পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হইবে। ভাল গল্প ভাল উপন্যাসের জন্য প্রকাশকেরা, মাসিক সম্পাদকগণ হাহাকার করিয়া বেড়াইতেছেন, অথচ তাঁহারাই প্রতিদিন, নবীন লেখক লেখিকাগণের রচিত শত শত গল্প ও উপন্যাস, অনুপযন্ত বোধে প্রত্যাখ্যান করিতেছেন। ইহার একমাত্র কারণ, লেখক লেখিকাগণ কোন রপ ট্রোণং (তামিল) না পাইয়াই লেখনী ধারণ করিয়া থাকেন। রীতিমত গরপদেশ ভিন্ন, কোনও কায্যেই দক্ষতা লাভ করা যায় না। দেশের এই মহা অভাব দর করিবার জন্য কয়েকজন বিখ্যাত লব্ধপ্রতিষ্ঠ কথা-সাহিত্যিক মিলিয়া এই “উপন্যাস কলেজ” পথাপন করিয়াছেন। রীতিমত উপদেশ দিয়া, সাপ্তাহিক এক্সারসাইজ সংশোধন করিয়া শিক্ষাথিগণকে কথাসাহিত্য-রচনার কৌশল শিক্ষা দেওয়া হইবে । কলেজে দাইটি বিভাগ আছে—ছাত্র বিভাগ ও ছাত্রী বিভাগ। সোম, বন্ধ ও শুক্রবারে ছাত্র বিভাগে এবং মঙ্গল, বহপতি ও শনিবারে ছাত্রী বিভাগে লেকচারাদি হইবার বন্দোবস্ত হইয়াছে। ভত্তি হইবার ফী ১০ টাকা এবং মাসিক বেতন ৬ টাকা মাত্র। এখনও উভয় বিভাগে কয়েকটা করিয়া সীট খালি আছে—যাঁহাদের প্রয়োজন, সত্বর আবেদন করন। অন্যান্য বিষয় জানিতে হইলে, এক আনার ট্যাম্প সহ আবেদন করন। ঠিকানা —২২৫ নং সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, কলিকাতা।” বিজ্ঞাপনটির উপরিভাগে একটি স্বহং পাচতলা বাড়ীর ছবি আছে। বিজ্ঞাপনটি বার দই পড়িয়া, অবিনাশ কাগজখানি রাখিয়া চিন্তায় নিমগ্ন হইল। সল্লীর অসাধারণ কবিত্বশক্তি দশনে, তাহার মনে বড় অাশা হইয়াছিল যে, সাহিত্যক্ষেত্রে শ্ৰীমতী সষমা দেবীর পদাপণ মাত্র দেশময় একটা হৈ চৈ পড়িয়া যাইবে—তাহার বৈঠকখানায় পাতক-প্রকাশক ও মাসিক সম্পাদকগণের ভিড় লাগিয়া যাইবে, দেশশন্ধে লোক সমস্বরে বলিৰে, হাঁ, এতদিন পরে বাঙ্গালা ভাষায় খাঁটি কাব্যরসের আসবাদ পাওয়: গেল বটে। কিন্তু অবিনাশের সে মনের আশা মনেই লয় পাইয়া গিয়াছে। বিবাহের পর কয়েক মাস মধ্যে, সন্ত্রীর অনেকগুলি কবিতা একত্র করিয়া, অবিনাশ “পপহার" নামক একখানি বহি ছাপাইয়া বাজারে বাহির করিয়াছিল। কিন্তু পাপহারের আদর হয় নাই—আগাগোড়া সব কথা ভাবিলে এই সিদ্ধান্তই অনিবাৰ্য্য হয় যে, সমালোচকগণ ও পাঠক সাধারণ জোট বধিয়া ধৰ্ম্মম ঘট করিয়া, তার বউয়ের বইখানি বয়কট করিয়াছে। তা ছাড়া বই বাহির হইবার পর বছরখানেক ধরিয়া, সদষমার অন্ততঃ একশোটি মতন কবিতা, অবিনাশ ভিন্ন ভিন্ন মাসিকে পাঠায়—তার মধ্যে ৯৫টি ফেরৎ আসিয়াছিল, পাঁচটি মাত্র ছাপা হইয়াছিল, তাও মফঃস্বলের পত্রিকায়। এই কারণে, অবনাশ বড়ই ভগেনাদ্যম হইয়া পড়িয়াছে। সে স্থির বঝিয়াছে, কাব্যের যুগ এখন আর নাই;–এ যুগে স্বয়ং কালিদাস একখানি নতেন মহাকাব্যের পাণ্ডুলিপি হাতে করিয়া কলিকাতায় আসিলে, কোন প্রকাশকই নিজব্যয়ে তাহা ছাপাইয়া প্রকাশ করিতে সম্মত হইবেন না—অথচ তাঁহারাই রামা শ্যামা নিধের অতি গুচা উপন্যাসও গোগ্রাসে গিলিতেছেন ! বিজ্ঞাপনে যাহা লিখিত হইয়াছে—বঙ্গে গলপ উপন্যাসেরই যগই আসিয়াছে বটে। সুষমার মত প্রতিভাশালিনী লেখিকা যদি উপন্যাস রচনায় মন দেয়, তবে তাহার প্রতিষ্ঠা ও সাফল্য অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু উহারা বিজ্ঞাপনে ঐ যে কথা লিখিয়াছে, গরপদেশ ভিন্ন কেহ কোনও কায্যে দক্ষতা লাভ করিতে পারে না তাহাও ঠিক। ঐ কলেজেই বউকে ভৰ্ত্তি করিয়া দেওয়া অবিনাশের ইচ্ছা—এখন বউ রাজ হইলে হয় । - চার বউ রাজি হইল, কিন্তু অনেক তকবিতক মান-অভিমানের পর। সষমা বলিয়াছিল, “আমি না হয় একট ইংরেজিই শিখেছি, কিন্তু তা বলে মেম 喀 ত আর হইনি। জতো মোজা পরে ট্রামে চড়ে এ বয়সে আমি কলেজে যেতে পারি কখনও ?” (*