পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নিজের লিগাল ওয়াইফকে নিয়ে আসবে, তার জন্যে অত দয়া ভিক্ষা, অত কাকুতিমিনতি কেন ?” মুখোপাধ্যায় বলিলেন, “বিদ্যা দৃদতি বিনয়ং--মুখ্য ত নয়, ছোকরার লেখাপড়াজ্ঞান আছে—সবংশে জন্মও বোধ হয়, হবে না কেন ?" সুবিধা পাইয়া দত্ত মহাশয় বলিলেন, “আহা, সেই জনোই তা কি ঘটনায় বিবাহ দিয়েছিলাম, সবই ত তোমরা জান। গঙ্গায় সাঁতার কাটতে গিয়ে নিন্মলা ডুবে গিয়েছিল। বসন্ত নৌকোয় যাচ্ছিল, তাই দেখে নোঁকো থেকে লাফিয়ে পড়ে নিমালীকে জল থেকে তোলে। খবর পেয়ে আমি ছুটে গেলাম, পালকী ক’রে মেয়েকে বাড়ী নিয়ে এলাম—বসন্তকেও সঙ্গে নিয়ে এলাম। ৩/৪ দিন তাকে বাড়ীতে রাখলাম, যেতে দিলাম না। দেখলাম, ছেলেটি রাপে, গণে, বিদ্যায়, বংশে, সব বিষয়েই ভাল, কেবল মাত্র দোষ—গরীব। বললে দালালী করে, মেসে থাকে, সামান্য আয়, মা-বাপ নেই, বাড়ী-ঘর নেই, তাই এত দিন আইবড়ো আছে—নইলে কুলীন কায়েথের ঘরের ত্রিশ বছরের ও রকম ছেলে কি আর অবিবাiহত থাকে গিন্নীরও ছেলেটিকে বেশ পছন্দ হয়ে গেল ; মেয়েও অরক্ষণীয়া হয়ে উঠেছিল । আমি বললাম, বেশ ত, ও যখন নিশমলার জীবন দান করেছে তখন নিৰ্ম্মলা ওৱই প্রাপ্য। হলেই বা গরীব-চিরদিন কি কারও সমান যায় ই, অমর মেয়ের ভাগ্যে ধন থাকে, জামাই ধনী হবে; যদি না থাকে, আমি মন্সত জমিদারের ছেলে এলে বিয়ে দিলেও, সে ছেলে বাপের বিষয় পেয়ে দুদিনে বরবাদ ক’রে গরীব হয়ে যেতে পারে।” মুখোপাধ্যায় বললেন, “আসল কথাই তাই । অদন্টই মািল, ও ছাড়া আর পথ নেই, যতই যিনি হকুিপাকু করন না কেন ! রাখাল মিত্র বলিলেন, “কোন আপিসে চাকরী হয়েছে, তা বাবাজী লেখেন নি । কোনও গভমেন্ট আপ্লিসে বোধ হয়। দত্ত মহাশয় বলিলেন, তা কি ক’রে হবে পয়ত্রিশ বছর বয়সে কি কেউ গভমেন্টের BBBB BB BS BBB BBBBBB BBBBBBB BBB BBB BB BBS B BBS বাবাজী এলেই জানতে পারা যাবে। মুখুয্যে ভায়া, ভাল দিন একটা স্থির করে দাও না, পাঁজিখানা নিয়ে আসি।” বলিয়া দত্ত মহাশয় উঠিয়া অন্তঃপুরে প্রবেশ করিলেন। গহিণী কন্যার প্রমুখাং সংবাদটা পর্বেই জানিতে পারিয়াছেন। কত্ত বলিলেন, “তা হ’লে একটা দিন ঠিক করে পাঠাই, কি বল ?” মেয়েকে লইয়া যায় না বলিয়া গহিণী জমাতাকে কত গঞ্জনা দিয়াছেন সত্য, কিন্তু এখন কন্যার জসিমবিরহে তাঁহার মাতৃহাদয় কাতর হইয়া উঠিল। বলিলেন, “এই পুজো আসছে--দুটো মাস পরে পাঠালে হত না হ্ল" কত্তা বলিলেন, “এখন যাক না, কিছুদিন পরে তখন মেয়ে নিয়ে এলেই হবে। আমার কলঙকভঞ্জনটা হয়ে যাক।” “আচ্ছা, যা ভাল বোঝ, তাই কর”—বলিয়া গৃহিণী পঞ্জিকা বাহির করিয়া দিলেন। মুখোপাধ্যায় মহাশয় ২১শে শ্রাবণ শুভদিন বলিয়া ধায্য করিলেন। দত্ত মহাশয় বিকালে তদনুসারে জামাতাকে পত্র লিখিয়া দিলেন। আজও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন-প্রায় সারাদিনই গাড়ি গড়ি বটি পড়িতেছে। বৈঠকখানায় তত্ত্বপোষের বিছানায় মাধব দত্ত মহাশয় বৈকালিক নিদ্রা উপভোগ করিতেছিলেন, এমন সময় দেওয়ালের ঘড়িতে ঠং ঠং করিয়া চারিটা বাজিল। সেই শব্দে দত্ত মহাশয়ের নিদ্রা ভঙ্গ হইল। চক্ষ খুলিয়া, জানালা দিয়া চাহিয়া, আকাশের অবস্থা দেখিয়া, আরও

  • bペ