পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“কি, বলুন।" “আমার মেঝ ছেলেটা—তাকে তুমি দেখেছ—গেল বছর ম্যাট্রিক ফেল করলে। কত করে বললাম, ওরে আর এক বছর পড়, আর এক বছর পড়, তা সে কিছুতেই শনলে না। সেই অবধি বাড়ীতেই বসে আছে। গাঁয়ের যত সব বওয়াটে ছেলের সঙ্গেই তার মেলামেশা। ফলেট বাজায়, থিয়েটার করে—এই সব নিয়েই আছে। তাকে যদি বাবা, সাহেবকে বলে কয়ে তোমার আপিসে একটা ছোটখাট কাজে ঢুকিয়ে নিতে পার, তবে গরীব ব্রাহ্মণের বড়ই উপকার করা হয়।”—বলিয়া মুখোপাধ্যায়, জামাতার হাত দুটি ধরিলেন । বসন্ত বিব্রত হইয়া বলিল, “আচ্ছা, আচ্ছা, কাকা ! অত করে, আমায় বলতে হবে কেন ? এখন ত আমাদের আপিসে কোনও কাজ খালি নেই-একটা খালিটালি হলেই আমি চেষ্টা করব বইকি !” মুখোপাধ্যায় হাত ছাড়িয়া বললেন, “তাই কোরো, বাবা ! দেখ, তোমার শবশরের সঙ্গে ছেলেবেলা থেকে আমার বন্ধত্ব। একসঙ্গে পাঠশালায় গিয়েছি। সেই সময় থেকে দুজনে আমরা হরিহর আত্মা বললেই হয়। তোমার উপর তোমার খবশরের যদি কোন দাবী থাকে, তবে আমারও সেই দাবী আছে জেনো।” .* বসন্ত বলিল, “আজ্ঞে, সে ত ঠিক।” তাহার পর অন্যান্য কথাবাৰ্ত্তা চলিতে লাগিল। কোথায় বাড়ী ভাড়া লইয়াছে, কিরূপ বাড়ী, আপিস হইতে কত দর—ইত্যাদি। রুমে রাত্রি অধিক হয় দেখিয়া মুখোপাধ্যায় বিদায় গ্রহণ করিলেন। বসন্তকে তাহার শবশ্রষ্ঠাকুরাণী ডাকিয়া পাঠাইলেন সে অন্তঃপারমধ্যে প্রবেশ করিল। পরদিন বসন্ত উঠিয়া, মখহাত ধাইয়া চা পান করিতেছে, এমন সময় তাহার পর শত্নীঠাকুরাণী আসিয়া, আধঘোমটা দিয়া নিকটে দড়িাইয়া বলিলেন, “হ্যাঁ বাবা, নিন্মলের কাছে একটা কথা শুনে যে আমার বড় ভাবনা হচ্ছে!” বসন্ত কহিল, “কি কথা, মা ?” “তোমার আপিস নাকি রাত্তিরে ?” “হ্যাঁ মা, তাই বটে। সকালবেলা আমাদের খবরের কাগজ বেরোয় কিনা, তাই রাত ১টা ১০টার সময় আমায় আপিসে যেতে হয়, সারা রাত সেখানে থাকতে হয়। আবার, দিনের বেলাও ২৪ ঘণ্টার জন্যে গিয়ে একটু দেখাশুনো করে আসতে হয়।” “তবেই ত ! বড়ই যে ভাবনার কথা হ’ল, বাবা ! তুমি নাকি নিন্মলাকে বলেছ যে, দিন-রাত থাকবার জন্যে একটা ঝি ঠিক করে রেখেছি, সেই তোমায় রাত্রে আগলাবে, তোমার ভয় কি ? কিন্তু নিৰ্ম্মল যে মোটেই সাহস পাচ্ছে না বাবা : বিদেশ-বিভুঁই, তায় ছেলেমানষে, সারা রাত বাড়ীতে একটা পরষমানুষ থাকবে না, অসুখ-বিসুখ আছে, দায়-বিপদ আছে, আপিস থেকে তোমায় যদি ডেকে আনতে হয় ত কে যাবে বল দেখি ? uBB B BBB BB BB BBBS BBBB BBB BBB BBB BBBB BBBB BBBD S বসন্ত বলিল, “সে জন্যে কোনও ভাবনা নেই, মা ! আমি যে বাড়ীটা নিয়েছি, সেটা একটা বড় বাড়ীর অধিখানা অংশ । এক অংশে বাড়ীওয়ালা সপরিবারে বাস করেন, এক অংশ ভাড়া দিয়েছেন। অবশ্য দুই অংশই আলাদা—আলাদা সদর দরজা, কল, পাইখানা সবই আলাদা। দ্য বড়ীর একতলায় দোতলায় মাঝের দরজা জানালা আছে। সেই দরজা খুললেই দ্য বাড়ীর মেয়েদের সবচ্ছন্দে যাতায়াত চলতে পারে। বাড়ীওয়ালা বাবটির প্রবীণ বয়স, অতি ভদ্রলোক। তিনি আমায় বলেছেন, কোনও ভাবনা নেই তোমার, আমরা রয়েছি, দেখবো শনৈবো-যখন যা দরকার ।” এই সময় দত্ত মহাশয় আসিয়া সেখানে দাঁড়াইলেন। বলিলেন, “বাবা বসন্ত, এক কাজ কর তুমি। দিনরাত্রির ঝি রেখেছ, বেশ সে-ও থাক। রামাকেও তুমি সঙ্গে নিম্নে brQ