ট সংস্কৃত মন্ত্র পাঠ করিতেছিলেন এবং বিরলকেশ সমসণ মস্তকখানিতে সঘন করসঞ্চালন করিতে করিতে ডবের পর ডৰে দিতেছিলেন। সহসা তাঁহার নাবিবন্ধ শিথিল হইল, আমি তাঁহার টাকি হইতে খালত হইয়া অতি কোমল মত্তিকাশয়ন লাভ করিলাম। নানান্তে তীরে উঠিলে তিনি জানিষ্ঠে পারিলেন আমি হারাইয়াছি। আবার জলে নামিয়া দুই দণ্ড ধরিয়া ডাব পাড়িয়া অনেক ব্যথা অন্বেষণ করিলেন; আমার আশে পাশে তাঁহার হস্ত আসিয়া পড়িতে লাগিল, কিন্তু আমি যেখানকার সেইখানেই রহিলাম। স্রোতে স্রোতে চল পরিমাণ সরিয়া সরিয়া সমস্ত দিবারাত্রে, যেখানে পড়িয়াছিলাম সেখান হইতে দই হস্ত পরিমিত দরে গিয়া গড়িলাম। সেখানে মগ্ন-জল, সতরাং পরদিন স্নানের বেলা কেহই সেখানে আসিল না। আমি জলের ভিতর দিয়া জলতলবিহারী প্রাণিগণের আহার, ক্রীড়া, যুদ্ধ প্রভৃতি সমস্ত উদ্যম দেখিতে লাগিলাম। সে রাজ্য সম্পর্ণে অরাজক। সবল দলেবলের প্রতি অবাধে নিভয়ে অত্যাচার করে; কেহ তাহার প্রতিবাদ বা প্রতিবিধান করিতে অগ্রসর হয় না। কুম্ভীর, রাজার মত গভীর হইয়া বসিয়া থাকেন, কাহারও সহিত বাক্যালাপ করেন না। আর করিবেনই বা কাহার সঙ্গে ? কেহ তাঁহার নিকট ঘে"সিতেই সাহস করে না। মৎস্যগণ খুব আনন্দ করিয়া বেড়াইতেছে। চনা পটিরা কিছু চপল প্রকৃতির, প্রপিতামহ রোহিতের কন্ধে, পচ্ছে উঠিয়া নত্য করিতেছে। কক্কটিকুল আপন আপন বিবরে বসিয়া দাড়া নাড়িতেছে। এইরূপ জলবাসে আমার অনেক মাস অতিবাহিত হইল। জৈাঠের প্রচন্ড গ্রীমে গঙ্গা আপনার জল সরাইয়া সরাইয়া একদিন আমাকে স্বীয় কুক্ষি হইতে মুক্ত করিয়া দিলেন, কিন্তু আমার উপর কিয়দংশ কদমের আচ্ছাদন রাখিয়া গেলেন; বোধ হয় আশা ছিল, আবার শ্রাবণ ভাদ্র মাসে সময় ভাল হইলে আমাকে অধিকার করবেন। কিন্তু তাহা হইল না। একটি প্রৌঢ়া দাসী তীরে বসিয়া কটাহ মাজিতে মাজিতে অঙ্গলি দিয়া মাত্তিকা সংগ্ৰহ করিতেছিল, সে আমাকে দৈবধন বলিয়া ললাটে পশ করিয়া উত্তমরপ ধৌত করণান্তর অঞ্চলবধ করিল। অনেক রাত্রি হইয়াছে। তোমাকে আবার প্রভাতে গ্রামান্তরে রোগী দেখিতে যাইতে হইবে, সতরাং গল্প শেষ করি। সেই দাসীর হস্ত হইতে ব্রমে আমি বহনলোকের হস্ত অতিক্ৰম করিয়া ভিজিট স্বরুপ কেমন করিয়া তোমার হাতে আসিয়া পড়িলাম, সে কথার আর কাজ নাই, বিশেষ, উল্লেখযোগ্য ঘটনা তেমন কিছুই ঘটে নাই। একবার কেবল এক দুই বৎসরের শিশী কর্তৃক তাহার মাতার অজ্ঞাতে ফটেন্ত ভাতের হাঁড়ির মধ্যে নিক্ষিপ্ত হইয়া বিলক্ষণ বিপদে পড়িয়ছিলাম; কিন্তু হায় হায়! তাহার পর যে বিপদ ঘটয়াছে, তুলনা করিলে ভাতের হাঁড়ির সেই উত্তাপকে শীতলতাই বলিতে হয়। তুমি যখন গহিণীর সঙ্গে পরামর্শ করিয়া, একটা নতন মাখনল গড়াইবার জন্য বর্ণকার ডাকিয়া খাকীর মলের ভগ্নাংশের সহিত আমাকে অপণ করিলে, তখনি আমার আত্মাপরষ শকাইয়া গেল! তাহার পর সেই সদ্যরচিত মৃৎপাত্র হাফরে রাখিয়া বাঁশের চোঙায় ফৎকার দিকে দিতে যখন আমার সাক্ষাৎ যমরাপী কৈলাস সেকরা আমাকে তাহাতে ফেলিল, তখন উঃ—" আমি বলিলাম—“ভাই! আর কায নাই; কিন্তু আমাকে অপরাধী কর কেন ? আমার দোষ কি ?” মাখনল বলিল—তোমার আর দোষ কি? অদষ্ট ভিন্ন পথ নাই। আমার অদটে বাহা ছিল, তাহা ঘটিয়াছে। আমার জীবনী জনসমাজে প্রচার করিয়া তোমার এই অজ্ঞানকৃত পাপের প্রায়শ্চিত্ত করিও। ভাদ্র, ১৩০৩ ] b