পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীবিলাসের দািববুদ্ধি প্রথম পরিচ্ছেদ শ্ৰীবিলাসবাবর বিবাহিত-জীবন সখের ছিল কি দুঃখের ছিল, তাহা তিনি ঠিক বঝিতে পারিতেন না। তাঁহার সন্ত্রী সরোজবাসিনী যে তাঁহাকে যথেষ্ট ভালবাসেন, তাহার পরিচয় শ্ৰীবিলাস শত সহস্রবার পাইয়াছেন। কিন্তু এই ভালবাসার মধ্যরাশির মধ্যে, মাঝে মাঝে মধ্যমক্ষিকার হলের দংশনজম্বালা অনুভব করিয়া তিনি অস্থির হইয়া পড়িতেন। আসল কথাটা এই যে, তাঁহার সত্ৰীটি কিছু মুখবা ছিল। আর শ্ৰীবিলাসও BBBS BB BB BBB BBBBBB BBBBB BBBBBS BBB BB BB BBBBB BBBS জীবনের ঐক্যতানবাদনে সরে সহসা কাটিয়া গিয়া আগাগোড়া খাপছাড়া হইয়া যাইত। পবের কথা এই। শ্ৰীবিলাসের শ্বশুর হরিগোপালবাব-লক্ষেীয়ের সেই প্রসিদ্ধ হরিগোপালবাব। ও অঞ্চলের লোক, কে না তাঁহার নাম শুনিয়াছে; এবং—ধনী হউক, দরিদ্র হউক, পরিচিত হউক, অপরিচিত হউক,—কোন ভ্রমণকারী বাঙ্গালী তাঁহার বাড়ীতে অন্ততঃ একটিবারও পাত পাড়ে নাই ? তিনি বাসায় রাখিয়া খাওয়াইয়া, পরাইয়া, কত লোকের যে চাকুরি করিয়া দিয়াছেন তাহার কি সংখ্য আছে ? আহা, ওদিককার গরীব লোকে আজিও তাঁহার নাম করিয়া কাঁদিয়া মরে! সে কথা যাউক।--তাঁহাদের মেয়ের বিবাহ দেওয়া বড়ই কঠিন ব্যাপার ছিল । সারা বাঙ্গালা দেশে দলই তিনখানি মাত্র গ্রামে তাঁহাদের 'ফেরতা ঘর”-অর্থাৎ যাহাদের সঙ্গে বিবাহ দেওয়া চলে—ছিল । পার যুটানই মাসিকল ছিল; কিন্তু যদি পারও বা যােটল, তবে হয় সে একটি হস্তীমুখ, নয় ত একেবারে নিঃসব। একবার তিনি পজের সময় সপরিবারে কাশীতে আসিয়াছিলেন, সেই সময় পিতৃমাতৃহীন দশ বৎসর বয়স্ক শ্ৰীবিলাস তাঁহার আশ্রয়ে আসিয়া পড়িল । তাহাকে সবজাতীয় এবং “সবঘরের” দেখিয়া হরিগোপালবাব আগ্রহের সহিত কুড়াইয়া লইলেন; এবং লক্ষেীয়ে লইয়া গিয়া বিদ্যালয়ে ভত্তি করিয়া দিলেন। ছেলেটিব সৎ সবভাব ও বৃদ্ধিমত্তা দেখিয়া, তখন হইতেই তাহাকে স্বীয় ভাবী জামাতা বলিয়া সিথর করিয়া রাখলেন। সেই ভাবেই লালনপালন এবং শিক্ষার বন্দোবস্ত করিলেন । আঠারো বুৎসর বয়সে শ্ৰীবিলাস প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীণ হইল; তখন কন্যার বয়ঃক্রম বারো বৎসর হইয়াছে দেখিয়া হরিগোপালবাক দুইজনকে প্রজাপতির নিবন্ধে বাঁধিয়া দিলেন। এই শাভ ঘটনার পর তিনি একবৎসর মাত্র জীবিত ছিলেন। শ্ৰীবিলাস তখন এফ-এ পড়িতেছেন। হঠাৎ তাঁহার শবশরেমহাশয়ের বসন্তরোগে মৃত্যু হইল। এই আকস্মিক দৈবদর্ঘটনায় শ্ৰীবিলাসের পড়া বন্ধ হইল। শ্ৰাদ্ধাদি ক্রিয়। সম্পন্ন হইলে তাঁহার শবশ্রাঠাকুরাণী বাললেন,—“চল বাছা, আমরা দেশে গিয়ে থাকি। এই যমপুরী লক্ষেী সহরে আমি আর একদিনও টিকিতে পারিব না।” তাহাই হইল। লক্ষেীয়ের ত্রিতল বাড়ীটা একপ্রকায় সিকি মল্যেই বিক্ৰীত হইল। জিনিষপত্র কতক বিক্ৰীত, কতক বিতরিত এবং অবশিষ্ট গোলেমালে অপহৃত হইল। দিন পনের কুড়ির মধ্যে সমস্ত পরিকার। তখন সেই পরিবার চক্ষের জল ফেলিতে ফেলিতে বঙ্গদেশাভিমুখে যাত্রা করিলেন। শ্রীবিলাসের দী, হরিগোপালবাবর সবকনিষ্ঠা কন্যা ছিলেন। সরোজবাসিনীর আর দুই ভগ্নী এবং একটি ভ্রাতা ছিল। ভগনী দুইটি নিজ নিজ বশরালয়ে ছিল। ভ্রাতাটির নাম সতীশ, সাত আট বৎসর বয়স। সুতরাং শ্ৰীবিলাসই এখন এ পরিবারের অভিভাবক দেশে বাস করতে লাগিলেন। বৎসরখানেক ধরিয়া চতুদিক হইতে আত্মীয় কুটবেগণ একে একে আসিয়া বিগত দুর্ঘটনার জন্য সমবেদনা জানাইয়া গেলেন। সকলেই গহিণীকে কহিলেন—“জামাইটিকে বসাইয়া রাখা ভাল হইতেছে না। ইহাকে কলিকাতার సె