পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কলেজে পাঠাইরা দাও। ঈশ্বরেচ্ছায় তোমাদের ত কোন বিষয়ের অভাব নাই!”—বিধধt এই পরামর্শ যক্তিসঙ্গত বিবেচনা করিলেন। শ্ৰীবিলাস কলিকাতায় গিয়া এফ-এ বি-এ, এবং দুইবার অনুত্তীণ হইবার পর আইন পরীক্ষাতেও উত্তীণ হইলেন। এইরূপ ধ৩ তাট বৎসর অতীত হইল। শ্ৰীবিলাসের এখন সাতাশ আঠাশ বৎসর বয়স হইয়াছে—কিন্তু এ পর্যন্ত সন্তানাদি কিছুই হয় নাই। স্বামীর উপর সরোজবাসিনীর আরও অসন্তোষের কারণ ছিল যে, তাঁহার এতখানি বয়স হইল, তথাপি তিনি সিকি পয়সাও উপাত্তজন করিতে সক্ষম হইলেন না। এই সকল কারণে শ্রীবিলাস স্ত্রীর নিকট কিছু অপ্রতিভ হইয়া থাকিতেন। এই সময় তাঁহার আইন পরীক্ষার শেষ ফল বাহির হইল। এখন হইতে নিজেকে আর নিতান্ত অপদার্থ জীব বলিয়া মনে হইত না। সরোজবাসিনী তাঁহার অকৃতিত্ব সম্বন্ধে কোন কথা বলিলে, আর মৌনভাবে সহ্য না করিয়া একটা বিদ্রপের হাসি হাসিতেন। বলাবাহুল্য ইহাতে সরোজবাসিনীর সববাঙ্গটা জনলিয়া যাইত। এইরুপে আরও কয়েক মাস কাটিল । বঙ্গদেশের দষিত জলবায়র প্রভাবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়রপে টিমহামারের সদীঘকালব্যাপী ক্লিয়ায় শ্ৰীবিলাসের সবাসথ্যভঙ্গ হইয়াছিল । তাই তিনি পরামর্শ করিলেন, পাটনায় গিয়া ওকালতীর ব্যবসা করিবেন। শবশ্র বলিলেন—“সেই ভাল, তুমিও সেখানে ওকালতী কর, আর সতীশও স্কুলে পড়াক।” শভেদিনে দুই জনে পাটনা যাত্রা করিলেন। পাটনার আদালত ইত্যাদি বাঁকীপরে। সেইখানে বাসা করা হইল। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ দুই বৎসর অতীত হইয়াছে। খ্ৰীবিলাস এখনও ভাল পসার জমাইতে পারেন নাই। কোনও মাসের আয়ে বাসাখরচটার সংকুলান হয়—কোনও মাসে তাহাও হয় না। প্রথমে উকিলী পাস করিয়া শ্ৰীবিলাসের মনে যে আত্মমর্যাদার উন্নত ভাব উপস্থিত হইয়াছিল, তাহা এখন সম্পণেরপে তিরোহিত। সরোজবাসিনী আসিয়াছেন। সতীশ স্কুলে পড়িতেছে। শাশুড়ী ঠাকুরাণী এ পর্যন্ত বরাবর শ্ৰীবিলাসকে টাকা যোগাইয়া আসিয়াছেন; কিন্তু এখন ভারি অসন্তোষের ভাব। তিনি দেশে প্রায়ই আত্মীয় প্রতিবেশীদের কাছে স্বীয় মত স্বামীর বৃদ্ধির দোষ দিয়া বলিতেন,—“দেখ দেখি, এমন জামাই করিয়া গেলেন যে, তাহার টাকা যোগাইতে যোগাইতে আমাকে সব্বসবান্ত হইয়া যাইতে হইল । খতাইয়া দেখ, যে টাকা খরচ হইয়াছে, ইহার অন্ধেক টাকা বিবাহে ব্যয় করিলে একটা রাজা জামাই পাওয়া যাইতে পারিত। এত টাকা খরচ করিলাম, তবুও জামাইটি মানুষের মত হইল না।” ইদানীং শ্রীবিলাসও নিতান্ত অনিচ্ছার সহিত শাশুড়ীর সাহায্য গ্রহণ করিতেছিলেন, কারণ "গতিরন্যথা” ছিল না। যখনবায় যাহা, ঠিক সেই সময়ে মানুষের যদি তাহা হয়, তবে আর কোনই গোল খাকে না। কিন্তু শতকরা নিরানব্বই জনের অদটে তাহা ঘটে না। একে ত শ্রীবিলাসের ত্রিংশ বৎসর বয়স হইলেও সন্তান হইল না;—হিন্দ, বিশেষতঃ বাঙ্গালীর ঘরে ইহা একটা সামান্য দুভাগ্যের কথা নহে। তাহার উপর উপাত্তজন আশানরাপ ত নহেই—প্রয়োজনানরূপও নহে। এই দুইটি কারণে তাঁহার জীবনটা দৰব'হ বলিয়া মনে হইত। এ সমস্ত বেশ সহ্য হয়, যদি পত্নী অনুকলা হয়েন। এমন কোন সাংসারিক কট আছে, যাহা দাপত্য প্রণয়ের সিনগধমধর পশে নিতান্ত লঘু হইয়া না যায় ? কিন্তু শ্রীবিলাসের সী প্রণয়বতী হইলেও এই দুইটি ত্রটি ক্ষমা করিতে প্রস্তুত ছিলেন না। সে দিন রবিবারের সন্ধ্যা। সকাল হইতে ব্যটি হইতেছিল। আমাদের উকীলধাবর বৈঠকখানা ঘরে একটিও মন্ধেলনামক সেই প্রিয়দর্শন জীব উপস্থিত ছিল না। S a