পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছয় পরদিনই অবিনাশ গিয়া সষমার ভত্তি হওয়ার ফী প্রভৃতি জমা দিল। সপ্তাহ পরে লেকচার আরম্ভ হইল। সেদিন অবিনাশ বেলা দুইটার সময় স্ত্রীকে তাহার কলেজে পৌছাইয়া, নিজকমে বিশ্ববিদ্যালয়ে গেল। বেলা চারটায় সৰ্ষমার ছটি হইবেঅবিনাশের কার্য্যও তৎপর্বেই শেষ হইবে। উপন্যাস কলেজে গিয়া সন্ত্রীকে লইয়া সে ট্রামে বাড়ী ফিরিবে। ছুটির পর রাস্তায় বাহির হইয়া সষমা সবামীকে বলিল, “ওগো দেখ, বলেছিল যে পঞ্চাশ জন পয্যন্ত ছাত্রী নেওয়া হবে—তা নয়, আমি নিয়ে মোটে সাতাশটি মেয়ে ত দেখলাম—আর সবাই কোথায় গেল ?” অবিনাশ বলিল, “আজ ত মেটে প্রথম কিনা। যারা ভত্তি হয়েছে, সবাই বোধ হয় আজ আসেনি। ক্ৰমে ক্ৰমে সব আসবে বোধ হয়।” ট্রামে উঠিয়া, দু'জনে বেশী কথাবাত্ত হইল না। বাড়ী আসিয়া বস্ত্রাদি পরিবত্তনের পর, চা খাইতে বসিয়া অবিনাশ জিজ্ঞাসা করিল, “আজ কি কি হল বউ ?” “আমরা সবাই ক্লাসে বসলাম। তার পর ঘণ্টা বাজলো, বর্ণনা শিক্ষার প্রোফেসার নপেন সোম এলেন। বোডের গায়ে একখানা মস্ত ছবি টাঙ্গিয়ে দিলেন। বড় বড় চলে, বড় বড় দাড়ি এক মিন্সে; চোখ দটো যেন ঠিকরে বেরচ্ছে; বয়স রিশের বেশী নয়। প্রোফেসার বললেন,—‘এই লোকটার চেহারা তোমরা সবাই এক মনে বেশ করে খানিকক্ষণ দেখ—তার পর, খাতায় এর চেহারার বণনা লেখ—আর, উপস্থিত এর মনের ভাব কি হওয়া সম্ভব—তাও অনমান করে লেখ —এই বলে তিনি পকেট থেকে এক তাড়া প্রফে বের করে, দেখতে বসে গেলেন। আমরা ছবিখানা দেখে, বণনা লিখতে লাগলাম।” "তার পর ?” “ঘণটা শেষ হলে, তিনি খাতাগুলো সব নিলেন। দ্বিতীয় ঘণ্টায় এক একখানা খাতা নিয়ে তিনি পড়তে লাগলেন, আর ভুল ত্রুটিগুলি সব বোঝাতে লাগলেন।” "তুমি কি লিখেছিলে ?” "আমি চেহারাটা বর্ণনা করবার পর লিখেছিলাম, প্রথম যৌবনে একটি মেয়ের সঙ্গে এর ভালবাসা হয়েছিল; কিন্তু মেয়ের বাপের ঘোর আপত্তি থাকায় বিয়ে হতে পারেনি। তখন দু’জনে পরস্পরের নিকট এই প্রতিজ্ঞা করে বিদায় নিয়েছিল যে, তারা আজীবন কৌমায্য ব্রত পালন করে, পরলোকে মিলনের আশায় থাকবে। মেয়েটি পিতৃগৃহেই রইল, যুবকটি মনের খেদে বনবাসী হল। দশ বৎসর পরে যুবকের ইচ্ছা হল—দর থেকে একবার তার প্রিয়তমাকে চোখের দেখা দেখে আসবে। বন ছেড়ে লোকালয়ে এসে দেখলে, তার প্রিয়তমা দিব্যি বিয়ে থাওয়া করে, ছেলে মেয়ের মা হয়ে সংসার ধৰ্ম্ম পালন করছে। তাই, দেখে, যুবকের মনে ভয়ানক দঃখ ও রাগ হয়েছে।” অবিনাশ বলিল, “এনক আডেনি। অন্য ছাত্রীরা সব কি লিখেছিল ?” সষমা বলিল, “সে সব অদভূত। কেউ লিখেছিল এ খন কিবা ডাকাতি করতে যাচ্ছে—কেউ লিখেছিল গাঁজা খেয়ে এ পাগল হয়ে গেছে—এই রকম সব।” “প্রোফেসর কি বললেন ?" “তিনি আমারটাই খব ভাল হয়েছে বললেন। বললেন, যে সকল লোকের সঙ্গে তুমি সংস্রবে আস,--তোমার স্বামী, আত্মীয় সবজন, দাসদাসী—সকলের মুখ দেখে তাদের মনের ভাবটা বিশেলষণ করতে সব্বদা চেন্টা করবে। মনস্তত্ত্বই হ’ল আসল জিনিষ—সেইটে যিনি যত নিপুণভাবে বিশ্লেষণ করতে পারবেন,—উপন্যাস রচনায় তিনি তত বেশী সিদ্ধিলাভ করবেন।”—বললেন, “তোমার ভিতর প্রতিভার সফর্মুলিঙ্গ রয়েছে, ৬১