পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আটদিন পরে অবিনাশ “যোড়ে" শবশুরবাড়ী গেল। সত্রীর লিখিত কবিতা পাঠে তাহার অন্টাহব্যাপী আকুল আকাঙ্ক্ষা পরিতৃপ্ত হইল। কবিতাগলি পড়িয়া সে এতই প্রশংসা করিতে লাগিল যে, বেচারী সর্ষমা সত্য সত্যই লজিত ও সঙ্কুচিত হইয়া পড়িল। বলিল, “কি বল তুমি তার ঠিক নেই! ভারি ত কবিতা–তারই এত সংখ্যাতি!" অবিনাশ, রবিবাব কোট করিয়া বলিল, “পল্পসম অন্ধ তুমি অন্ধ বালিকা—জান না নিজে মোহন কি যে তোমার মালিকা!”—অবিনাশ মনে মনে প্রতিজ্ঞা করিল—যত শীঘ্র সম্ভব, কবিতাগলি পতাকাকারে সে ছাপাইয়া ফেলিবে। কলেজ খলিলেই মেসে বসিয়া স্বহস্তে খাতা নকল করিয়া পাণ্ডুলিপি প্রেসে দিবে। নিজালয়ে অষ্টাহ, বশরালয়ে অষ্টাহ–এই ষোড়শ দিন কোথা দিয়া যে কাটিয়া গেল অবিনাশ ভাল বুঝিতেই পারিল না। অবশেষে বিদায়-রজনী উপস্থিত হইল। গভীর নিশীথে, ঘন ঘন দীঘশবাস, পরস্পরের বক্ষে অবিরল অশ্রািজল সেচন ইত্যাদি ইত্যাদি একরকম শেষ হইলে অবিনাশ বলিল, “তুমি রোজ একখানি করে চিঠি আমায় লিখবে। নইলে আমার জীবন দাবহ হয়ে উঠবে—পড়াশনো চলোয় যাবে—আমি ফেল হব।” . সষমা বলিল, “তা লিখবো বইকি ! তুমিও আমায় রোজ একখানি চিঠি লিখবে ত ?” অবিনাশ বলিল, “নিশ্চয়, নিশ্চয়!" "আর ফি শনিবারে আসবে ত? বাবা ত তোমায় বলেই রেখেছেন—মা-ও যাবার সময় তোমায় বলবেন। শনিবার বিকেলে আসবে, রবিবার থেকে, সোমবার সকালে উঠে চা-টা খেয়ে মেসে ফিরে যাবে। কেমন, কথা রইল ত?” “নিশ্চয় নিশ্চয় –কিন্তু, অতদিন অতদিন বাদে এক একটিবার দেখা—সহ্য করা শক্ত যে সম! মাঝে অন্ততঃ একটি দিন—ধর বুধবার—তোমার মুখখানি আর একবার আমার দেখতে পাওয়া চাই।” সষমা ক্ষঃস্বরে বলিল, “কিন্তু তা কি করে হবে ?” অবিনাশ বলিল, “আমি তার একটা উপায় সিথর করেছি। তুমি, প্রতি বুধবারে, বেলা ঠিক আটটার সময়, তোমাদের ছাদে উঠে, উত্তর-পশ্চিম কোণটায় দাঁড়াবে। আমিও ঠিক সেই সময় হরিশ মখায্যের রোড দিয়ে যাব। যদিও এ বাড়ী গলির ভেতর, কিন্তু হরিশ মখায্যের রোড থেকে ছাদের প্রায় আধখানা বেশ দেখা যায় তা জান ত?” সষমা বলিল, “হ্যাঁ, তা জানি। হরিশ মথুষের রোড দিয়ে যখন বরস্টর যায় আমরা ছাদে উঠে দেখি কিনা।”—বলিয়া সষমা ফিক করিয়া একট হাসিল। হাসির কারণ জানিবার জন্য অবিনাশ ব্যস্ত হইয়া উঠিল। সষমা বলিল, “একটা কথা মনে হ’ল তাই হাসলাম।” “কি কথা—বল—বল।” * - “মনে হ’ল, এতদিন ছাদে উঠে পরের বর দেখে মরেছি, এখন নিজের বরটিকে দেখে বাঁচবো। কেবল রোশনাই, বাজনাবাদ্যি থাকবে না এই যা তফাৎ।” অবিনাশ প্রিয়তমার এই রসিকতায় স্বয়ং কালিদাসের কবিত্বমাধয্য উপলব্ধি করিল। আনন্দবেগ সম্বরণ করিতে না পারিয়া, তাহাকে হািদয়ে বধিয়া, চবনের ফাঁকে ফাঁকে বলিতে লাগিল, “কি ‘সন্দর তোমার ভাব; কি সন্দর তোমার প্রকাশ-ভঙ্গি! কিন্তু কেন রোশমাই থাকবে না? চোখে যাদের প্রেমের মাণিক জলছে, তাদের কি রোশনাইয়ের অভাব ? হৃদয়ে যাদের সবগের বীণা বাজছে তাদের অন্য বাজনার দরকার কি ?” অবিনাশ বশরালয় হইতে শ্যামবাজারে পিতামাতার নিকট ফিরিবার দিন দই পরেই, তাঁহাদের দেশে ফিরিবার সময় উপস্থিত হইল। অবিনাশ কিন্তু বাড়ী যাইবার কোনও উদ্যোগ করিল না। পিতাকে বলিল, “আর মোটে তিন হস্তা ত আছে কলেজ খলতে। আবার যাওয়া, আবার আসা, মিথ্যে কতকগুলো টাকা খরচ বইত নয়! তার চেয়ে বরঞ্চ &Vo