পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৬৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


"কখন আবার তোমায় আমি গালাগালি দিলাম ?” - “কেন, শালা না বললে কি গালাগালি হয় না ? ঐ যে তুমি আমায় সষোগবাদী বললে ।” “সেটা বঝি গালাগালি হ’ল ?” “ভয়ঙ্কর! তুমি যদি পরিবার না হয়ে খবরের কাগজের সম্পাদক হতে, তা হলে আমি তোমার নামে মানহানির নালিশ করে দিতাম।” সেই রাত্রিতেই সন্ধা শুনিল, রাজবাড়ীর লোকে তাহাকে দেখিতে আসিবে। শনিয়া তাহার প্রাণে বড়ই ভর হইল। এই তিন মাস কাল অতুলের সহিত সাক্ষাৎ নাই—পিতার আদেশে দিদির বাড়ী যাওয়া তাহার বন্ধ হইয়। গিয়াছে, তবে দিদি মাঝে মাঝে আসে বটে, এবং দিদির নিকট হইতে অতুলের সংবাদ পায়। দিদির মধ্যস্থতায় অতুলের সঙ্গে গোপনে সে পত্রব্যবহার কারবার অভিলাষও জ্ঞাপন করিয়াছিল, কিন্তু নিৰ্ম্মলা তাহাতে রাজি হয় নাই, বলিয়াছিল, “লা ভাই, কি জানি, বাবা যদি শেষ পৰ্য্যন্ত মত নাই করেন, সে সব তুই ভুলে যাবারই চেষ্টা কর।” সন্ধা বলিয়াছিল, "দিদির যেমন কথা ! চেষ্টা সে রাত্রিতে নিজ শয়নকক্ষে প্রবেশ করিয়া, আলো নিবাইয়া বিছানায় বসিয়া সন্ধা প্রথমটা খানিক কাঁদিল। তারপর আলো জালিয়া, নিজ আলমারি হইতে অতুলের নিবাইয়া অতুলের ছবিখানি বালিসের তলায় রাখিয়া মনে মনে দেব-দেবীগণের নিকট প্রার্থনা করিতে লাগিল, “হে মা কালী, হে মা দগণ, হে বাবা মহাদেব, হে বাবা জগন্নাথ ! তোমাদের চরণে কোটি কোটি প্রণাম। রাজবাড়ীর সেই পাজি ছ’চেগিলো আমায় যেন পছন্দ না করে।—আমায় যেন তারা বিষ নয়নে দেখে! আমি তোমাদের সবাইকের পজো দেবো—আমায় তোমরা রক্ষা কর, রক্ষা কর, রক্ষা কর।” আজ রারিতে সাধার ভাল ঘমে হইল না! মাঝে মাঝে জাগিয়া উঠে। দেব-দেবীগণের চরণে পরোক্ত প্রকারে প্রাথনা করিতে করিতে আবার ঘুমাইয়া পড়ে। অতুলের ছবিখানি দেখিতে ইচ্ছা হয়, কিন্তু ভয়ে আলো জালিতে পারে না, কারণ পাশের কক্ষেই মাতা শয়ন করেন এবং মাঝের দরজা খোলাই থাকে। পবে কতবার রাত্রি জাগিয়া নভেল পড়িতে গিয়া ধরা পড়িয়া মা'র নিকট বকুনি খাইয়াছে। আজ এমন করিয়াই রাত পোহাইল। বেলা একটার সময় নিন্মলাকে আনিবার জন্য গাড়ী পাঠানো হইল। দুইটার মধ্যেই - নিমালা আসিয়া পেপছিল। - রাজবাড়ীর লোকেরা যথাসময়ে আসিয়া কন্যা দেখিলেন। জ্যোতিষী-মহাশয় প্রথমে সধার কোষ্ঠীখানি পরীক্ষা করিয়া, অভিমত প্রকাশ করিলেন, “মেয়েটি সুলক্ষণা বটে।” রাজ-মাতুল বলিলেন, “বরদাবাব, এতদিনে আমাদের ভ্রমণ শেষ হ'ল। চার মাস কাল আমরা নানা স্থানে মেয়ে দেখে বেড়াচ্চি, কিন্তু আপনার মেয়ের মত এমন সন্দেরী সুলক্ষণা মেয়ে আমরা কোথাও পাইনি। রঙটার উপরেই রাজা-বাহাদরের বিশেষ রকম ঝোঁক। আপনার এই মেয়ের মত বা এর চেয়েও সত্ৰী মেয়ে যে আমরা দেখিনি, তা নয়। তবে গায়ের এমন বণটি আর কোথাও পাইনি। যাকে শাস্ত্রে আসল গৌরী ; বলে, এ মেয়ে তাই। এই মেয়েই আমাদের পছন্দ। আজ রাত্রেই আমরা দেশে ফিরবো, রাজাবাহাদরকে রাণীমাকে গিয়ে সব কথা বলি। কুমার বাহাদর হয়ত নিজে এসে একবার দেখতে চাইবেন। তারপর শুভকায্যের দিন স্থির করা যাবে। যদি অনুমতি করেন, আজ তা হ’লে আমরা উঠি।” বিবাহ-পরীক্ষায় মেয়ের এই উচ্চ অনাসের সহিত পাসের সংবাদে বরদাবাব আনন্দে বিহল হইলেন। কিঞ্চিৎ "মিস্টিম খ” করিয়া যাইবার জন্য ইহাদিগকে অনুরোধ १७