পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৬৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করিলেন। পরে হইতেই বিলক্ষণ আয়োজনাদি চলিতেছিল। শধ্যে মিস্টরসে নহে, ষডুরসে রসনা পরিতৃপ্ত করিয়া আগন্তুকগণ বিদায় গ্রহণ করিলেন। গহিণীও আনন্দিত হইলেন। এ তিন মাসে তাঁহার মনে ধারণা জমিয়াছিল যে, সন্ধা অতুলকে ভুলিয়াছে। মেষে রাজরাণী হইবে, এ সংবাদে কোন মাতা না আনন্দিত হইবেন ? সধার কিন্তু কাঁদিয়া কাঁদিয়াই রাত্রি কাটিল। অবশেষে সে মনে মনে সিন্ধান্ত করিল,—দেব-দেবীগণ সমস্তই ঝুটা;-হিন্দধাম একেবারেই ফাঁকি। - তিন কুমার-বাহাদর কবে সন্ধাকে দেখিতে আসিবেন, এই চিন্তায় বরদাবাব দিবানিশি ব্যস্ত রহিলেন। সপ্তাহান্তে মকুন্দনগর হইতে, পর আসিল। রাজ-মাতুল লিখিয়াছেন, “আমরা ফিরিয়া আসিয়া রাজা-বাহাদর ও রাণীমার বরাবর আপনার কন্যার বিষয় সবিশেষ বর্ণনা করিয়াছি। শনিয়া তাঁহারা অত্যন্ত খসী হইয়াছেন। কুমার-বাহাদর যাইবেন না, তবে রাজা-বাহাদর স্বয়ং একবার গিয়া আপনার কন্যাকে দেখিবার ইচ্ছা প্রকাশ করিয়াছেন। কিন্তু এখন তিনি রাজকাযে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকা বিধায়, বোধ হয়, আগামী মাসের পনরই তক কলিকাতা যাত্রা করতে পারবেন।” সতরাং রাজা-বাহাদরের শুভাগমনের এখনও প্রায় একমাস বিলম্ব আছে জানিয়া বরদাবাব; আবার নিজ কাজকমে মনঃসংযোগ করিলেন। অতুলবাব তাঁহার বন্ধ বিনয়বাবর মখে বরদাভবনের সকল সংবাদই পঞ্চখান,পািখ ভাবে পাইয়া থাকেন। মকুন্দনগর রাজবাড়ীর লোকেদের মেয়ে দেখার কথা, গাত্রবণ" সম্বন্ধে রাজাবাহাদরের বিশেষ ঝোঁকের কথা এবং একমাস পরে রাজাবাহাদর যে স্বয়ং কন্যা দেখিতে আসিবেন, সে সংবাদও পাইলেন। দই বন্ধতে অত্যন্ত গোপনে কি পরামর্শ চলিতে লাগিল। অতুলবাব প্রত্যহ নিজ কলেজের পর প্রেসিডেন্সি কলেজে গিয়া বিনয়বাবর রসায়নাগারে দই তিন ঘণ্টা করিয়া কাটাইতে লাগিলেন। উভয়েই রসায়ন শাস্ট্রে সাপড়িত। উভয়ে মিলিয়া কি সব রাসায়নিক পরীক্ষা করিতে লাগিলেন তাঁহারাই জানেন। সপ্তাহকাল দুইজনে প্রেসিডেন্সি কলেজে বসিয়া এইরপে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালাইলেন। তাহার পর একদিন নিম্মলা কিসের একটা শিশি বস্ত্রমধ্যে লুকাইয়া পিত্রালয়ে গিয়া তাহার কনিষ্ঠাকে দিল। চাপি চপি কি সব উপদেশও তাহাকে দিয়া আসিল। সন্ধা শিশিটা নিজ আলমারির মধ্যে লুকাইয়া রাখিল। ইহার কয়েকদিন পরে, সন্ধ্যার পর কত্তা-গহিণীতে কথাবাৰ্ত্তা চলিতেছিল। রাজা বাহাদরের আসিবার ত অধিক বিলম্ব নাই—এক সপ্তাহ মাত্র। মেয়ে দেখিয়া, তবে বিবাহের দিনপ্ৰিথর হইবে, সে বিষয়ে যদি মতামত জিজ্ঞাসা করেন, তবে তাঁহাকে কি বলা যাইবে, এই সম্বন্ধে বরদাবাব পত্নীর সহিত আলোচনা করিতে চাহিলেন। গহিণী বলিলেন, "দিনন্থির ত করবে, কিন্তু মেয়ের ভাবভঙ্গি দেখে আমি যে মোটেই সাহস পাচ্চিনে।” “কেন, কি ভাবভঙ্গি দেখলে ?” সেইদিন তারা এসে মেয়ে দেখা অবধি, ও যেন কেমন মনমরা হয়ে থাকে। মুখে হাসি নেই, ভাল করে খায় না,-রাত্রে বিছানায় শয়ে শয়ে কাঁদে এও আমি টের পেয়েছি। দেখছ না, কি রকম রোগা হয়ে যাচ্চে, ভেবে ভেবে বাছার আমার সোণার বরণ কালী হয়ে যাচ্চে। মেয়ে ডাগর হয়েছে, তার অমতে জোর জবরদস্তি করে বিয়ে দিতে চাইলে শেষে হিতে বিপরীত হয়ে না দাঁড়ায়।” ११