পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহেব। স্বভাব কিরুপ ? একগয়ে—ষা ধরেন তাই করেন ? না, অন্যে সহজেই তাঁহাকে চালিত করিতে পারে ? নব । না, অন্যে সহজে তাহাকে চালিত করিতে পারে না। মেয়েটি আমার বিলক্ষণ একগয়েই বটে। সাহেব। তরল-প্রকৃতি না গভীর ? মাফ করবেন মিটার চাটাডিজ-—তাঁহাকে হিপনটাইজ করা আমার পক্ষে সহজ হইবে, না কঠিন হইবে, তাহাই নির্ণয় করিবার জন্য এ সকল কথা আপনাকে জিজ্ঞাসা করিতেছি। নব । তাহা আমি বুঝিয়াছি। আমার কন্যা তরল প্রকৃতি নহে, বরঞ্চ গভীর। সাহেব। বেশ। আমি তাঁহার আরোগ্য-চেষ্টা করিতে প্রস্তুত আছি—অবশ্য সফল হইব কি না তাহা বলিতে পারি না। আপনার কন্যাকে আমি হিপ'নটিক নিদ্রায় অভিভূত করিব । করিয়া, তাঁহাকে কতকগুলি প্রশন জিজ্ঞাসা করিব । যদি তাঁহার এই ব্যাধির কোনও ঔষধ বা নিরাময়ের অন্য কোনও উপায় থাকে, তবে তিনি সেই হিপ'নটিক নিদ্রার অবস্থায় স্বয়ং তাহা বলিয়া দিবেন। যদি না থাকে, তবে তাহাও তিনি বলিবেন। আমার ফণী কত আপনি জানেন কি ? নব । না । সাহেব। হিপনটাইজ করিবার জন্য আমি ৫oo, লইব। যদি ব্যাধি আরোগ্যের উপায় করিয়া দিতে পরি—তবেই আর ৫oo, লইব ; নচেৎ আর কিছু লইব না। আপনি সক্ষমত আছেন ? নব। আহাদের সহিত । সাহেব। আপনার কন্যাকে কি এখানে লইয়া আসিবেন, না, আমি আপনার বাড়ীতে যাইব ? নব। আমার বাড়ীতে হইলেই ভাল হয়। সাহেব। আচ্ছা, তবে কাল রান্ত্ৰি ১০টার সময় আমি আপনার কন্যাকে হিপ'নটাইজ করিব। কাল সারাদিন মেয়েটিকে উপবাসী থাকিতে হইবে : জলবিন্দরটিও তাঁহার মুখে যেন না প্রবেশ করে। সারাদিন তিনি কোথাও বাহির হইবেন না, শয্যায় শ্যইয়া কাটাইবেন। আমার করণীয় শেষ হইলে, তবে তিনি খাইতে পাইবেন । আপনি কি আমায় লইতে আসিবেন, না আপনার ঠিকানা দিয়া যাইবেন ? এই অপরিচিত নগরে রাষ্ট্রে কিন্তু আপনার বাড়ী খুজিয়া পাওয়া আমার পক্ষে কণ্টকর হইতে পারে। নব। না, আমিই আসিয়া আপনাকে লইয়া যাইব । চেকখানাও সঙ্গে আনিব। “উত্তম। রাত্রি সাড়ে ন’টার মধ্যেই আপনি আসিবেন । গড় মণিং।” বলিয়া সাহেব উঠিয়া দাঁড়াইয়া হস্ত প্রসারণ করিলেন। নবগোপালবাব তাঁহার সহিত করমন্দন করিয়া বিদায় লইলেন । bोद्भ পরদিন বিপ্রহরে সকুমারী আসিল। প্রমীলার মাতা হিপনটাইজ করিবার ব্যবস্থা সম্বন্ধে সকল কথা তাহাকে জানাইলেন। সকুমারী বলিল, “দেখন, ঈশ্বর যদি মাখ তুলে চান।” ঘণ্টা দই প্রমীলার নিকট থাকিয়া, বিদায় গ্রহণ কালে সকুমারী বলিয়া গেল, “কি হল না হল শোনবার জন্যে আমার প্রাণটা ছটফট করবে মা—কাল বেলা দশটার পর, ওঁর সঙ্গেই আমি বেরব, ওঁকে হাইকোটে নামিয়ে দিয়ে সেই গাড়ীতেই এখানে চলে’ আসবো ।” “আসবে বইকি মা!”—বলিয়া গাহিণী সকুমারীকে বিদায় দিলেন। যথাসময়ে নবগোপালবাব সাহেবকে লইয়া আসিলেন। সাহেব প্রমীলার শয়নকক্ষে গিয়া, একটি চেয়ার নির্বাচিত করিয়া, উহাতেই তাহাকে বসাইলেন। সে কক্ষের মধ্যস্থলে বিদ্যুৎ-বাতির একটি ঝাড় জনলিতেছিল। সাহেব বলিলেন, “এত বেশী আলোতে సిసి