পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাণের দায়ে নাথ মণ্ডল যথাদিকট কাষ" করিল। তাহার পর নগেন্দ্র তাহাকে ধরিয়া ধাক্কা দিয়া পথে নামাইয়া দিল। সে ব্যক্তি খেড়িাইতে খেড়িাইতে কাতরাইতে কাতরাইতে অদশ্য হইল। তিনজনে তখন মন্দিরে দাঁড়াইয়া মহা হাসি। নগেন্দ্র গাত্রের ধলা ঝাড়িয়া কাদি সসন্বত করিয়া লইল। চারিটা বাজিয়া গিয়াছে, গন্তব্য পথাভিমুখে সকলে অগ্রসর शेन । 玄 তৃতীয় পরিচ্ছেদ অপরাহুকাল। চারর শ্বশুরবাড়ীতে, রান্নাঘরের রকে বসিয়া বড়বধ একখানি আধুনিক উপন্যাস পাঠে ব্যাপাত আছেন । গহিণী (চারুর শবশ্রা) এবং একপাল মেয়ে তাহা শ্রবণতৎপর। - গৃহিণী বলিলেন—“বউমা, আর না, বেলা গেল-আজ বই বন্ধ কর।” নবীনারা বলিল—“তাও কি হয় ?—আগে সবালার সঙ্গে শবৎকুমারের বিয়েটা হোক ৷” গহিণী বললেন—“তবে তোমরা বিয়ে দাও বাছা, আমি উঠি।" এই সময়ে সদর দরজার বাহিরে শব্দ শ্রত হইল—“জয় রাধে।” বড়বউ তাঁহার ছোট মেয়ে সশৗলাকে বলিলেন,—“দেখ, ত দেখ, ত কে ?” সুশীলা উদ্ধশবসে ছটিল। সদর দরজাকে আড়াল করিয়া একটুখানি ইটেকের প্রাচীর । সুশীলা প্রাচীরের সীমান্তে দাঁড়াইয়া উকি মারিয়া বাহিরে দেখিল । পরক্ষণেই পলকহস্যের সহিত চীৎকার করিয়া বলিল—“ওমা বোটমি মা—গান গাইতে এসেছে মা ।” তাহার মা শবশ্রীর প্রতি চাহিলেন। তিনি সম্মতিসচক শিরশচালনা করিলেন। বড়বউ মেয়েকে ইসারা করিয়া বলিলেন--"ডাক ডাক ৷” সুশীলা বৈষ্ণবীগণকে লইয়া আসিল। বৈষ্ণবীগণের বেশবিন্যাস, ধরণধারণ ও উত্তজবল প্রদীপ্ত চক্ষ দেখিয়া রমণীমণ্ডলীর সনে একটা সম্প্রমের ভাব উদয় হইল। অরক্ষিত অভুক্ত প্রভূবিহীন দেশী বিড়ালের সঙ্গে সযত্নপালিত শত্রকান্তি অাদরের বিলাতী বিড়ালের যে প্রকার বিভিন্নতা, সচরাচর দলট বৈষ্ণবী ভিক্ষকের সঙ্গে ইহাদের সেই প্রকার বিভিন্নতা অনুভূত হইল। বৈষ্ণবীরা বারান্দায় উঠিয়া দাঁড়াইল। কোথায় বসিবে ? ভূমিতে বসিতে তাহারা ইতস্ততঃ করিতে লাগিল। তাহ দেখিয়া গহিণী একজনকে বলিলেন—“একখানা কবল এনে দে !” - বৈষ্ণবীরা কমবুলের উপর উপবেশন করিল। চার বৃদ্ধি করিয়া দুইজনের পশ্চাতে একটু আড়ালে বসিল। - নগেন্দ্র খঞ্জনীতে একটু আওয়াজ দিল। জিজ্ঞাসা করিল—“কি শুনবেন ?” কেহ “গোবিন্দ অধিকারী” কেহ “গোপাল উড়ে” কেহ “দাশরায়” ফরমাস করিল না। হয়ে ! এখনকার মেয়েরা এ সকলের আসবাদন কি জানিবে ? গহিণী বাল্যকালে এ সকল শনিয়াছেন বটে, কিন্তু তিনিও কুসঙ্গে পড়িয়া তৎসমৃদয় বিসর্জন দিয়া বসিয়া আছেন। তাহার প্রকৃষ্ট প্রমাণ এই যে, কিয়ৎক্ষণ পাবেই এই সভায় রামায়ণ কিংবা মহাভারতের পরিবত্তে প্রণয়প্রাণ উপন্যাস পাঠ চলিতেছিল। রামায়ণ মহাভারতাদির অপেক্ষা আধুনিক নাটক নভেলই গাহিণীর বিশেষ রুচিকর লাগিত। যদিও তিনি তাহা মুখে কখনও স্বীকার করতেন না, তথাপি তাঁহার কন্যারা পত্রবধরা ইহা জানিত। ৩াহ তাহারা তাঁহার মৌখিক অনিচ্ছার বিরুদ্ধে আব্দার করিয়া তাঁহাকে ধরিয়া আনিত। তিনি সারাক্ষণ আগ্রহের সহিত কাণ খাড়া করিয়া সমস্ত শুনিতেন। কিন্তু শেষ হইলে বলতেন—“কি সব বাপ ! ঠাকুর দেবতাদের কথা নয় কিছু নয় !" У о о