পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এখন এই রাজার নামে সে স্থানের নাম মকুন্দনগর হয়েছে। রাজা উপাধি হলে কি হয়, অনেক মহারাজার চেয়ে টাকা বেশী।” গহিণী বলিলেন, “রাজা মুকুন্দনাথের নাম ত ছেলেবেলা থেকে শনছি। তাঁর বয়স হয়েছে নিশ্চয় ! এ বয়সে আবার বিয়ে করবেন নাকি ?” “দর পাগলী রাজা কেন, রাজকুমারের জন্যে। রাজা মকুন্দনাথের এক মামা, কুমারের গৃহশিক্ষক, তার এক বন্ধ, আর একজন জ্যোতিষী পণ্ডিত—এই চারজনে কুমারের জন্যে পাত্রী খাঁজতে বেরিয়েছে। আমাদের স্ব-শ্রেণীর লোক যিনি যেখানে আছেন, সকলের বাড়ী গিয়ে তারা মেয়ের সন্ধান করছে। তিন মাস হ’ল তারা এই কাজে বেরিয়েছে, নানা স্থানে ঘরে এখন তারা কলকাতায় এসে উপস্থিত হয়েছে।” “কুড়ি-একুশ ।” “স্বভাব-চরিত্র কেমন ? বড়লোকের ঘরের বওয়াটে ছেলে নয় ত ? তা যদি হয়, তা হলে কিন্তু তাঁকে মেয়ে দেবো না, তা তিনি রাজকুমারই হোন, আর বাদশা-কুমারই হোন ।” এই কথায় বরদাবাব একটু বিব্রত হইয়া পড়িলেন। লুচি ছিড়িয়া আলর দমে মাখিতে মাখিতে বলিলেন, “তা সবভাব ভাল হবারই সম্ভাবনা। অত বড় রাজার ছেলে ।” গিন্নী বলিলেন, “যা বললে! বড়লোকের ছেলের, রাজার ছেলের স্বভাব-চরিত্র কি আর বেগুড়ায় ? যত বেগড়ায় গরীবের ছেলের ! ষত গরীব কেরাণী, মাল্টার, এদের ছেলেরাই সচরাচর মদ খেয়ে কু-পল্লীতে পাড়ে থাকে, রাত্রে বাড়ী আসতে পারে না— নয় ?” কত্তা বলিলেন, “সে কথা বলছিনে ! তবে সহবৎ বলে একটা জিনিষ আছে ত? সে যাই হোক, মেয়ে যদি তাদের পছন্দই হয়, সে সব বিষয়ে খোঁজ খবর না নিয়েই কি আর বিয়ে দেবো ?” “কখন দেখতে আসবে ?” “কাল বিকেলে চারটে থেকে পাঁচটার মধ্যে। আমি তিনটের পরেই আপিস থেকে ফিরে আসবো।” “নিমালাকেও আনানো উচিত ত ?” বরদাবাব যেন কিঞ্চিৎ অনিচ্ছার সহিত বলিলেন, “আচ্ছা, আনিও তাকে।” অতঃপর বরদাবাব নীরবে জলযোগ সমাপ্ত করিলেন। তিনি যখন উঠিতেছিলেন, গহিণী তখন বলিলেন, “হ্যাগা, তবে যে বলেছিলে, মেয়ের ষোল বছর না হ’লে কোন মতেই বিয়ে দেবে না—তোমার মত-বিশ্ববাসের বিরুদ্ধে কাজ করবে না।” ভূত্য রূপার জগ হইতে জল ঢালিতেছিল, প্রকাণ্ড রুপার চিলিমচির উপর বরদান বাব হস্ত প্রক্ষালন করিতেছিলেন, সহসা কোনও উত্তর দিলেন না। মখোদি ধৌত করিয়া তোয়ালে দিয়া হাত মুছিতে মুছিতে বলিলেন, "এক সময় তাই বলতাম বটে। এখন ভেবে দেখছি, এরকম একটা সুযোগ যদি পাওয়া যায়—” গহিণী বলিলেন, “তা হলে বল, তোমার মত-বিশ্ববাস-ফিশবাস কিছুই নয়—ও-সব ভণ্ডামি মাত্র, তুমি একজন সযোগবাদী !” বরদাবাবর মনে হইল, সুযোগবাদী না হইলে কি তিনি এত বড় একটা এটণী হইতে পারিতেন ? কিন্তু সে ভাব গোপন করিয়া, মদ হাসিয়া বলিলেন, “দেখ গিন্নী, তোমায় যখন বিয়ে করে এনেছিলাম, তখন তখন তুমি ক-খও চিনতে না। নিজে রাত জেগে মাত্টারি করে তোমায় লেখাপড়া শিখিয়েছিলাম, তার কি এই প্রতিফল ?” “কেন ?” “নইলে আজ তুমি আমায় এমন সাধ-ভাষায় গালাগালি দিচ্চ!” Գշ