পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“আমি নিয়ে উনল্লিশটি ।” "কেন ? প্রথম দিনেই ছিল সাতাশটি। পঞ্চাশজন পৰ্য্যন্ত নেওয়া হবে—সে পঞ্চাশ ত কোন কালে পরে যাবার কথা। এত কমে গেল কি করে বউ ?” সষমা বলিল, “পঞ্চাশ কোনও দিনই হয়নি। একচল্লিশ বিয়াল্লিশ জন হয়েছিল। তার পর আবার অনেকে ছেড়ে দিলে ।” “কেন ? ছেড়ে দিলে কেন ?” “দজনার, ছেলে হবে বলে তারা চলে গেছে। প্রেমতত্ত্বের ব্যাখ্যা শনে সাত আটজন পালালো। আরও তিন চারজন তাদের স্বামীদের মত থাকলেও শবশরে বাশুড়ীর মত নেই, তাঁরা শুনে রাগ করেছেন, সেই ওজহাতে কলেজ ছেড়ে দিয়েছে। দেখ, আমারও কিন্তু আর ভাল লাগছে না—পাছে তুমি রাগ কর, সেইজন্যে এতদিন আমি তোমায় বলিনি। বিশেষ ঐ সরোজ রায়—যখন থেকে নবরধিমতে আমার গলপটা বেরিয়েছে, তখন থেকে আমার সঙ্গে যেন কি রকম ব্যবহার করে।” “কি রকম ব্যবহার করে ?” পরষ শিক্ষক আর যাবতী ছাত্রীর মধ্যে ষে শোভন ব্যবধানটুকু থাকা দরকার, তা সে আর রেখে চলছে না।” অবিনাশ হাসিয়া বলিল, “ওটা তোমার ভুল, সুষমা। তরণ সাহিত্যের তিনি একজন অত বড় লেখক-অত বড় কাগজের সমপাদক—হঠাৎ তাঁর প্রতি কোন মন্দ উদ্দেশ্য আরোপ করা তোমার উচিত নয়। তুমিই হলে ক্লাসের সবচেয়ে ভাল ছাত্রী—সবার চেয়ে তোমার উপরেই বেশী ভরসা রাখেন—তাই বোধ হয় একট আত্মীয়তার ভাব এসে পড়েছে। ওটা কিছু নয়।” কিছুদিন পরে সন্ধমার খকীর জর হইল । জরটা ক্ৰমেই বন্ধি পাইতে লাগিল। এই কারণে এক সপ্তাহ সুষমা কলেজ যাইতে পারিল না। সপ্তাহ পরে, খাকী আরোগ্য লাভ করিলে, অবিনাশ স্ত্রীকে আবার যথারীতি কলেজে পৌছাইয়া দিয়া আসিল। যথাসময়ে সন্ত্রীকে আনিতে গিয়া অবিনাশ শুনিল, আজ কলেজ বন্ধ—রসপণিমার ছুটি। সস্ত্রীর খোঁজ করিতে বারবান বলিল, মাইজদী বাড়ী চলিয়া গিয়াছেন। প্রবল জনরে তিনি কাঁপিতেছিলেন, চক্ষ দইটি লাল-সরসুখ হইয়াছিল, দবারবান ট্যাক্সি ডাকিয়া তাঁহাকে উঠাইয়া দিয়াছে। অবিনাশ মহা দীশচন্তাগ্রসর মনে ট্রামে বাসায় ফিরিল। বাসায় আসিয়া ভূত্যের নিকট শুনিল,—মাইজী কলেজ হইতে ট্যাক্সিতে ফিরিয়া আর উপরে উঠেন নাই, ঝিকে ডাকিয়া গঙ্গাসমানের বস্ত্রাদি আনিতে আদেশ দিয়া কালীঘাট যাতায়াতের জন্য তাহাকে ঠিকাগাড়ী আনিতে বলিলেন। গাড়ী আসিবামার খাকীকে ও বিকে লইয়া তিনি কালীঘাট যাত্রা করিয়াছেন। শুনিয়া অবিনাশ অত্যন্ত বিস্মিত হইল। জিজ্ঞাসা করিল, “তাঁর শরীর কেমন দেখলি ?” ভূত্য বলিল, “কেন, শরীর ত ভালই ছিল বাবা। তিনি বলেছেন, গংগাস্নান করে কালীঘাটে পজো দিয়ে তার পর ফিরবেন। বললেন বাবা এলে বোলে তিনি যেন না ভাবেন।” ব্যাপারটা অবিনাশের নিকট দভেদ্য প্রহেলিকার মত মনে হইল। প্রবল জবর ও রক্তচক্ষ লইয়া কলেজ হইতে যে মানুষ চলিয়া আসিল, বাড়ী আসিয়াই, তার জর ভাল হইযা গেল, সে গঙ্গানানে বহির হইল! হঠাৎ কালীঘাটে পজো দিবারই বা অর্থ কি ? যাহা হউক, অবিনাশ ধৈয্য সহকারে সত্ৰণীর প্রত্যাগমন প্রতীক্ষায় বসিয়া রহিল। অগট সন্ধার সময় সম্মা ফিরিল। সদ্যসনাতা, পরিধানে গুরদ, সীমন্তে মোটা করিয়া ৬৩