পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গেলেন। নবগোপালবাব ও তাঁহার পত্নী, নানাবিধ উপায়ে দুঃখিনী কন্যার মনস্তুটির জন্য চেন্সটা করিতে লাগিলেন। কন্যার ব্যবহারের জন্য একখানি স্বতন্ত্র মোটর গাড়ী কিনিয়া দিলেন। সেই গাড়ীতে প্রমীলা সকালে বিকালে বেড়াইতে বাহির হয়। সকুমারীর বাড়ী গিয়াও মাঝে মাঝে সারাদিন যাপন করে। শীতকাল আসিল। কলিকাতা বিবিধ প্রকার আমোদ উৎসবে মাতিয়া উঠিয়াছে। ইংরাজী হোটেলগুলি, য়রোপ হইতে আগত ভূপৰ্য্যটনকারিগণে পরিপর্ণ। সংবাদ বাহির হইল, সমোহন-বিদ্যাপারদর্শী" (hypnotist) সাবাটিনি নামক একজন ইতালীয় ভদ্রলোক আসিয়া গ্র্যান্ড হোটেলে অবস্থান করিতেছেন। তিনি সমোহন-বিদ্যা বলে নানা দশিচকিৎস্য ব্যাধি আরোগ্য করতে পারেন। ক্ৰমে, সংবাদপত্রে আশ্চৰ্য্যজনক দই একটা আরোগ্য সংবাদ পাওয়া গেল। স্কুমারী আসিয়া প্রমীলার মাতাকে ঐ সমস্ত পড়িয়া শনাইল। নবগোপালবাবরে বন্ধগণ তাঁহাকে বলিতে লাগিলেন,—“আপনার মেয়েটিকে একবার দেখান না।” নবগোপালবাব বাড়ী গিয়া, বঙ্কিম গ্রন্থাবলী লইয়া “রজনী” উপন্যাসের অন্তগত “যোগবল না সাইকিক ফোস’ পরিচ্ছেদটি পাঠ করিলেন। “চন্দ্রশেখর” উপন্যাসেও, রামানন্দ স্বামী কর্তৃক, শৈবলিনীর সমোহন-ব্যাপারটিও মনোযোগ সহকারে পড়িলেন। গহিণীর সহিত পরামর্শ করিয়া পরদিন প্রাতে গ্র্যাণ্ড হোটেলে গিয়া সাহেবের সহিত সাক্ষাত করাই মিথর হইল। নবগোপালবাব ইংরাজী পোষাকেই গিয়াছিলেন। হোটেলের বারবানের নিকট সাহেবের কথা জিজ্ঞাসা করাতে, সে ব্যক্তি সসম্মানে তাঁহাকে বিতলে লইয়া গিয়া সাহেবের খাস চাপরাশির জিমা করিয়া দিল। চাপরাশ বলিল, সাহেব এখন ছোট হাজরি খাইতেছেন, দশ মিনিট মধ্যেই সাক্ষাৎ হইবে। বলিয়া তাঁহাকে একটি বসিবার কক্ষে লইয়া গেল। নবগোপালবাব দেখিলেন, কক্ষখানির সমস্ত দেওয়াল ও উপরিভাগ কৃষ্ণবর্ণ বস্ত্রে আবত, সেই বস্ত্রাবরণের স্থানে স্থানে বিভিন্ন বর্ণের রেশম সত্রের সচিকমেম' নানা অদ্ভুত অদভূত জানোয়ার ও মনষ্যের কঙ্কাল অঙ্কিত। এক কোণে টেবিলের উপর একটা মড়ার মাথা, অপর এক কোণে বিভিন্ন বর্ণের কয়েকটি সফটক গোলক রক্ষিত । নবগোপালবাব একটা চেয়ারে উপবেশন করিলেন। ঐ সব ককালের চিত্রের প্রতি চাহিয়া তাঁহার গা-টা যেন ছমছম করিতে লাগিল। তারপর ভাবিলেন, আমি ত কোনও জঙ্গলে, কোনও কাপালিক বা যাদুকরের গৃহমধ্যে আসিয়া উপস্থিত হই নাই! ইংরাজ রাজধানী কলিকাতা এবং তাহার সব্বোত্তম হোটেল—এখানে ভয় কি ? কিয়ৎক্ষণ পরে সাবাটিনি আসিয়া প্রবেশ করিলেন। সশ্রী যাবাপর্ষ, বয়স ত্রিশ বৎসরের অধিক হইবে না, চক্ষ দইটি বৃহৎ ও উত্তজবল, তারকায়গল ইংরাজের ন্যায় নীলবণ নহে—ইতালীয়গণের অনরপে কৃষ্ণবর্ণ। যুবক সহসাবদনে নবগোপালবাবর সহিত করমদন করিয়া ইংরাজী ভাষায় বলিলেন, “আমি আপনার জন্য কি করিতে পারি, মহাশয় ?” নবগোপালবাব তখন তাঁহার কন্যার পীড়ার কথা সংক্ষেপে বর্ণনা করিলেন। শনিয়া সাহেব নীরবে কিয়ৎক্ষণ চিন্তা করিয়া প্রশ্ন করলেন, “মেয়েটির বয়স কত ?” নবগোপাল। আঠারো। সাহেব। বিবাহ হইয়াছে ? নব। না—সে এখনও কলেজে পড়ে—অর্থাৎ পাঁড়ার পাব পর্যন্ত পড়িয়াছে। সাহেব। ক্ষীণাংগী না পথ লাঙ্গী ? নব । ক্ষীণাঞ্জগণ । সাহেব। গাত্রবণ কিরাপ ? নব। আমার চেয়ে ফস । عنوان