পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দুই সপ্তাহ পরে বোম্বাই হইতে সরোজের নামে আর একখানি চিঠি আসিল । সরোজ সেখানি পাঠ করিয়া, মলানমন্খে কিয়ৎক্ষণ বসিয়া কি চিন্তা করিল। তারপর হঠাৎ তাহার মন্থখানি প্রফুল্ল ভাব ধারণ করল। চিঠিখানি পকেটে পরিয়া, সে তাড়াতাড়ি সান্যাল গহে গিয়া উপস্থিত হইল। বেলা তখন ১১টা। বয়ের নিকট শনিল, সাহেব আহার সারিয়া, পেন্সন আনিতে গিয় ছেন, *মস সাহেব উপরে আছেন। সরোজ উপরে গিয়া দেখিল, লীলা বসিবার ঘরে সোফায় পড়িয়া কি একখানি বাঁহ তাহার চেহারা অত্যন্ত শঙ্ক—এই দুই সপ্তাহেই সে অনেক রোগ হইয়া }গয়াছে। সরোজকে হঠাৎ প্রবেশ করিতে দেখিয়া, লীলা উঠিয়া বসিল—বিসিমতভাবে তাহার মুখপানে চাহিয়া রহিল। সরোজ আসিয়া, হঠাৎ লীলার গলা জড়াইয়া ধরিয়া তাহাকে গাঢ় চাবন করিয়া বলিল, “লীলা—ঈশ্ববর দয়া করেছেন। তোমার আমার মধ্যে রপোর যে পাহাড় উঠে আমাদের বিচ্ছিন্ন করে দিতে চেয়েছিল, ঈশ্বর সেটা সরিয়ে নিয়েছেন । এই চিঠিখানি পড়ে দেখ লীলা।”—বলিয়া খামখানি লীলার হস্তে দিল । . লীলা পত্ৰখানি বাহির করিয়া পড়িল – প্রিয় মহাশয়, গত মাসের ২০শে তারিখে আমরা আপনাকে তরযোগে, এবং ঐ তারিখে লিখিত পল্লযোগেও জানাইয়াছিলাম যে, আপনার ক্লীত জাৰ্মাণ লটারির টিকিটখানি ৫০ হাজার পাউন্ড টালিং প্রাইজ লাভ করিয়াছে। কিন্তু দুঃখের সহিত জানাইতেছি যে, ঐ সংবাদ ভুল; টেলিগ্রামের দোষেই ঐ ভুল ঘটিয়াছে। জামর্শণী হইতে যে টেলিগ্রাম আমরা পাইয়াছিলাম তাহাতেই স্পষ্টই লিখিত ছিল যে ৬৫৯৭৯ নং টিকিট ঐ ৫০ হাজার পাউণ্ড প্রাইজ লাভ করিয়াছে। উহা, আপনার টিকিটেরই নম্বর-তদনসারেই আপনাকে আমরা টেলিগ্রাম করিয়াছিলাম। কিন্তু গতকল্য আমরা জম্মীণী হইতে যে পত্র পাইয়াছি, তাহাতে লেখা আছে, ঐ প্রাইজ প্রাপ্ত টিকিটখানির নম্বর—৬৫৯৯৭-টেলিগ্রাফ কমচারীদের দোষে নম্বরটি এরপ ভাবে উলটাইয়া আসিয়াছিল। অতএব ভিক্ষা, আপনাকে এই ভুল সংবাদ প্রদানের জন্য আপনি আমাদের ক্ষমা করবেন।” ইত্যাদি পত্ৰখানি পাঠ শেষ করিয়া, লীলা বলিল, “এ কি কান্ড সরোজ !” সরোজ বলিল, “আর ত আমি রাজা নই ?” “না।” “ফকীরের সঙ্গে ফকীরণীর মিলন সক্ষপণ সম্ভব ত?’ “সম্ভব।” “এবং সঙ্গত ?” “এবং সঙ্গত।” “এবং, সেটা যত শীঘ্র হয়--তাই উচিত নয় কি ?” লীলা হাসিয়া বলিল, “নিশ্চয় উচিত, রাজা মশাই।” সরোজ বলিল, “আবার তুমি আমায় রাজা বলে গাল দিচ্ছ ?” “সে রাজা বলিনি—আমার হদয়ের রাজা!"—বলিয়া লীলা এই নতুন রাজার গলাটি দই বাহ দিয়া জড়াইয়া, কয়েকটি চক্রবন, নজর বরপ প্রদান করিল। একমাস পরে বিবাহ হইয়া গেল। বাড়ী কেনা হইল না; ষ্ট্রোলস রয়েসখানাও কেনা হইল না। সকল অবস্থা শুনিয়া, ফারমের বড় সাহেব সরোজকে চক্তি হইতে মন্তি দিলেন, কিন্তু একমাসের ভাড়া স্বরপ ৫০০ টাকা চাঞ্জ করলেন। লীলা তার গুহনা বেচিয়া ঐ টাকা শোধ করিয়া দিল। 48