পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তিনটি গরীব—গরীবানা ভাবে মহানন্দে বাস করতে লাগিল। বৎসরখানেক পরে, একটি ক্ষুদ্র নতন গরীব আসিয়া এই গরীবদের কুটীর আলোকিত করিল। সরোজও মুহডক্লাক হইল। সে সংবাদ শুনিয়া লীলা বলিল, “আমরা যদি হিন্দ হতাম ত বলতাম, খোকার পয়েই তোমার মাইনে বেড়েছে।” উপন্যাস কলেজ “সন্দরী যত হোক আর না হোক ভাল রকম লেখাপড়া জানা মেয়ে ভিন্ন, আর কাউকে বিয়ে করবো না”-ইহাই ছিল অবিনাশের আকৈশোর প্রতিজ্ঞা। একটি মাত্র iছলে—পিতা অবিনাশের এ আকাংক্ষা পরিণও করিয়াছিলেন। সে ম্যাট্রিকে এবং আই-এ-তে বত্তি পাইয়াছিল, ডবল অনাস লইয়া বি-এ পাস করিয়া এম-এ পড়িতেছে, দেশে কিছু বিষয় সম্পত্তিও আছে-এমন সপোর-বিবাহের বাজারে তাহার দর আট হাজার পর্যন্ত উঠিয়াছিল; কিন্তু সদয়-হাদয় পিতৃদেব নগদ ছয় হাজার টাকা লোকসান স্বীকার করিয়া, বেসরকারী কলেজের গরীব অধ্যাপক হরকুমার গাংগলীর কন্যাকে পত্রবধরপে গহে আনিলেন। বিশেষ করিয়া সন্দেরী বধ কামনা না করিলেও, প্রজাপতি অবিনাশকে সন্দরী বধাই দিলেন। কনের নাম সৰ্ষমা, বয়স ১৬ বৎসর, এ বৎসর সে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়াছে— রেজাল্ট এখনও বাহির হয় নাই। বিবাহ হইল ৫ই আষাঢ়। জ্যৈষ্ঠ মাসেই হইতে পারিত, কিন্তু জ্যেষ্ঠ ছেলের বিবাহ জ্যৈষ্ঠ মাসে হইতে নাই। অবিনাশের পিতা রাধাবল্লভ চট্টোপাধ্যায় মহাশয় খলনা জেলার অধিবাসী। পত্রবিবাহ জন্য সপরিবারে কলিকাতায় আসিয়া এক মাসের জন্য শ্যামবাজারে বাড়ী ভাড়া করিয়াছেন। ফলশয্যার রাত্রেই কনেকে বিশেষ ভাবে জেরা করিয়া অবিনাশ জানিতে পারিল যে, সে কবিতা লেখে এবং কবিতায় পরিপণ দুইখানি খাতা ভবানীপুরে তাহার বাক্সমধ্যে আছে। শনিয়া আনন্দে অবিনাশ যেন পাগল হইয়া উঠিল। বলিল, “আসবার সময় খাতা দুখানি আনলে না কেন সর্ষ ?—আমি দেখতাম !" নববধ বলিল, “সে খাতা আমি কাউকে দেখাই ?” অবিনাশ বলিল, “কিন্তু আমি কি কাউ ?” কনে বলিল, “তুমি কাউ হবে কেন, তুমি বল ।” বধরে এই রহস্যপটতায় একটা দীনবন্ধ বা ডি-এল রায়ের প্রতিভার সন্ধান পাইয়া অবিনাশ একেবারে মণধ হইয়া গেল। মনে মনে বলিল, “সাধে কি আর শিক্ষিতা মেয়ে বিয়ে করবো প্রতিজ্ঞা করেছিলাম ?”—কোনও কবিতা যদি মুখস্থ থাকে, তবে তাহাই শনিবার জন্য অবিনাশ বড়ই ব্যস্ত হইয়া পড়িল। কিন্তু কোনও কবিতাই সষমার মুখস্থ নাই। বরের আগ্রহ ও আক্ষেপ দর্শনে অবশেষে সে আশবাস দিল—“আট দিন পরে, আমার সঙ্গে তুমি ত ষোড়ে যাবে আমাদের বাড়ী, তখন দেখাব।” অবিনাশ বলিল, “আট দিন ধৈষ্য ধরে থাকাই বা যায় কেমন করে ?” দই হৃদয়তা এই আট দিনে এতই বিশাল ও গভীর হইয়াছে যে, অবিনাশের সিথর বিশ্বাস —বোধোদয় কথামালা পড়া কোনও মেয়ের সহিত বিবাহ হইলে, আট বৎসরেও তাহা হুইত কি না তাহা সন্দেহ। ৫৫ ৷