পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যোগবল না সাইকিক ফোস ? অধিক বয়স পৰ্য্যন্ত মেয়ের বিবাহ না দিয়া ইংরাজি বোডিং-এ রাখিয়া কলেজের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করিয়া তাহাকে “মেম সাহেব” বানাইবার পর, সে যদি পিতৃনিব্বাচিত পাত্রকে বিবাহ করিতে অসমত হয়—পিতামাতার অবাধ্যতা করে,—তবে সে দোষ কাহার ? মেয়ের, না তার পিতার ? নবগোপালবাব এখন স্বকৃত কমেরই ফলভোগ করিতেছেন । ইহার পরো নাম নবগোপাল চট্টোপাধ্যায়। বহিব্বটিীতে বাবচ্চি প্রকাশ্যভাবে মগাঁও রন্ধন করে, আবার অন্তঃপরে লক্ষীপজো ইতুপজাও হয়। আমদানী রপ্তানির কারবার-ব্লাইভ ট্রীটে ইহার বড় হউস অাছে, তিনটা ব্যাঙ্কে চলতি হিসাব, দুইখানা মোটর কার । দলটি পত্র সমবোধ ও প্রবোধ—সবোধ বিলাতে ; প্রবোধ প্রেসিডেন্সি কলেজে বি-এ পড়িতেছে। একটি মাত্র কন্যা প্রমীলা—সেই সৰ্ব্বকনিষ্ঠা—বয়স আঠারো বৎসর—চেহারাটিও ভাল। আই-এ পরীক্ষা শেষ হইলে সিমলা পাহাড়ে তার মাসি ও মেসোমহাশয়ের নিকট বায় পরিবত্তনে গিয়াছিল। সেখানে তার মাস, দই অবস্থানের পর, মাসিমা পত্র লিখিলেন, তাঁর কত্তার কোনও পাঞ্জাবী বন্ধর এক বিলাতফেরত পত্র নব্য ব্যারিস্টার মিস্টার যোশীর সঙ্গে প্রমীলার অত্যন্ত “ভাব” হইয়াছে—উহারা পরস্পরকে বিবাহ করিতে ব্যাকুল। নবগোপালবাব ইতিমধ্যে কিন্তু কন্যার জন্য অন্য একটি পাত্র ঠিক করিয়া ফেলিয়াছেন। রায় বাহাদর খেতাবধারী জমিদারের ছেলে, এম-এ এবং আইন একসঙ্গে পড়িতেছে, দেখিতেও সপেরাষ, কলিকাতায় বাপের পাঁচখানা বাড়ী আছে, ছেলে আইন পাস করিয়া এক বড় অ্যাটণি আফিসের অংশীদার হইবে সিথর হইয়া আছে। পত্রিটিকে কত্ত গহিণী উভয়েরই ভারি পছন্দ ; প্রমীলা সিমলা হইতে ফিরিলে আষাঢ় মাসে কিংবা শ্রাবণের প্রথমেই বিবাহ হইবে পরামর্শ হইয়া আছে। এমন সময় সিমলা পাহাড় হইতে ঐ ভয়ানক পত্র আসিল । নবগোপালবাবর মাথায় যেন বজ্রাঘাত হইল। পাঞ্জাবী পারটি ব্রাহ্মণ কিংবা অন্যজাতি, পত্রে তাহার কোনও উল্লেখ নাই। ব্রাহ্মণ হইলেও, বাঙ্গালীতে পাঞ্জাবীতে বিবাহ সমাজনিয়মের একান্ত বহিভূত কম —জাতি যাইবে । তাঁর গৃহিণী ত কাঁদিয়া কাটিয়া অস্থির হইলেন। পবে তাঁর ফিটের বারাম ছিল, এদিকে অনেক দিন সেটা আর দেখা দেয় নাই। আবার ফিট হইতে লাগিল। নবগোপালবাব, কন্যাকে টেলিগ্রাম করিয়া দিলেন, “তোমার জননী অত্যন্ত পীড়িতা, শীঘ্র এস।” টেলিগ্রাম পাইয়া প্রমীলা একটি মাসতুতো ভাইয়ের সঙ্গে কলিকাতায় প্রত্যাগমন করিল। মা কত সন্তুতি-মিনতি কত কান্নাকাটি করিলেন, পিতা কত বুঝাইলেন, শেষে রাগ করলেন, কিন্তু প্রমীলার মন আচল অটল ! সে বলিল, “যাকে আমি মনে মনে পতিত্বে বরণ করেছি, তার সঙ্গে তোমরা বিয়ে যদি না দাও ত আমি বরং চিরকুমারী থাকবে।--অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবো না।” দই গেজেট বহির হইল, প্রমীলা আই-এ পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীণ হইয়াছে। অন্য వ్రైట్హౌ * নবগোপালবাবর মখখানি সব্বদাই গম্ভীর, গহিণীঃ * ছোড়দা প্রবোধ কেবল বেনটির দঃখের সমদখোঁ। গহিণীর মুখখানি বিষন্ন, গ্রীমাবকাশের পর সমস্ত কলেজগুলি খলিল। কত্তা ও গহিণীতে পরামর্শ করিয়া প্রমীলাকে বি-এ পড়বার জন্য কলেজে ভক্তি করিয়া দেওয়াই স্থির করিলেন-পড়াশনা লইয়া থাকিলে, তব উহার মনটা একটু ভাল থাকিবে—এমন কি ক্ৰমে সেই অসামাজিক رئي\