পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বরদাবাব বলিলেন, “রাজা-বাহাদর পৌছে গেছেন নাকি ? বেশ বেশ। তা আজ বিকেলে যদি তিনি আসেন তাতে আমার কোনই অসুবিধে নেই। আমি বরঞ্চ নাটোররাজবাড়ীতে গিয়ে তাঁকে সঙ্গে করে নিয়ে আসবো। কটার সময় যাব বলন দেখি ?” লোকটি বিনীতভাবে বলিল, “আপনি আবার কাট করবেন কেন ? আমি ত বাড়ী দেখে গেলাম। আমিই তাঁকে সঙ্গে করে আনবো। আচ্ছা যদি অনুমতি হয়, এখন তা হ’লে উঠি।”—বলিয়া সে উঠিয়া দাঁড়াইল । বরদাবাব বলিলেন, “বসন বসন, তাড়াতাড়ি কি ? একট চা খেয়ে যান।" লোকটি বলিল, “আজ্ঞে তা আপনার আদেশ অবশ্যই পালন করবো। কিন্তু তার সঙ্গে আরও একট প্রার্থনা আছে।” “কি, বলন।” ”মাকে—আমাদের বউ-রাণীমাকে এখন একবার দেখতে পাব না ? ও-বেলা অবশ্য রাজা-বাহাদরের সঙ্গে এসে ত দেখবই। কিন্তু মা’র রূপ-গুণ সম্বন্ধে যে রকম বর্ণনা শুনেছি,—তাঁকে একটিবার দেখবার জন্যে মনটা বড়ই উতলা হয়েছে।” বরদাবাব ভূতাবার সধাকে ডাকিয়া পাঠাইলেন। এক মিনিট পরেই সাধা আসিয়া বলিল, “ড্যাডি, আমায় ডাকছেন ?" “হ্যাঁ মা। মকুন্দনগর রাজবাড়ী থেকে এই ভদ্রলোকটি আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। তোমার মাকে গিয়ে বল এর জন্যে এক পেয়ালা চা, আর কিছয় খাবার যেন পাঠিয়ে দেন।” লোকটি বলিল, “বরদাবাব থাক থাক। চা খাব ওটা ভুলে বলেছি। আমার এখনও যে স্নান-আহ্নিক হয়নি সেটা খেয়ালই ছিল না। মা লক্ষিম, তুমি বাড়ীর ভিতর যাও ত!” একে ত মকুন্দনগর রাজবাড়ীর নাম শুনিয়াই সন্ধা জবলিয়া গিয়াছিল। কে এ ব্যক্তি যে এমন আদেশের সবরে তাহার সহিত কথা কহে ? উভয় নেত্ৰ হইতে লোকটার প্রতি অগ্নিবাণ হানিয়া সন্ধা প্রস্থান করিল। সে চলিয়া যাইবামার আগন্তুকের মুখ হইতে সেই বিনীত ও নম্রভাব একেবারে তিরোহিত হইয়া গেল। ব্যঙ্গপািণ-স্বরে তিনি বলিলেন, “এইটিই ত আপনার মেয়ে সন্ধাংশ ? মকুন্দনগরের রাজবাড়ীর লোকেরা এই মেয়েকেই ত দেখে গিয়েছিল ?” কথা বলার ধরণে বরদাবাব একটী রন্টভাবে বলিলেন, “হ্যাঁ, তাই।” লোকটি দাঁড়াইয়া উঠিয়া বলিল, “কেন মশাই, আর কি জনচরি করবার জায়গা পেলেন না ? এই মেয়ে আপনার আমর্শণী বিবির মতন সন্দরী ? এ ত রীতিমত -শ্যামবর্ণ—কালো বললেও অন্যায় হয় না। বলি, কি রং-টং আরক-টারক মাখিয়ে রাজবাড়ীর লোকেদের চোখে সেদিন ধলো দিয়েছিলেন, বলন ত ?” . বরদাবাবও কন্ধভাবে দাঁড়াইয়া উঠিয়া বলিলেন, “মশাই, স’রে পড়ন দেখি। ফের যদি কোনও অপমানসচক কথা এখানে উচ্চারণ করেন, তবে দারোয়ান দিয়ে আপনাকে বের করে দেবো। আপনার রাজাকে গিয়ে না হয় বলবেন আমার মেয়েকে যে রকম দেখে গেলেন,—তাতে তিনি আমায় মেয়েকে না নেন, নাই নেবেন!” লোকটি বলিল, “রাজা-বাহাদরকে কোনও কথা বলবার দরকার হবে না—কারণ আমিই রাজা মুকুন্দনাথ রায়। আমি ইচ্ছা করেই একদিন আগে কলকাতায় এসেছি—আর, মেয়ের যথাৰ্থ বরপ কি তাই দেখবার জন্যেই, নিজের কর্মচারী সেজে অসময়ে এ ভাবে এসেছি। কারণ, আমি জানি, কলকাতার লোকেরা অনেকে ভয়ানক জোচ্চোর। তার উপর বাঙ্গাল দেশের লোককে গো-গম্মদভ বলেই মনে করে—ভাবে বাঙ্গালকে సె --