পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মহাভারত অশুদ্ধ হয় না ?” কত্তা বলিলেন, “কুয়োর ব্যাঙ ! কুয়োয় বসে আছ, দনিয়ার খবর ত রাখ না! বিলেতের, আমেরিকার বড় বড় ডাক্তারদের আজকাল মত এই যে, ষোল বছরের কমে কখনই মেয়ের বিয়ে দেওয়া উচিত নয়। ষোল বছরের কমে কখনই আমি মেয়ের বিয়ে দেবো না—নিমালার দিইনি। আমার মত-বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কাজ করবো না—এই আমার প্রতিজ্ঞা।” গিন্নী বলিলেন, “তা আমরা ত বিলেতেও বাস কারনে, আমেরিকাতেও বাস কারনে । যে সমাজের যা প্রথা—” কত্তা বাধা দিয়া বলিলেন, “এই কলকেতা সহরে কত বড় বড় লোকের ঘরে, ষোল সতেরো কুড়ি বছরের পয্যন্ত আইবড়ো মেয়ে রয়েছে, সে খবর রাখ কুয়োর ব্যাঙ ? সেজন্যে তাদের কি কেউ নিন্দে করছে, না তারা সমাজে মুখ দেখাতে পারছে না ? ঐ ওৎলোর হাতে মেয়ে দেবার কল্পনাও কোরো না—সে অসম্ভব একেবারে।” “কেন, অসম্ভব কিসে শনি ? অতুলকে মেয়ে দিলে মেয়ে অজাতে পড়বে, না অঘরে পড়বে ?” “অ-জাতে পড়বে না তা সবীকার করছি, কিন্তু অ-ঘরে পড়বে নিশ্চয়। তবে তোমরা অঘর বলতে যা বোঝ আমি সে অথে* 芮1” “কি অথে বলছ তুমি ?” “তা হলে বঝিয়ে বলি, শোন। তোমার মেয়ে ধনী পিতার গহে আজন্ম প্রতিপালিত। ভূমিষ্ঠ হয়ে অবধি এতকাল সে যেভাবে জীবনযাপন করতে অভ্যস্ত, যে ঘরে গেলে সে সমস্ত সে না পাবে, সেই ঘরই তার পক্ষে অঘর। তোমার মেয়ে দামী জরিপাড় শান্তিপর ভিন্ন অন্য শাড়ী পরে না। একখানা শাড়ী একদিন পরা হলেই ধোবাকে ফেলে দেয়। রপোর থালা বাসনে খেয়ে-দেয়ে এমনই তার অভ্যাস হয়ে গেছে যে, কসিার থালা-বাসনে খেতে হলে তার গন্ধ লাগে। বিদ্যুৎপাখার তলায় না শলে রাত্রে তার ঘমেই হয় না। দুটো তিনটে দাসী সারাদিন তার পরিচয্যায় ব্যস্ত। সে কি তোমার ঐ দশো টাকা মাইনের অতুল-মাস্টারের ঘরে গিয়ে, মিলের শাড়ী পরে বটি পেতে কুটুনো কুটুতে পারবে, না শিল পেতে বাটনা বাটতে পারবে, না কয়লা ধরিয়ে ভাত রাঁধতে পারবে ?” গিন্নী নীরবে বসিয়া কিয়ৎকাল চিন্তা করিলেন । তাহার পর বলিলেন, “কেন, পারবেই না বা কেন ? হ’লেই বা বড় মানুষের মেয়ে। হিন্দুর মেয়ে ত—মেমসাহেব ত আর নয় ! নিজের সংসারে, নিজের স্বামী পুত্তরকে রোধে-বেড়ে খাওয়ান, ঘরের কাজকম করা—সেটা ত মেয়েমানুষের ভাগ্যের কথা। ও যদি বলে, আমি পারবো, ও যদি বলে আমি তাতেই খাসী, তবে আমরা কেন তাতে বাধা দিই? দটিতে ভাব হয়েছে বড়, এ বিয়ে না দিলে মেয়ে কিন্তু আমার অসুখী হবে, তা তোমায় বলে রাখলাম। শধে অসুখীই বা বলি কেন ? অধৰ্ম্ম হবে। মেয়েমানুষের যা প্রধান ধর্ম --সতীধৰ্ম্ম-তাতে আঘাত লাগবে ।” কত্তা কয়েক মহত্তে সবিসময়ে সত্রীর মুখের দিকে চাহিয়া রহিলেন। তাঁহার মািখমণ্ডলে বিরক্তি ও ক্ৰোধের চিহ্ন পরিসফট হইয়া উঠিল। তারপর বলিলেন, “ওঃ—এতদরে গড়িয়েছে? খুকী তোমাকে বলেছে বুঝি ঐ সব কথা ? অ্যাঁ, দটিতে ভাব হয়েছে বস্তু ? তাই নাকি ?”—বলিয়া বিদ্রপের ভঙ্গিতে ওঠযগল কুঞ্চিত করিয়া মাথাটি নাড়িতে লাগিলেন। গহিণী আনত-নেত্রে সভয়ে উত্তর করিলেন, “হ্যাঁ।” কত্তা বলিলেন, “ভাব হয়েছে ? অর্থাৎ লভ হয়েছে ? ওর গষ্ঠেীর পিন্ডি হয়েছে ! ডাক ত একবার হারামজাদীকে, কোথায় গেল ? সব কথা তার নিজের মুখে শনে একটা שף