পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চিনিয়ে দেবে ?” নগেন্দ্র বলিল—“তার জন্যে ভাবনা কি ? কথায়বাত্তায় আমি সে সব বের করে নেব।” च्चिऊौम्न अिब्रिट्छ्न्न এই ঘটনার দুই দিন পরে, বেলা বারোটার সমর, চাঁদপাল ঘাট হইতে নবীনা বৈষ্ণবীরয়ের নৌকা ছাড়িল। করুণাময়ের বাহাদরী আছে বটে। তিনজন যাবাকে সে চমৎকার ছদ্মবেশে সাজাইয়াছে। মুখমণ্ডল হইতে গল্ফেশমশ্রর চিহ্নমার তিরোহিত। চলেরই বা কি বাহার ! কে বলিবে তাহা কৃত্ৰিম । ছদ্মবেশে সাজাইতে করুণাময় বিশিষ্ট প্রতিভান্বিত। আদালমোরি গ্রামে চারীর শ্বশরোলয়। দিবসে চারিবার টীমার ছাড়ে। ষ্টীমারে এক ঘণ্টার পথ, নৌকায় যাইলে দই তিন ঘণ্টা লাগে। প্রথম টীমারে যাইবার পরামর্শ হইয়াছিল। কিন্তু টীমারে সহস্ৰলোকের নয়নপথবত্তী হওয়াটা যক্তিযুক্ত ও নিরাপদ মনে হইল না। তাই যাতায়াতের জন্য একখানি নৌকা ভাড়া করা হইয়াছে। নৌকাও ছাড়িল, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হইতে আরম্ভ হইল। বিপিন বলিল--"বিধাতার কি বিচিত্র লীলা! বিষবৃক্ষ গোড়া থেকেই বিষবৃক্ষ। আকাশে মেঘের ঘটাখান দেখ একবার। ওহে নগেন্দ্র, তোমার সৰ্য্যেমুখী কি বলে দিয়েছেন ?” নগেন্দ্র বলিল—“ভাৰ্য্যা সযমিখী বলে দিয়েছেন, মেঘ উঠলে ঝড়ের সম্পভাবনা দেখলে নৌকা ঘাটে লাগাতে। মাথার দিব্যি দিয়ে দিয়েছেন। তা, আন্দলের ঘাটে নৌকা বোধে একবার কুন্দনন্দিনীদের বাড়ীতে যাওয়া যাবে এখন।” চার কৃত্রিম ক্ৰোধের সহিত বলিল—“দর হতভাগ্য!” আকাশে মেঘ, গঙ্গাবক্ষে সিন্ধ সমীর-সঞ্চার। দেহ দোদুল্যমান, মন পলকপণ । তিনজনে নৌকার মুখের কাছে বসিয়া ক্ষেপণীর তালে তালে গান আরম্ভ করিল। এই গানগলা তাহারা দই তিন দিন ধরিয়া ক্ৰমাগত অভ্যাস করিতেছে"। পরীক্ষার অব্যবহিতকাল পাবে হলে প্রবেশ করিবার সময়, বালকেরা যেমন বহিগলা একবার শেষবার উলটাইয়া লয় সেইরাপ আর কি। বাবর মাঝিগলা দাঁড় টানিতে টানিতে সহাস্য নেরে উহাদের পানে কটাক্ষপাত করিতে লাগিল। বোধ হয় তাহারা ভাবিতেছিল, এমন আরোহী বহভাগে মিলে। বিপিন তাহাদের একটা ধমক দিয়া বলিল—“কি দেখছিস হাঁ করে ?” গানে গল্পে তিন ঘণ্টার পথ অতিবাহিত হইল ; মেঘ মেঘই রহিল, বটি হইল মা, ঝড়ও উঠিল না। লাভের মধো রৌদ্রক্লেশ নিবারিত হইল । রাজগঞ্জের ঘাটে নৌকা ভিড়িঝমাত্র, বৈষ্ণবী তিনজন এক এক লফে নিনে অবতরণ করিল। সন্দেরী সত্রীলোকের এইরুপ চপলতা ও তৎপরতা দেখিয়া সমসত লোক অবাক হইয়া ইহাদের পানে চাহিয়া রহিল। দুই চারিটা কুরসিকতার বাক্যও বৈষ্ণবীদের কর্ণে আসিয়া প্রবেশ করিল। বিপিন হাসিল, নগেন রাগিল, চারার কপাল ঘামিয়া উঠিল। রাজগঞ্জের ঘাট হইতে আন্দলে চারার শবশরোলয় একক্লোশ পথ। চার বলিল—“একটা ধীরে সাথে যাওয়া যাক চল। চারটের কমে আমার শবশরে ডিপেন্সারিতে যান না।” চাবর বশর আন্দলের প্রসিদ্ধ ডাক্তার রমণীমোহনবাব। বেশ হাতষশ, খাব পশার প্রতিপত্তি। বেলা এগারোটা বারোটার সময় তিনি “কল” হইতে ফিরিয়া আসিয়া নানাহার করেন। তাহার পর একটা বিশ্রাম করিয়া আবার বৈকাল চারিটার সময় বাহির হন। বাজারে তাঁহার ডিপেনসারি আছে, তাহারই তত্ত্বাবধান করিতে যান। আবার সন্ধ্য সাতটা সাড়ে সাতটার সময় বাড়ী আসেন। চাররি এ সমস্ত জানা ছিল। গৃহসন্ধানী ভিন্ন অপর কেহ কি চরি করিতে যাইতে সাহস পায় ? তিন বন্ধ অত্যন্ত ধীরে ধীরে অগ্রসর হইল। পাকা রসিতা হইতে নামিয়া বনপথ সংকীর্ণ পথ, দইধারে বন। এই বনের দশ্য কলিকাতাবাসী যবেকগণের পিপাসিত 3bడా