পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অতি সহজেই ঠকানো যায়। কিন্তু সেটা আপনাদের ভুল। বাংগালকে সহজে ঠকানো যায় না। ভাগ্যিস এভাবে এসে দেখলাম! নইলে ও-বেলাই ত আবার রং-টং মাখিয়ে পেত্নীর বাচ্ছাটিকে পরীর বাচ্ছা সাজিয়ে দেখাতেন ! উঃ—বাপরে বাপ-কলকাতার লোকেরা কি জোচ্চোর—কি জোচ্চোর ”—বলিয়া গট গট করিয়া সদপে রাজা বাহির হইয়া গেলেন । পাঁচ তার পর কি হইল ? প্রমাণ হইল হিন্দী-দেব-দেবীগণ মিথ্যা নহেন, হিন্দধামও ফাঁকি নহে। সাধার এতদিনকার সকরণ আবেদনে দেব-দেবীগণ কৰ্ণপাত করিয়াছেন। বরদাবাব অবশেষে বঝিলেন, অতুল ছাড়া অন্য পাত্রে বিবাহ দিলে মেয়ে সখী হইবে না-হয়ত বাঁচবেই না। সুতরাং বিবাহে তিনি মত করিলেন। সাধার মাথে আবার হাসি দেখা দিল। দিদির দেওয়া সেই আরকের শিশিটা খালি হইয়া গিয়াছিল, আর তাহা ভত্তি করিয়া আনানোর প্রয়োজন হইল না। মলিন বণ দিনে দিনে আবার উত্তজবল হইয়া উঠিতে লাগিল। পরেব মাসে বিবাহ। সাধার দেহবণ তখন আবার পর্বে ঔজবল্য ধারণ করিয়াছে। বিবাহ হইয়া গেলে বিনয়বাব বরের কাণে কাণে বললেন,—“জয়, রসায়নের জয় !" নতেন বউ প্রথম পরিচ্ছেদ শ্রাবণ মাস, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, গড়ি গুড়ি বটি পড়িতেছে । মাধব দত্ত মহাশয় তামাকু সেবন করিতে করিতে তিনজন নিকম পল্লীবন্ধের সহিত গলপ করিতেছেন— হারাণ মনুখুয্যে রাখাল মিত্র ও কেদার চক্লবত্তী। দত্ত মহাশয়ের বয়সও পঞ্চাশের উপরে উঠিয়াছে। প্রভাতে উঠিয়া, গঙ্গাস্নান সারিয়া আহ্নিক-পজা শেষ করিয়া কিঞ্চিৎ জলযোগান্তে বৈঠকখানায় আসিয়া বসিয়াছেন। বেলা তখন প্রায় দশ ঘটিকা। পিয়ন আসিয়া তাঁহার হস্তে দইখানি খামের চিঠি দিয়া গেল-একই হসন্তাক্ষরে ঠিকানা লেখা। একখানি তাঁহার নিজের নামে, অপরখানি তাহার মধ্যমা কন্যা নিৰ্ম্মলকুমারীর নামে। হ:কা হইতে কলিকাটি খলিয়া হারাণ মঞ্চোয্যের হাতে দিয়া, চোখে চশমা লাগাইয়া দত্ত মহাশয় নিজ নামের পত্ৰখনি পাঠ করিতে লাগিলেন। পড়িতে পড়িতে তাঁহার বদনমণ্ডল প্রফুল্ল হইল, উহাতে সন্তোষ ও প্রসন্নতার চিহ্ন ফটিয়া উঠিল। পত্রপাঠ শেষ করিয়া দত্ত মহাশয় হাকিলেন, “রামা " বন্ধ রামা ভূত্য আসিলে, তাহার হাতে কন্যার নামের পত্ৰখানি দিয়া বলিলেন, “তোর মেজদিদিমণিকে দিগে যা।” হারাণ মখ ষ্যে জিজ্ঞাসা করিলেন, “কার চিঠি হে, দত্তজা ?” “কলকাতা থেকে মেজজামাই লিখেছেন—এই দেখ না।”—বলিয়া পত্ৰখানি মখয্যের হসেত দিলেন । পত্রখানির মম প্রতিবেশগণের মধ্যে প্রচারিত হয় ইহাই দত্ত মহাশয়ের অভিপ্রায় । তাহার একটা বিশেষ কারণও ছিল। দত্ত মহাশয় বড় মেয়েটির বিবাহ বেশ খরচ-পত্র করিয়া দিয়াছিলেন, কিন্তু জামাই তাদশ সুবিধাজনক হয় নাই। মেজ মেয়ে নিমালার বিবাহ দিয়াছিলেন বলিতে গেলে এক কুড়াইয়া পাওয়া যোত্রহীন পাত্রের সহিত—সে পাত্রের বয়সও তখন ৩০ বৎসরের কম হইবে না। পিতামাতা জীবিত নাই, কলিকাতায় মাতুলালয়ে মানুষ হইয়াছিল, সে মামা-মামীও পরলোকগত--ছেলেটি তখন কলিকাতায় মেসে থাকিয়া দালালী ব্যবসায়ে জীবিকাজন করে। আয় অপ, সতরাং বিবাহ করিয়া বধকে چه مb