পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উদ্ভট বিবাহের বাসনা সে পরিত্যাগ করিতে পারে। তবে বোডিং-এ মেয়েকে আর রাখা । হইবে না, বাড়ী হইতেই প্রত্যহ কলেজে যাইবে। ‘. প্রমীলা নিয়মিত ভাবে কলেজ যায়। কলেজের ফেরৎ সব সময় বাড়ী আসে না, ভার সখীদের গহে গিয়া সময় যাপন করে। মেয়ের মন খারাপ, মা বাপ তাহাতে আপত্তি করেন না। সকুমারী-নানী তাহার এক সখীর, গত বৎসর নব্য ব্যারিস্টার বসন্ত রায়ের সাহিত বিবাহ হইয়াছে—তাহারা ভবানীপুরে বাস করে, প্রমীলা অনেক সময় সেই সকুমারীর গহে গিয়া দীঘ সময় যাপন করে। স্কুমারীও মাঝে মাঝে প্রমীলাদের বাড়ীতে বেড়াইতে আসে। কাত্তিক মাসের শেষে প্রমীলা জনরে পড়িল। জরের বিরাম হয় না। গৃহচিকিৎসক দত্ত সাহেব আশঙ্কা প্রকাশ করিলেন–জবরটা টাইফয়েডে না দাঁড়ায় ! সপ্তাহ অতীত হইল। রক্ত পরীক্ষা করিয়া, টাইফয়েডই সাব্যস্ত হইল। বড় বড় ডাক্তারদের পরামর্শ সভা বসিল। শুশ্রষার জন্য তিনজন মেম নাস নিযন্ত হইল । যথারীতি চিকিৎসা ও শাশ্রষা চলিতে লাগিল। মহা দুশ্চিন্তায় এক একটা করিয়া তিনটা সঙ্কটকাল উত্তীণ হইয়া গেল। স্কুমারী প্রত্যহ আসে। সারাদিন থাকে, বিকালে বাড়ী যায়। ক্ৰমে ডাক্তারেরা বলিলেন, আর আশঙ্কা নাই। কিন্তু অন্য একটা মহা বিভ্রাট উপস্থিত! গত তিন দিন প্রমীলার মখে কেহ বাক্যসফরণ হইতে শনে নাই। কোনও কথা জিজ্ঞাসা করিলে সে ইসারায় উত্তর দেয়। পিতা আসিয়া জিজ্ঞাসা করেন, “কেমন আছ মা ?” প্রমীলা মাথা হেলাইয়া জানায়—“ভাল।” মা আসিয়া বলেন, “ক্ষিধে পেয়েছে কি ? একটু বেদানার রস খাবে?” প্রমীলা মাথা নাড়িয়া জানায়—খাইবে না। ছোড়দা জিজ্ঞাসা করে—“তুই কথা কোসনি কেন পিমি ?” প্রমীলা ওঠযগল সঙ্কুচিত করিয়া জানায়—কি জানি ? “তুই কি কথা কইতে পারছিসনে ?” প্রমীলা সপষ্টভাবে মাথা নাড়িয়া জানায়—“না।” ডাক্তারেরা বলিলেন, ব্রেণের পাঁচ সেণ্টর ডিটাবড় হইয়াছে—একটা সন্থে হইলেই দেহে একট বল পাইলেই ওটা বোধ হয় আপনিই ঠিক হইয়া যাইবে। নিজের হইবার দশ দিন পরে প্রমীলা অন্নপথ্য করিল; কিন্তু কথা কহিল না। প্রমীলা এখন উঠিয়া হাঁটিয়া বেড়ায়—বই পড়ে—কিন্তু কেহ কোনও কথা জিজ্ঞাসা করিলে, ইসারায় অথবা কাগজে লিখিয়া উত্তর দেয়। পিতা কর্তৃক জিজ্ঞাসিত হইয়া কাগজে লিখিয়া দিল—“বাবা, আমি কথা কহিতে চেটা করিতেছি, কিন্তু পারিতেছি না।” আবার বড় বড় ডাক্তারদের বৈঠক বসিল; প্রেমকৃপসন প্রস্তুত হইল, ঔষধ সেবন চলিতে লাগিল; কিন্তু কোনও ফল দাঁশল না। পিতামাতা আত্মীয় সবজন তখন হতাশ হইলেন; সিথর করিলেন, মেয়েটি জন্মের মত বোবা হইয়া গেল। দঃখের দিন, একটি একটি করিয়া কাটিয়া যাইতে লাগিল। ज्रिन পজার ছটির পর আবার কলেজ খুলিয়াছে। নবগোপালবাব কন্যাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “মা, তুমি কলেজ যাবে না ?” - প্রমীলা একটা কাগজে লিখিয়া দিল, “না বাবা, আমি বোবা মেয়ে, কলেজে আমার ভারি লজা করবে।” নবগোপালবাব রামালে চক্ষ মাছিতে মছিতে বাহিরে চলিয়া ჯ%