পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৭০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


লইয়া যাইতে পারে নাই। আজ পাঁচ বৎসর বিবাহ হইয়াছে, চারি বৎসর হইল একটি কন্য। জমিয়াছে, কিন্তু এতাবৎকাল নিমালা পিতৃ-গৃহেই রহিয়াছে। ইহাতে পাড়ার লোক দত্ত মহাশয়কে ছি ছি করিত। জামাই প্রতি মাসে দুই তিন বার করিয়া আসে, দই এক দিন থাকিয়া আবার কলিকাতায় ফিরিয়া যায়। কিন্তু তাহাতে কি ? লোকে বলে সস্তায় কিসিত পাইয়া দত্ত মহাশয় চালচলাহীন এমন জামাই করিলেন যে, মেয়েটা বাপের বাড়ীতেই চিরস্থায়ী হইয়া রহিল, সবামীর ঘর করা তাহার অদস্টে ঘটিল না। নিশমলাও এ জন্য লজিত—তার মা ইদানীং মাঝে মাঝে জামাইকে ইহা লইয়া একটা গঞ্জনা দিতেও আরম্ভ করিয়াছিলেন। জামাই লিখিয়াছেন, এত দিনে কমে তাঁহার একটু উন্নতি হইয়ছে, আয়বধি হইয়াছে, একটি ছোট বাড়ীও স্থির করিয়াছেন, এখন স্বশর মহাশয়ের আদেশ পাইলে সত্রী-কন্যাকে আসিয়া লইয়া যান। মুখোপাধ্যায় মহাশয় পত্ৰখনি পড়িতে আরম্ভ করিলে দত্ত মহাশয় বলিলেন, “পড় না, হেকে হেকেই পড়।” তাঁহার ইচ্ছা, উপস্থিত অপর দুইজনেও পত্রখানি শ্রবণ করিয়া, যথাসময়ে পড়ায় এই কথা রটনা করকে । মুখোপাধ্যায় তখন পড়িতে লাগিলেন,— কলিকাতা ৯ই শ্রাবণ, ১৩৩২ সাল সংখ্যাতীত প্রণাম পুরঃসর নিবেদন, অদ্য একটি শুভসংবাদ আপনাকে দিবার জন্য এই পরখানি লিখিতেছি। আপনার শ্রীচরণাশীব্বাদে এত দিনে আমার একটু উন্নতি হইয়াছে। আমি একটি ভাল চাকরী যোগাড় করিতে পারিয়াছি। পবের দালালী ব্যবসায় পরিত্যাগ করিয়া বিগত ইংরাজী ১লা তারিখ হইতে নতন কমে বাহাল হইয়াছি। আমার বেতন আপাততঃ দেড়শত টাকা হইয়াছে। সাহেব খুব অনুগ্রহ করিতেছেন এবং বলিয়াছেন যে, কাজকম ভাল করিতে পারিলে বৎসরান্তে আমার বেতন বৃদ্ধি করিয়া দিবেন। এত দিন অর্থাভাববশতঃ আমার সন্ত্রী-কন্যার ভরণ-পোষণের কোনও ভারই আমি লইতে সমথ হই নাই। এ জন্য আমি মহাশয়ের নিকট নিতান্তই লজিত ছিলাম। এখন ঈশ্বরের কৃপায় কলিকাতায় বাসা ভাড়া করিয়া সত্রী-কন্যাকে কাছে আনিয়া রাখতে সমথ* হইয়াছি। মাসিক ৫o, টাকা ভাড়ায় শ্যামবাজারে একটি ক্ষুদ্র দ্বিতল গহও ঠিক করিয়াছি। এখন যদি মহাশয়ের অনুমতি হয় এবং প্রজনীয়া শবশ্রদেবী আপত্তি না করেন, তবে এক দিনের ছুটী লইয়া গিয়া নিমালকে লইয়া আসি। আগামী ১৭ই শ্রাবণ ইংরাজী মাসের ১লা তারিখ হইবে, ঐ দিন আমি আপিসে বেতন পাইব-ইহার পরে শ্রাবণ মাসমধ্যে একটি শুভদিন যদি সিথর করিয়া দেন, তাহা হইলেই ভাল হয় । কারণ, ভাদ্র মাস পড়িয়া গেলে, এক মাস আবার অপেক্ষা করিতে হইবে। পজনীয়া শবশ্রামাতাঠাকুরাণীকে আমার শতকোটি প্রণাম জানাইবেন এবং আপনিও জানিবেন। আমি ভাল আছি। আপনাদের আদেশের প্রতীক্ষায় রহিলাম। আমার পূবে ঠিকানাতে পত্র লিখিলেই আমি পাইব । ইতি— সেবক পাঠ শেষ করিয়া পত্ৰখানি দত্ত মহাশয়ের হস্তে ফেরত দিয়া মুখোপাধ্যায় বলিলেন, “বেশ বেশ ! ছোকরা বাহাদর আছে—দেড়শো টাকা মাইনের চাকরী বাগানো—আজকালকার বাজারে কি সোজা কথা।” রাখাল মিন্ত্র বলিলেন, “ছোকরা বেশ চালাক-চতুর, সে ত আমরা বরাবর দেখছি!” কেদার চক্রবত্তী বলিলেন, “আর, বেশ বিনয়ী। চিঠিখানি কেমন বিনয় ক’রে লিখেছে দেখ! আজিকালকার ছেলেদের মত উদ্ধত-প্রকৃত নয় । তারা হলে মনে করত, bry