পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চক্ষতে বড়ই ভাল লাগিল। কখনও গাছের পাতা ছিড়িয়া বটানি বিদার আলোচনা করে, কখনও কোনও পচা শৈবালময় প্রকারণীর তীরে দাঁড়াইয়া বঙ্গদেশের ম্যালেরিয়ার কারণ আবিকার করে, কখনও একটা ভাগা শিবমন্দিরের সোপানে বসিয়া প্রত্নতত্ত্ববিদের মায় গাম্ভীয্যের সহিত তাহার বয়স নির্ণয় করে, আর কখনও বা একটা বনের ফল তুলিয়া দংশন করিয়া দেখে তাহা আহারযোগ্য কি না। একবার একটা হেলে সাপ বাহির হইয়া কিলবিল করিতে করিতে তাহদের পায়ের অতি নিকট দিয়া চলিয়া গেল। সাপ দেখিবামাত্র তাহারা অৎিকাইয়া সাত হাত পিছ হটিয়া গেল এবং ওজস্বিনী ভাষায় সপজাতির বিরদ্ধে বক্ততা ও মন্তব্য প্রকাশ করিতে লাগিল। এই সময় হঠাৎ বটি আসিল। কোথায় আশ্রয় ? চারিদিকে বন। দরে কেবল একটা ভগ্ন জীণ মন্দির রহিয়াছে। চার ও বিপিন বলিল—”এই তেতুল গাছটার তলায় দড়িাই এস। কোথায় ও মন্দিরে যাবে, সাপ আছে না কি আছে!" নগেন বলিল—“যদি বেশী আসে, বলিয়া সে মন্দির লক্ষ্য করিয়া ছটিল। চার ও বিপিন বক্ষতলেই দাঁড়াইয়া রহিল। মন্দিরে পেশছিয়া নগেন্দ্র দেখিল, ভিতরে কোন দেবমত্তি নাই, কেবল একটা ছাগল দাঁড়াইয়া রহিয়াছে। একজন দরোয়ানবেশী ষণ্ডামাকখোটা সেও ছয়টিতে ছটিতে আসিয়া প্রবেশ করিল। নগেন্দ্রকে দেখিয়াই সে ব্যক্তি ফিক করিয়া হাসিয়া ফেলিল। নগেন্দ্র নিতান্ত আমোদ বোধ করিল। তাহাকে স্ত্ৰীজনোচিত কোমলতার সহিত জিজ্ঞাসা করিল—“তুমি কে গে। 2” “আমার নাম নাথ মণ্ডল। আমি রাজাদের বাড়ীর দারোয়ান।" এই সময় অন্ধকার করিয়া জলটা খুব জোরে আসিল। সে ব্যক্তি নগেনের কাছে খেসিয়া দাঁড়াইল। একগাল হাসিয়া বলিল—“বোটমী দিদি তুমি বড় খপসািরত।” Hrগন্দ্র সরিয়া দড়িাইল এবং বিরক্তির সহিত অন্যদিকে চাহিল। সহসা লোকটা নগেন্দ্রের চঞ্চন্ধে হস্তাপণ করিল। মহেনত্তের মধ্যে নগেন্দ্রের ধজমটি প্রচন্ডবেগে তাহার নাসিকায় পতিত হইল। এই অতকিত আঘাতে সে ঠিকরাইয়া দেওয়ালের উপর পড়িল। তাহার নাসিকা দিয়া ঝর ঝর করিয়া রক্ত বহিল। পীলোকের নিকট এ প্রকার মার খাইয়া সে ব্যক্তি প্রথমটা হতভম্বব হইয়া . পড়িল । কয়েক মহত্তে অতীত হইলে, তাহার রসিকতা দারণ রোষে পরিণত হইল। চক্ষ পাকাইয়া দন্তে দন্ত ঘষণ করিয়া সে বলিল—“মেয়েমানুষ হয়ে আমার সঙ্গে লড়ীণ হারামজাদি ? আমি তোকে খন করে এইখানে পতে ফেলব।” বলিয়া সে নগেন্দ্রকে আক্ৰমণ করিল। নগেন্দ্র দািবর্ভূক্তটার উপর শিক্ষিত হস্তে ঘ:সির উপয় ঘসি চালাইতে লাগিল। ক্রমে রসিকচড়ামণি জখম হইয়া পড়িলেন। তখন নগেন্দ্র জাহাকে মন্দিরের কোণে ঠাসিয়া, বিপলে বলের সহিত বামহস্তে তাহার বক্ষ এবং দক্ষিণ atঙ্গও তাহার গলা চাপিয়া ধরিল। সে ব্যক্তি যাতনায় কাতর হইয়া গোঁ গোঁ শব্দ করিতে

  • r" জলটা ছাড়িয়া যাওয়াতে এই সময়ে চার ও বিপিন আসিয়া পেশছিল। ব্যাপার

দেখিয়া নিমেষের মধ্যে তাহারা সমস্তই বঝিতে পারিল। বলিল-“নগেন কল্লি কি ? tশখে কাঁচক বধ ? ছাড় ছাড়—মরে যাবে বেটা।” ক'bণ দেখিল, একজন দ্রৌপদী ছিল, তিনজন হইল—আতঙ্কে তাহাব প্রাণ উড়িয়া ঙ্গেল । কাতর কণ্ঠে বলিতে লাগিল-—“ছেড়ে দে মায়ি! দোহাই মায়ি । তোদের পায়ে পড়ি , " - দগোপদ বলিল—“আর কখনো করবি এমন কাজ ?” "মা খায়ি। আর কখনো করব না মায় ।” গণোপন্ন তাহাকে ছাড়িয়া দিয়া বলিল—“দে বেটা নাকে খৎ দে। এক হাত মেপে ।” 'RS