পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


খানিক ঘনমাইবার লোভে তিনি পাশ ফিরিয়া শুইলেন। কিন্তু হঠাৎ মনে পড়িয়া গেল, আজ মধ্যম জামাতা বাবাজীউ সন্ধ্যার ট্রেণে আসিয়া পেপছিবেন, সতরাং রাত্রি-ভোজনের জন্য একট বিশেষ আয়োজন করা আবশ্যক। সুতরাং তিনি উঠিয়া বসিয়া, হাই তুলিয়া, তিনটি তুড়ি দিয়া হাকিলেন, “রাম, তামাক দে।” রামা ভূত্য উঠানে বসিয়া বাটী পাতিয়া ঘস-ঘস শব্দে গেরির জন্য খড় কাটিতে এই সময় দত্ত মহাশয়ের চারি বৎসর বয়স্ক দৌহিত্রী কমলা (নিম্পমালার কন্যা) নাচিতে নাচিতে সেই কক্ষে প্রবেশ করিয়া বলিল, “ও দাদ. এখনও ঘমেছ ? কখন উঠবে তুমি, বেলা যে গেল !” দত্ত মহাশয় দৌহিত্রীকে নিকটে ডাকিয়া, তাহার চিবকে হাত দিয়া বলিলেন, “হ্যাঁ রে শালী ! আমি ঘামচ্ছি কি উঠেছি, তা কি তুই দেখতে পাচ্ছিসনে ?” কমলা বলিল, “তাতো দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু দিদিমা যে বললে, বৈঠকখানায় গিয়ে তোর দাদকে বলগে, ও দাদ এখনও ঘমেনুচ্ছে, কখন উঠবে তুমি –তবে দিদিমাকে বলি গে যাই, তুমি উঠেছ ?” “আচ্ছা, বলবি এখন। বোস না একটা । আজি কে আসবে জানিস ?” “জানি। বাবা।” “বাবা আসা অবধি তুই জেগে থাকতে পারবি?” বালিকা আগ্রহভরে উত্তর করিল, “থাকতেই হবে : বাবা যে আমার জন্যে পুতুল নিয়ে আসবে মাকে লিখেছে, আমি পুতুল দেখবো না ?” রামা হকৈ হাতে জৰলন্ত কলিকায় ফ দিতে দিতে প্রবেশ করিল। দত্ত মহাশয় হকৈা লইয়া বলিলেন, “ওরে রামা, তুই একবার চট করে গঙ্গার ঘাটে যা দেখি। আজ সারা দিন ইলশেগুড়ি বটি হচ্ছে, আজ খাব ইলিশ মাছ উঠবে। জেলেরা এতক্ষণ মাছের নৌকো ঘাটে লাগাচ্ছে। কেটা, কি মতিলাল, কি রামধন—যে জেলের কাছে ভাল ইলিশ মাছ দেখবি, একটা নিয়ে আসবি । বেশ বড় দেখে একটা, আর বেশ চ্যাটালো রকম-লক্ষবা সর্বঙ্গে মাছ আনিসনে যেন, সেগুলো তেমন সোয়াদি হয় না। জেলেকে বলিস যে, আজ কত্তার জামাই আসছেন, বেশ ভাল মাছ যেন দেয়। কাল সকালে এসে দাম নিয়ে যাবে। আর হ্যাঁ-বাজারে হরিশ ময়রার দোকানে অমনি বলে যাস যে, এক সের ভাল কাঁচাগোল্লা চাই। বেশ বড় ক’রে যেন মণডা বেধে রাখে। আসবার সময় এক হাতে ইলিশ মাছ, এক হাতে সন্দেশ নিয়ে আসবি । বেশ করে ওজন দেখে নিবি, বাঝলি ?” “আজ্ঞে হ্যাঁ”—বলিয়া রামা প্রস্থান করিল। ইতিমধ্যে হারাণ মুখুয্যে প্রবেশ করিয়া, ব্রাহ্মণের হঠকাটি সংগ্ৰহ করিয়া, তক্তপোষের উপর বসিয়া ছিলেন, বলিলেন, “আজ যে রকম ইলশেগড়ি বষাচ্ছে—মাছ আজ ভালই পাবে বোধ হয়। তা, জামাই কখন এসে পৌছবেন ?” “সন্ধ্যে ৭টার গাড়ীতে। কলকাতায় থাকেন, রেলের ইলিশের মুখে-ন্যাজে দড়ি বোধে ধনুকাকার করে জেলে বেটারা যা বেচে, তাই গঙ্গার ইলিশ বলে খান ত! আসল গঙ্গার ইলিশ যে কি বস্তু, তা আজ বাবাজীকে দেখিয়ে দিই।” মখোপাধ্যায় কমলাকে আদর করিয়া বলিলেন “হ্যাঁ দিদি, তুই নাকি আমাদের ছেড়ে চললি ? তোর দাদকে দিদিমাকে ছেড়ে চলে যাবি, তোর মন কেমন করবে না ? সেখানে গিয়ে থাকতে পারবি ? বালিকা গব্বভরে বলিল, “খব পারবো!” দত্ত মহাশয় হাসিয়া বলিলেন, “শনলে হে মলখয্যে ! হ্যাঁ রে নেমখারাম, এত দিন যে আমরা তোকে বকে করে মানুষ করলাম, আমাদের ছেড়ে চলে যেতে তোর মনে bPG